ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর হাতে রয়েছে জেলায় দলের ব্যাটন৷ লোকসভা নির্বাচনে ওই জেলার ভোট বৈতরণী পার করতে তথা প্রিয় ‘বালু’র উপরই ভরসা রেখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু তৃণমূলেরই একাংশের মতে, হতাশ করেছেন তিনি৷ ফলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কোপের মুখে পড়লেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ শুক্রবার দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে, ডানা ছাঁটা হল তাঁর৷ দায়িত্ব কমানো হল রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রীর৷
[ আরও পড়ুন: শুশ্রূষার বদলে বৃদ্ধাকে মারধর! সিসিটিভিতে ধরা পড়ল নার্সের নির্মমতা]
জানা গিয়েছে, জেলা সভাপতি হিসাবে নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার পাঁচ লোকসভা আসনেরই দায়িত্বে ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ কিন্তু পাঁচটির মধ্যে দু’টি আসন হাতছাড়া হয়েছে শাসকদলের৷ বসিরহাট, দমদম, বারাসতে তৃণমূল জয় পেলেও৷ শাসকদলকে খোয়াতে হয়েছে বারাকপুর ও বনগাঁর মতো আসন৷ সেই কারণেই শুক্রবার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দায়িত্ব কমানো হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রকে খবর৷
এদিন পাঁচ লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে দলের ৫ জন শীর্ষ নেতাকে৷ দমদম লোকসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরানগরের বিধায়ক তাপস রায়কে৷ বারাকপুরের দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষকে৷ বারাসাতের দায়িত্ব পেয়েছেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ৷ বনগাঁর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গাইঘাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গোবিন্দ দাসকে৷ এবং বসিরহাটের দায়িত্ব পেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি কৃষ্ণগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এই পাঁচ লোকসভা কেন্দ্রের আওতায় রয়েছে ৩৫টি বিধানসভা কেন্দ্র৷ এই সবকটি বিধানসভারও দেখভাল করবেন এই পাঁচ নেতা৷ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এই বিধানসভাগুলির যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা৷ একক সিদ্ধান্তে কোনও কাজ পরিচালনা করতে পারবেন না জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক৷ এই পাঁচ নেতার সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে৷
[ আরও পড়ুন: ভোররাতে বঙ্কিম সেতুতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে খুন, চাঞ্চল্য হাওড়ায় ]
প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই উত্তর ২৪ পরগনার একের পর এক বিধায়ক যোগ দিয়েছে গেরুয়া শিবিরে৷ দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়৷ দল ছেড়েছেন নোয়াপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা অর্জুন সিংয়ের ভগ্নীপতি সুনীল সিং এবং বনগাঁ উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস৷ এখানেই শেষ নয়, ভাঙন ধরেছে শাসকদলের দখলে থাকা একের পর এক পুরসভাতেও৷ বিধায়কদের সঙ্গে দিল্লি গিয়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বহু পুরসভার কাউন্সিলর৷ শাকদলের হাত থেকে ইতিমধ্যে বিজেপি দখল নিয়েছে ভাটপাড়া, গাড়ুলিয়া, নোয়াপাড়া, হালিশহর, কাঁচড়াপাড়া, বনগাঁ পুরসভা৷ ফলে নিজের গড়েই জমি হারাতে শুরু করেছে শাসকদল৷ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সমস্ত ব্যর্থতারই কোপ পড়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের উপর৷ ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে যাতে এসবের কোনও প্রভাব না পড়ে, সেকথা মাথায় রেখে তাঁর ডানা ছেঁটেছে শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্ব৷
সর্বশেষ খবর
-
বদলে যাবে সোদপুর ও খড়দহ স্টেশনের নাম! রেলমন্ত্রকে প্রস্তাব মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তীর
-
অধিনায়কত্ব খোয়াচ্ছেন সূর্যকুমার, ভারতের নতুন টি-২০ অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার!
-
এই ৬ আন্তর্জাতিক গন্তব্যে স্থগিত ইন্ডিগোর বিমান পরিষেবা! বড় সিদ্ধান্ত দেশের বৃহত্তম উড়ান সংস্থার
-
প্রয়াত ‘সংবাদ প্রতিদিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রধান কার্যনির্বাহী কর্তা নারায়ণ বসু
-
শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বরূপ বিশ্বাস, ডিম হাতে থানা ঘেরাও ক্রুদ্ধ জনতার