সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: শ্রমিক স্পেশ্যালে সন্তানের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে এবার পুরুলিয়ার সাংসদের বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন মৃত শিশুর বাবা-মা ও পরিজনরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন পুরুলিয়ার বিজেপি সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। পরবর্তীতে কার্যত বাধ্য হয়ে মৃত খুদের বাবার সঙ্গে দেখা করেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো (Jyotirmoy Singh Mahato)।
ঘটনার সূত্রপাত ৮ জুন। ওইদিনই পুরুলিয়া (Purulia) ফেরার জন্য স্ত্রী ও ১৮ দিনের সন্তানকে নিয়ে কেরল থেকে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে উঠেছিলেন দিলদার আনসারি। মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল খুদে। অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার সাহায্যের আরজি জানিয়েও কোনও সুফল পাননি ওই শিশুর বাবা-মা। কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে খুদে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু ঘটনার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সহযোগিতা তো দূর-অস্ত, মৃতের পরিজনদের সঙ্গে দেখাও করেননি পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো।
[আরও পড়ুন: বাগনান কাণ্ডে মৃতার দেহ ঘরে ফিরতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন আত্মীয়রা, ভাঙচুর অভিযুক্তের বাড়িতে]
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্তানের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে বিজেপি সাংসদের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে মৃতের পরিবার। কেন সাংসদের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। ঘটনার জেরে পুরুলিয়া সদরের রাঁচি রোডে সাংসদের বাড়ির এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিজেপির সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ লঘু করতে তিনি বলেন, “সাংসদ হয়তো যাননি। আপনারা পারতেন চিঠির মাধ্যমে তাঁকে গোটা বিষয়টা জানাতে।” তার এই মন্তব্যেই বাড়ে ক্ষোভ। পরে চাপে পড়ে স্বীকার করে নেন যে, সাংসদের এহেন আচরণ করা উচিত হয়নি। পরবর্তীতে অবস্থা বেগতিক বুঝে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাংদা মৃত শিশুর বাবা দিলদার আনসারির সঙ্গে সাক্ষাত করান সাংসদের। এরপরই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

এ প্রসঙ্গে দিলদার আনসারি বলেন, “আমরা ঘটনার বিচার চাই। সাংসদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন রেলকে লিখিতভাবে এবিষয়ে অভিযোগ করতে হবে।” সাংসদের কথায়, “প্রতিনিয়ত অনেক ধরনের ঘটনাই ঘটে। সকলের বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠে না সময়ের অভাবে।”এ দিনের ঘটনার পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই দাবি বিজেপি নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর। তাঁর কথায়, “এভাবে ধরনায় বসা পুরুলিয়ার সংস্কৃতি নয়। শাসকদল ইচ্ছাকৃত মানুষকে খেপিয়ে তুলছে।” পালটা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ এখন বুঝতে পারছে বিজেপিকে ভোট দিয়ে কী ভুল করেছে। তাই পথে নামছে।
দেখুন ভিডিও:
ছবি: সুনীতা সিং
[আরও পড়ুন: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সুখবর, জুলাইয়ের গোড়াতেই দার্জিলিংয়ে খুলছে হোটেল, হোম স্টে]
সর্বশেষ খবর
-
গোল সেলিব্রেশনে লাফ দিয়ে সোজা টানেলে, চোট পেয়ে জানলেন গোল বাতিল! ভিডিও ভাইরাল
-
কলকাতার রাজপথে ‘হর ঘর তেরঙ্গা’ যাত্রায় জাতীয় পতাকা হাতে মুখ্যমন্ত্রী, শামিল হাজার হাজার মানুষ
-
বালোচিস্তানে হামলা পাক সেনার! কোয়েত্তায় পুলিশের হাত থেকেই অস্ত্র ছিনিয়ে নিল বিদ্রোহীরা
-
রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’, কোন যুক্তিতে অপরিবর্তনীয়?
-
নন্দীগ্রামে গা ঢাকা দিয়েও হল না শেষরক্ষা, দিল্লি এসটিএফের জালে কুখ্যাত ‘অপরাধী’ ওয়াসিম