মহম্মদ ইউনুসের বিদায়ী ভাষণেও উঠে এসেছে সেভেন সিস্টার্সের কথা। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাত রাজ্যকে দেশের মূল ভূখণ্ডে জুড়ে রেখেছে ‘চিকেনস নেক’ অর্থাৎ ‘শিলিগুড়ি করিডর’। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠিত হলেও নিরাপত্তায় এতটুকু ছাড় দিতে নারাজ ভারত। সেভেন সিস্টার্সকে বিচ্ছিন্ন করতে জঙ্গিদের টার্গেট হতে পারে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেতু! ওই শঙ্কা থেকে সেতুগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বুধবার মহানন্দা সেতুর নিচে মহড়া চালাল সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। এর আগে ডিসেম্বর মাসে একই মহড়া চলে জলপাইগুড়ির তিস্তা সেতুতে।
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস সোমবার বাংলাদেশের জাতির উদ্দেশ্যে তাঁর বিদায়ী ভাষণে বলেন, “আমাদের খোলা সমুদ্র কেবল ভৌগোলিক সীমারেখা নয়— এটি বাংলাদেশের জন্য বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার খোলা দরজা। নেপাল, ভুটান এবং সেভেন সিস্টার্স্কে নিয়ে এই অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।” বিষয়টিকে যে মোটেও হালকা করে দেখছে না ভারত সেটা অব্যাহত সামরিক তৎপরতায় স্পষ্ট। বুধবার সকালে শিলিগুড়ি শহরের ‘লাইফ লাইন’ মহানন্দা সেতুতে মহড়া চালায় বিএসএফ। রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ছিল। দু’ঘন্টার মতো ওই মহড়া চলে। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর তিস্তা সেতুতে একই মহড়া চলে। কিন্তু তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পরও কেন এমন সতর্কতা?
আরও পড়ুন:
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৯৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী, জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার নদীর পারে কাঁটাতার থাকলেও তাতে নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত হয়নি। ওই এলাকায় বিএসএফ টহল বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ১৯৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী, জমির সমস্যার জন্য কাঁটাতারের বেড়া নেই। আবার নদীর পারে কাঁটাতার থাকলেও তাতে নিরাপত্তা পুরোপুরি সুনিশ্চিত হয়নি। ওই এলাকায় বিএসএফ টহল বাড়ানো হয়েছে। কারণ, ওই সীমান্ত এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ। এখানে ইউনুস ঘনিষ্ঠ জামাত-ই-ইসলামি এবং তার জোটসঙ্গীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। রংপুর ভারতের ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে অবস্থিত।
এখানে ৩৩টি আসনের মধ্যে ১৩টিতে জামাত জিতেছে। স্পর্শকাতর সীমান্তবর্তী এলাকায় জামাতের উপস্থিতি ভারতের জন্য উদ্বেগের। কারণ, জামাতের সঙ্গে যুক্ত কিছু উগ্রপন্থী মহল চিকেনস নেক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং সমাবেশে দাবি করা হয়েছে, এই করিডোরটি ভারতের দুর্বলতার প্রতীক। যদি আঞ্চলিক উত্তেজনা কখনও বাড়ে তবে এই অঞ্চলে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই কারণে ভারত ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
বিক্ষোভকারীরা লাঠি খাচ্ছেন, ‘আরশোলা’ মুখপাত্র খাচ্ছেন বার্গার! ভাইরাল ভিডিওয় মুখ পুড়ল ‘ককরোচে’র
-
‘দেশের তরুণরা অমর’, ‘ককরোচ’দের সমর্থনে বড় পদক্ষেপ হানি সিংয়ের, শো বাতিল আরমান মালিকের
-
লাইভে ‘খুনি’ বলে তোপ, মদনকে ১০ কোটির আইনি নোটিস অভিষেকের
-
১০ বছর বড় প্রেমিকা অন্তঃসত্ত্বা হতেই ব্রেকআপ! মেয়ের মুখও দেখতে নারাজ বিশ্বকাপ মাতানো তারকা
-
টালা প্রত্যয়ে সাফাই অভিযানে বদলে গেল কমিটি! পুজোর দায়িত্বে কোন শিল্পী?