রিন্টু ব্রহ্ম, কালনা: বিবাহবিচ্ছেদের পর মায়ের সঙ্গে চলে গিয়েছে ছেলে। থাকে মামার বাড়িতে। কাজের সূত্রে বাবা চলে গিয়েছেন কেরল। তাই দীর্ঘদিন দেখা নেই পিতা-পুত্রের। হঠাৎই একদিন ফোন করল ১৪ বছরের ছেলে। ভিন রাজ্যে কর্মরত বাবার কাছে থেকে পড়াশোনার প্রয়োজনে কয়েক হাজার টাকা চাইল সে। পুত্রস্নেহে অন্ধ পিতা কোনওকিছু না ভেবেই টাকা পাঠিয়ে দিলেন ছেলের কাছে। কিন্তু এর মধ্যেই যে গভীর ষড়যন্ত্রের জাল বোনা ছিল তা হয়তো তিনি আন্দাজও করতে পারেননি।
আসলে, ফোনে নকল ছেলে সেজে ভিন রাজ্যে কর্মরত বাবার কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা আত্মসাৎ করছিল কয়েকজন প্রতিবেশী যুবক। প্রতারণা চক্রের ফাঁদে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা টাকা পাঠাতেও থাকে অন্যজনের কাছে। বর্ধমানের পূর্বস্থলীর মুরশেদ শেখ দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে প্রতারিত হচ্ছিলেন। তাঁর ছেলে আরশাদের নাম নিয়ে তাঁকে ফোন করে টাকা আত্মসাৎ করছিল প্রতিবেশী যুবক জামাল শেখ। কিন্তু গোল বাঁধল মুরশেদ ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইতেই। বারবার ছেলে আরশাদের সঙ্গে দেখা করতে চাপ দিচ্ছিলেন বাবা। আর তাতেই সব জারিজুরি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয় পায় নকল ছেলে জামাল। প্রতারণা চক্রের কথা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে সে খুনই করে বসে আসল ছেলে আরশাদকে। ১৪ বছরের ওই কিশোরের খুনের তদন্ত করতে গিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে পুলিশের হাতে। মঙ্গলবার অভিযুক্তকে কালনা আদালতে পাঠানো হলে বিচারক ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
[চন্দ্রকোণায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, বাস ও লরির সংঘর্ষে মৃত অন্তত ১৫]
পুলিশ জানিয়েছে, আরশাদ শেখ(১৪) নামে ওই কিশোর তার মামারবাড়ি পুর্বস্থলীর বাবুইডাঙা গ্রামেই থাকত। ছোট থাকতেই ওর মা ও বাবার বিচ্ছেদ হয়। তার কিছু বছর পরেই রেলের ধাক্কায় আরশাদের মায়ের মৃত্যু হয়। তারপর থেকে আর কখনও বাবার সঙ্গে কোনও যোগাযোগ হয়নি আরশাদের। ভাল ছেলে হিসাবেই এলাকায় পরিচিতি ছিল ওই কিশোরের। কিন্তু আরশাদের অজান্তেই শুরু হয় তাঁর বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। পুলিশ জানিয়েছে, আরশাদের বাবা মুরশেদ কর্মসূত্রে কেরলে থাকতেন। অন্যদিকে কিশোরের প্রতিবেশী বাবুইডাঙা এলাকার এক যুবকও কেরলে কাজে যায়। সেখান মুরশেদের ছেলে আরশাদের খবর নিতে থাকে সহকর্মীর মাধ্যমে। এমনকী, সম্পর্কের টানে আরশাদের সঙ্গে কথাও বলতে চায় মুরশেদ। তখনই ওই মধ্যস্থতাকারীরা ষড়যন্ত্র করে ছেলে সেজে টাকা হাতানোর পরিকল্পনা করে। স্থানীয় যুবক জামাল শেখই নিজেকে আরশাদ পরিচিয় দিয়ে মুরশেদের সঙ্গে কথা বলতে থাকে। পড়াশোনা ও নানা খরচের প্রয়োজনে টাকা পয়সাও দাবি করতে থাকে। কিছু না ভেবেই মুরশেদ শেখ কয়েকবার কয়েকহাজার টাকা পাঠায়। যা আত্মসাৎ করে জামাল ও আরও কয়েকজন। এরপর বাবা ছেলের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানালেই তাঁকে খুন করা হয়। এক দিন নিখোঁজ থাকার পর একটি মাঠ থেকে আরশাদের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। প্রায় ২০ দিন ধরে তদন্ত করার পর পুলিশ জামালকে গ্রেপ্তার করে ।
[আকাশছোঁয়া দাম গোলাপের, যিশুকে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল নিয়ে ভিড় বর্ধমানের চার্চগুলিতে]
সর্বশেষ খবর
-
এবার কেকেআরের ক্যাপ্টেন হার্দিক? দলবদলের আবহে তুঙ্গে জল্পনা
-
প্রত্যাবর্তনের রোনাল্ডোয় পাঁচতারা পর্তুগাল, উজবেকিস্তানকে গুঁড়িয়ে এল বিশ্বকাপের প্রথম জয়
-
মহরমের শোভাযাত্রায় অস্ত্র প্রদর্শনে ‘না’! নিয়ন্ত্রণে তাজিয়ার উচ্চতাও, প্রত্যেক থানাকে নির্দেশ লালবাজারের
-
টাকির বিতর্কিত হোটেল ভাঙার নির্দেশ হাই কোর্টের, কবে শুরু কাজ?
-
থাকবে সাংস্কৃতিক মঞ্চ, ফুড কোর্ট! পুজোর আগেই শেষ হবে কুমোরটুলির ঘাট সংস্কারের কাজ