বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: জন্ম থেকেই বিশেষভাবে সক্ষম সে। এক কথায় ‘অটিস্টিক চাইল্ড’। তার নাম স্পন্দন মাইতি। এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করে বুঝিয়ে দিয়েছে মনের জোরে সবই সম্ভব।
নদিয়ার কল্যাণীর স্প্রিংডেল হাই স্কুলের ছাত্র স্পন্দন মাইতি। তাঁর এই কৃতিত্বে খুশি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। মাধ্যমিকের ফলাফলে মনের জোর ফিরে পেয়েছেন ‘অটিস্টিক’ পড়ুয়ার বাবা-মা। বিশেষভাবে সক্ষম স্পন্দন ছোটবেলা থেকেই অটিজিমে আক্রান্ত। তাঁর বাবা-মা ছেলের ভবিষ্যতের আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সমস্ত বাধা জয় করে সেই ছেলে প্রথমে মাধ্যমিক এবং এবার উচ্চ মাধ্যমিকেও উত্তীর্ণ হল। এবং ভালভাবেই। স্পন্দনের মা বলেন, “একসময় চিকিৎসকরা বলেছিলেন ছেলের লেখাপড়া দূরঅস্ত। ছেলেকে বাড়িতে বসিয়ে রাখা ছাড়া কোনও উপায় নেই। তাঁদের কাছে গিয়ে এখন বলতে ইচ্ছা করে যে, অটিজমে আক্রান্তরাও পড়াশোনা করতে পারে।” আনন্দে চোখের জল মুছতে মুছতে নতুন করে ছেলের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন স্পন্দনের মা রুবি মাইতির।স্পন্দনের বাবা বেনুপদ মাইতি বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী।
[বাধা হয়নি থ্যালাসেমিয়ার মতো রোগও, উচ্চ মাধ্যমিকে সফল অনন্যা]
জন্মের পর থেকেই অটিজমে আক্রান্ত ওই পড়ুয়া। কোনও স্কুল তাঁকে ভরতি নিতে চায়নি। শেষে স্প্রিংডেল স্কুল কর্তৃপক্ষ ওকে ভরতি নিতে রাজি হয়। নার্সারি থেকে স্পন্দন এই স্কুলের ছাত্র। এই স্কুলের প্রতি স্বভাবতই কৃতজ্ঞ বেনুপদবাবু। স্পন্দনের মা জানান, ছেলেকে সামনে বসিয়ে ক্লাসের পড়া তিনি নিজে পড়তেন। একবার নয়, বারবার স্পন্দন তা শুনতো। এভাবেই শুনে শুনে পড়া মুখস্থ করত। আর এইভাবেই পড়াশুনার স্পন্দন হয়ত জেগেছিল স্পন্দনের মনে। পড়াশোনার সময়টুকু ছাড়া বাকি সবসময় তাকে ঘরে তালাবন্ধ করে রেখে দিতে হত, যাতে কোথাও চলে না যায়। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে খুশি স্পন্দন জানায়, সে সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করতে চায়। কথায় কথায় বলে ফেলে যে, সে ভাল গিটার বাজাতে জানে। আবার ক্যারাটেতেও পারদর্শী।
ওই স্কুলের সেক্রেটারি ইলিনা সেন বলেন, “‘স্পন্দন দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করেছে। ওর এমন রেজাল্ট দেখে আমরা ভীষণ খুশি । ওর বাবা মা-ছেলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। আমরাও যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমরা চাই ও আরও ভালভাবে পড়াশোনো চালিয়ে যাক।” অন্য ছাত্র-ছাত্রীরাও স্পন্দনের রেজাল্টে খুশি। স্প্রিংডেল হাইস্কুল থেকে এবার ১৫৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। সবাই পাশ করেছে। ৯০ শতাংশ ও তার বেশি ২১ জন , ৮০ শতাংশ ও তার বেশি ১৪ জন এবং ৭০ শতাংশ ও তার বেশি ৭৩ জন নম্বর পেয়েছে। এর মধ্যে একজন পঞ্চম ও একজন নবম হয়েছে।
[অলচিকি ভাষায় পরীক্ষা দিয়ে সাফল্যের শীর্ষে সীমা, হতে চায় আইনজীবী]
সর্বশেষ খবর
-
নকশাল নেতা সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখেছিলেন উত্তমকুমার! ন্যায়-প্রশ্নে বরাবরই বিদ্ধ পুলিশ
-
অসময়ে রথযাত্রা উদযাপন! ওড়িশা থেকে ইসকনের উৎখাত চেয়ে বিক্ষোভ কলিঙ্গ সেনার
-
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হকার উচ্ছেদ! আসানসোলের ৩ আধিকারিককে শোকজ
-
ঝাড়গ্রামে হাতির পাল, বন দপ্তরের কর্মীদের উপর হামলা! উলটে ফেলা হল গাড়ি
-
যত নষ্টের গোড়া আইপ্যাক! ঋতপন্থী তৃণমূলে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত