সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: বন দপ্তরের কড়া নজরদারিতে গোপনে শিকার করলেন শিকারিরা। হল সেই মাংসে ভূরিভোজও! তাদের তির-বল্লমের খোঁচায় শেষমেশ পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে বেঘোরে প্রাণ গেল ন’টি বুনোশুয়োর, দুটি খরগোশ ও দুটি সাপের। তবে হরিণ শিকারের খবর এলেও তা চোখে দেখা যায়নি। স্বীকার করেনি বন দপ্তরও। লালগড়ের বাগঘরার জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গলের মৃত্যুর পর বন দপ্তর যেভাবে নড়েচড়ে বসে তাতে রবিবার বুদ্ধপূর্ণিমায় অযোধ্যা পাহাড়ের শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রোধ করতে যে প্রচার চালায় তাতে অনেকটাই সফল তারা। এবার শিকার উৎসবে বন দপ্তরের পুরুলিয়া বিভাগের স্লোগানই ছিল, ‘শিকার নয়, উৎসবে মাতুন’। আর সেই স্লোগানে যে শিকারিরা সাড়া দিয়েছেন তা বোঝাই যাচ্ছে। অন্যান্যবার যে সংখ্যায় শিকারিরা আসেন এবার তা দেখা যায়নি। বলা যায় বন দপ্তরের নরমে–গরমে প্রচারে বন্যপ্রাণ হত্যা অনেকটাই রোধ করা গেল। তাছাড়া বন দপ্তরের সঙ্গে পুলিশও ছিল নজরদারিতে। তারাও বন দপ্তরের মত সমান তালে জঙ্গল চষে বেড়ান। সবে মিলিয়ে বন দপ্তর ও পুলিশ প্রশাসনের চেষ্টায় অনেকটাই শিকার আটকানো গিয়েছে বলে দপ্তরের দাবি।

[শিকার উৎসবে বন্যপ্রাণ হত্যা রুখতে পুরুলিয়ায় বনকর্মীদের সঙ্গে অভিযানে পুলিশও]
এই শিকার উৎসব চিরাচরিতভাবে বুদ্ধপূর্ণিমায় হয়ে আসছে। বেশ কিছু শিকারি অযোধ্যার গহন জঙ্গল থেকে শিকার না পেয়ে ফেরত আসায় তাদের হতাশা ভেসে আসে কিঁদরির সুরে। তবে রবিবার রাতেও বেশ কিছু শিকারির দল অযোধ্যা বনাঞ্চলে ঢুকেছে। রবিবার সন্ধ্যায় পুরুলিয়া বিভাগের ডিএফও রামপ্রসাদ বদানা বলেন, “এই উৎসবকে ঘিরে আমাদের ধারাবাহিক সচেতনতায় ব্যাপক কাজ হয়েছে। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া কোনও শিকার হয়নি। আমাদের নজরদারি ও প্রচার চলছে।” বুদ্ধপূর্ণিমায় এই পাহাড়ে শিকার উৎসব হলে এর রেশ ছুঁয়ে যায় আরও একদিন। ফলে পাহাড় জুড়ে সতর্ক বন দপ্তর ও পুলিশ। এদিন সকাল ছ’টা নাগাদ অযোধ্যা হিলটপে পৌঁছতেই দেখা যায় পর্যটকের ভিড়। পাহাড়ের কালো পিচ রাস্তা ধরে বন দপ্তরের গাড়ি। সেই গাড়ি থেকে বন্যপ্রাণ বাঁচানোর বার্তায় চলছে মাইকিং। সেইসঙ্গে প্রচারপত্র বিলি। তাছাড়া গত শনিবার বিকেলেই বাঘমুন্ডির আপার ড্যাম, লোয়ার ড্যাম এলাকায় একাধিক শিকারির জাল-সহ নানান অস্ত্রশস্ত্র বাজেয়াপ্ত হয়। ফলে এদিন বেশ কিছু শিকারি পাহাড়ে পা রাখলেও জঙ্গলে যাননি।

[রয়াল বেঙ্গলের মৃত্যুতে প্রশ্নের মুখে আদিবাসী শিকারিরা, সরব প্রকৃতিপ্রেমীরা]
তবে পুলিশ ও বন দপ্তর পাহাড়ের বিভিন্ন রাস্তায় ও জঙ্গলে টহল দিলেও শিকারিরা শিকার করে যে গড়ের মাঠে হাজির হয় এদিন সেখানে বন দপ্তর বা পুলিশকে দেখা যায়নি। ফলে গোপনে শিকার করে এসে সেখানেই চলে খাওয়া-দাওয়া। তবে ফি বছর শিকারিরা শিকার করে যেভাবে উল্লসিত হয়ে ছবি তুলতে দেয় এদিন তা দেখা যায়নি। বরং শিকার করা বুনোশুয়োরকে পাতা দিয়ে ঢেকে দেয় তাঁরা। এদিন পাহাড়ের একাধিক জঙ্গল চষে দেখা যায় অযোধ্যা পাহাড়ের একটি দল পাঁচটি বন্যশূকর ও পাহাড়তলির আরও দুটি দল দুটি করে মোট চারটি শূকর শিকার করে। তা ধরাও পড়ে ছবিতে। সেইসঙ্গে দুটি সাপ ও দুটি খরগোশও হত্যা করে শিকারির দল। এছাড়া রটে যায় কচুরিরাখা এলাকায় একটি শিকারির দল হরিণ শিকার করে নিয়ে এসেছে। কিন্তু তা শেষমেশ দেখা যায়নি। সবে মিলিয়ে এইবারের শিকার উৎসবকে ঘিরে খানিকটা স্বস্তিতে বন দপ্তর।
ছবি- অমিত সিং দেও
সর্বশেষ খবর
-
‘মুক্তোমনা হও তবে…’, কেতন হত্যাকাণ্ডের পর তরুণপ্রজন্মকে সতর্কবাণী কঙ্গনার
-
‘চূড়ান্ত হতাশ’, চিরতরে বিশ্বকাপ দেখা বন্ধ করছেন দেবের নায়িকা ইধিকা!
-
ঘরে ফিরে নবজাতকের মুখদর্শন, যন্ত্রণায় প্রলেপ বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ হওয়া দানিশের, কী বলছেন সুইটি?
-
কাল থেকে টানা ৬০ ঘণ্টা বন্ধ চিংড়িঘাটা উড়ালপুল! আচমকা কেন এমন নির্দেশিকা কলকাতা পুলিশের?
-
আইসিসি হল অফ ফেমে সৌরভ, ‘পার্টনার’কে আবেগঘন বার্তা শচীনের