লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে জড়িয়েছে ছেলের নাম! এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার ছেলে তদন্তকারীদের ধারাবাহিক জেরার মুখোমুখি। কিন্তু ছেলের সঙ্গে জঙ্গির যোগ রয়েছে, এই কথা মানতে চাইছেন না মা। স্বামীর গ্রেপ্তার হওয়ার কথা জানার পরেই হাউহাউ করে কেঁদে চলেছেন উমর ফারুকের স্ত্রী। জঙ্গি সন্দেহে ধৃত উমরের বাড়ি মালদহের (Malda) মানিকচকে। ছেলে এমন কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে না, দাবি করছে পরিবার। প্রতিবেশীরাও এই কথা জানতে পেরে যারপরনাই হতবাক হয়েছেন।
বাংলাদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছিল সদ্য ধরা পড়া জঙ্গি মডিউলটি। তাতে জড়িয়ে ছিল পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবাও। তারা ভারতে বড়সড় হামলার ছক কষেছিল। বাংলা এবং তামিলনাড়ু, এই দুই রাজ্য থেকে আটজন সন্দেহভাজন দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এমনই তথ্য উঠেছে এসেছে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রে দাবি, ধৃতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক।তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৭ এবং ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লি এবং কলকাতায় বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে ‘ফ্রি কাশ্মীর’, ‘কাশ্মীরে গণহত্যা বন্ধ হোক’ জাতীয় স্লোগান তুলে যে বিক্ষোভ হয়েছিল, তা থেকেই প্রাথমিক সূত্র মেলে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিই দিল্লি পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করে। পশ্চিমবঙ্গের উমর ফারুক এবং রবিউল ইসলাম নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
কলকাতায় কাজ করে প্রতি মাসে বাড়িতে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা উমর পাঠাতেন। মায়ের দাবি, বড় ছেলে শান্ত স্বভাবের। বরাবরই নিচু গলায় সকলের সঙ্গে কথা বলে। ছেলে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারে না, ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে।
উমর ফারুকের বাড়ি মালদহের মানিকচকে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি কলকাতায় কর্মসূত্রে থাকছিলেন বলে খবর। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, উমর নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। রাজমিস্ত্রিদের হেল্পার হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন। মালদহ জেলার মানিকচক থানার অন্তর্গত গঙ্গা নদীর তীরবর্তী গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অশিনটোলা গ্রামের বাসিন্দা উমর ফারুক। জানা গিয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ওই যুবক দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কলকাতায় শ্রমিকের কাজ করছিলেন।
মা ও স্ত্রী জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে উমরের সঙ্গে কথা হত প্রায় নিয়মিত। রমজান মাসে তাঁর গ্রামের বাড়িতে ফেরার কথাও ছিল। কিন্তু তার মধ্যেই জঙ্গি সন্দেহে তাঁর গ্রেপ্তারির কথা জানতে পেরেছে পরিবার। এরপর কী হবে? সেই ভেবেই আতঙ্কে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে ওই পরিবারের। জানা গিয়েছে, জানা গিয়েছে, উমর ফারুকের বাবা একসময় ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। উমর বড় ছেলে, তাঁর ছোটভাই এলাকায় টোটো চালান। গত দু’মাস আগেই মালদহের বাড়িতে এসেছিলেন উমর।
মায়ের দাবি, বড় ছেলে শান্ত স্বভাবের। বরাবরই নিচু গলায় সকলের সঙ্গে কথা বলে। ছেলে জঙ্গি কার্যকলাপে যুক্ত হতে পারে না, ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে। উমরের গ্রেপ্তারের বিষয় মোবাইল দেখে ওই পরিবার জানতে পেরেছে। জানা গিয়েছে, কলকাতায় কাজ করে প্রতি মাসে বাড়িতে পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা উমর পাঠাতেন। সেই কথা জানিয়েছেন স্ত্রী। গ্রেপ্তারির কথা জানার পর থেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী। এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
গুদামে স্তূপাকার ময়লা ফেলার গাড়ি, তবুও বারবার টেন্ডার! বেনজির দুর্নীতিতে চক্ষু চড়কগাছ অগ্নিমিত্রার
-
জল্পনার ঘোলাজল পেরিয়ে মেয়র পদে ইস্তফা ফিরহাদের! ছোট লালবাড়িও হাতছাড়া তৃণমূলের
-
মা ‘আম গাছ’, বাবা ‘শাল’! পরিবারের মৃত সদস্যদের নাম বৃক্ষরোপণ করে জনজাতি সমাজ
-
চন্দ্রনাথ রথ খুনে নয়া মোড়, আত্মসমর্পণ উত্তরপ্রদেশের ‘গ্যাংস্টার’ মনুর
-
স্বরূপের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কোণঠাসা শ্রীলেখা! গ্রেপ্তারির পরই ফাঁস টেকনিশিয়ান স্টুডিওর অন্দরের কাহিনি