Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
Saktigarh

যুদ্ধে হারাচ্ছে মিষ্টির স্বাদ! জ্বালানি কোপে বন্ধের মুখে বর্ধমানের বিখ্যাত ল্যাংচা হাব

বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবারের পর থেকে ল্যাংচা নতুন করে বানানো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

Advertisement
অর্ক দে
অর্ক দে

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১৫:২৬

link
অর্ক দে
অর্ক দে

শেষ আপডেট: মার্চ ১৩, ২০২৬, ১৫:২৬

options
link
যুদ্ধে হারাচ্ছে মিষ্টির স্বাদ! জ্বালানি কোপে বন্ধের মুখে বর্ধমানের বিখ্যাত ল্যাংচা হাব zoom
জ্বালানি সংকটে বন্ধের মুখে শক্তিগড়ের ল্যাংচা হাব।

সীতাভোগ-মিহিদানার রপ্তানি বন্ধ। বন্ধের মুখে মিষ্টান্ন শিল্প। এবার যুদ্ধ আঁচে পুড়তে চলেছে শক্তিগড়ের ‘ল্যাংচা হাব’। গ্যাস সংকটের (LPG Crisis) কারণে বন্ধের মুখে শক্তিগড়ের (Saktigarh) ল্যাংচা ব্যবসা। এবার বাণিজ্যিক গ্যাসের কোপে পড়তে চলেছে শতাধিক ল্যাংচা ব্যবসায়ীর মাথায় হাত পড়েছে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে। যাঁদের গ্যাস মজুত রয়েছে তাঁরা খুব বেশি হলে শুক্রবার পর্যন্ত ব্যবসা চালাতে পারবেন। তবে বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবারের পর থেকে নতুন করে উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

পূর্ব বর্ধমানে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দুই ধারে সারি সারি ল্যাংচার দোকান। যাতায়াতের পথে অধিকাংশ ছোট গাড়ি, দূরপাল্লার বাস সেখানে থামবেই। কেউ বসে ল্যাংচার রসাস্বাদন করেন। কেউ বাড়ির জন্য কিনে নিয়ে যান। দোকানগুলির সামনে দাঁড় করানো গাড়ির সারি আর মানুষের ভিড় বুঝিয়ে দেয় বিখ্যাত ল্যাংচা বিক্রির বহর। কিন্তু ল্যাংচা তৈরির জন্য মজুত করা কাঁচামাল নিয়েও সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। কাঁচামাল দীর্ঘদিন রেখে দেওয়া যাবে না। গ্যাসের সংকট যদি কয়েকদিনের মধ্যে না মেটে তাহলে, সমস্ত কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

Advertisement

শক্তিগড় এলাকায় রয়েছে প্রায় ১৩০টি ল্যাংচার দোকান। দৈনিক কোটি টাকার ব্যবসা হয় এই এলাকায়। ছোট-বড় অনেক দোকান এই ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, বর্ধমানের শক্তিগড়ে ল্যাংচা ব্যবসায় সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৩৫০০ মানুষ। সেখানে মিষ্টি তৈরির কারিগর, দোকানের কর্মী, কাঁচামাল সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। গ্যাসের সংকটের ফলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে তড়িঘড়ি সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছেন না কেউই। এর ফলে অনেক ছোট ব্যবসায়ী ধাক্কা সামলাতে না পেরে স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন। লোকসানের মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা।

ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কোভিডের সময় বড় ধাক্কা সামলেছেন তাঁরা। এখন জ্বালানির কারণে এবার লোকসানের মুখে পড়েছে ল্যাংচা ব্যবসায়ীরা। এলাকার ল্যাংচা ব্যবসায়ী শেখ আলি হোসেন বলেন, “বাণিজ্যিক গ্যাসের সিলিন্ডার যাঁরা সরবরাহ করতেন তাঁরা বুধবার থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। কিছু ব্যবসায়ী নিজের তাগিদে সিলিন্ডার সংগ্রহ করে কাজ চালু রেখেছেন। এর ফলে, নতুন করে মিষ্টি তৈরি করা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দোকানে যে পরিমাণ মজুত রয়েছে তার উপরেই ভরসা করে ব্যবসা চালু রাখা
হয়েছে। এই সঙ্কট চলতে থাকলে শনিবার থেকে শক্তিগড়ের অধিকাংশ ল্যাংচা দোকান বন্ধ রাখতে হবে।”

ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক বাবু মণ্ডল বলেন, “গ্যাসের জ্বালানির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বা কাঠের বয়লার ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ যে পরিমাণ ল্যাংচা তৈরি হয় তাতে এই ধরনের জ্বালানি ব্যবহার করা সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এছাড়া আগের মতো পরিকাঠামো নেই দোকান গুলির। গ্যাসের সিলিন্ডারের সঙ্কট না মিটলে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এই পরিস্থিতে অনেকেই ডোমেস্টিক গ্যাস ব্যবহার করছেন। সংগঠনের তরফে তাদের নিয়ম না মেনে ডোমেস্টিক সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করতে বলা হয়েছে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.