Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

গাছে ঝুলে অসংখ্য বাদুড়, নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াল বীরচন্দ্রপুরে

বাদুড়ের জ্বালায় অতীষ্ঠ সাধারণ মানুষ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৬, ২০১৮, ০৯:৪০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৬, ২০১৮, ০৯:৪০

options
link
গাছে ঝুলে অসংখ্য বাদুড়, নিপা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়াল বীরচন্দ্রপুরে zoom

নন্দন দত্ত: নিপা ভাইরাসের আতঙ্কে ভুগছে বীরচন্দ্রপুরের মন্দির এলাকা। যেখানে হাজারে হাজারে বাদুড় এলাকার তেঁতুল গাছে, বাঁশবনে, অর্জুন গাছে ঝুলছে। এলাকার বাসিন্দারা সতর্ক হলেও পর্যটন কেন্দ্র বীরচন্দ্রপুরে বহিরাগতদের নিয়ে চিন্তিত প্রশাসন। ময়ূরেশ্বর তারাপীঠের মাঝে জেলার অন্যতম ঐতিহাসিক ও স্মৃতি বিজড়িত পর্যটন কেন্দ্র বীরচন্দ্রপুর। মহাপ্রভু নিমাইয়ের সহচর নিত্যানন্দের জন্মভূমি একচক্র ধাম হিসাবেই পরিচিত। নিতাই বাড়ি, ইসকন মন্দির, জগন্নাথ মন্দির-সহ ছোট বড় একাধিক মন্দিরময় এলাকা বীরচন্দ্রপুর। সেখানেই গাছে গাছে হাজারে হাজারে বাদুড় ঝোলে। যাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী আগে থেকেই অতিষ্ঠ। তার সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে ভাইরাস ঘটিত রোগ নিপা। যা কিনা বাদুড়ের বিষ্ঠা, তাদের আধ খাওয়া ফল থেকেই শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে।

[বনগাঁয় উদ্ধার ১ কুইন্টাল মরা মুরগি, আটক ১]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ময়ূরেশ্বর এক ব্লকের বিডিও সুশান্ত বসু বলেন, “আমরা এ বিষয়ে বনদপ্তর ও স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। অন্যদিকে নিপা ভাইরাস নিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সূত্রে রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ব্রজেশ্বর মজুমদার বলেন, “আমি ওই এলাকার স্বাস্থ্যকর্মীদের এলাকাবসীদের সতর্ক করার কথা বলেছি।” যদিও এলাকার পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি তিমির গোস্বামী বলেন, “আমরা গ্রাম বাংলার লোকরা এ বিষয়ে সতর্ক। তবে পর্যটকদের কথা ভেবে স্বনির্ভর দলকে দিয়ে এ নিয়ে সতর্কীকরণের জন্য বৈঠক করা হবে।” যদিও ভক্তপ্রাণ বৈষ্ণব এলাকা বীরচন্দ্রপুরের ভক্তদের দাবি, গত ২০ বছর ধরেই ওরা তো মন্দিরের আশেপাশে বাদুড় রয়েছে। হরিনাম শুনে নাকি তাদের জীবযন্ত্রনা থেকে মুক্তি পায়। কিন্তু দেশজুড়ে নিপা ভাইরাসেরর আতঙ্ক এবার ছেয়েছে বীরচন্দ্রপুরের ওই মন্দির পাড়ায়ও।

রাজ্যজুড়ে এই বিএসএল ফোর প্রজাতির ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে প্রত্যেক জেলাকে। যাতে বাদুড় শূকরের মতো বাহক থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের হিসাবে নিপা ভাইরাস নিরূপণের এখনও সঠিক পরিকাঠামো রাজ্যে গড়ে ওঠেনি। তাই সতর্ক থাকাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রথম পদক্ষেপ। এদিকে বীরচন্দ্রপুরের ইস্কন মন্দিরের দক্ষিণ পাড়ে পরপর তিনটি তেঁতুল গাছে, বাঁশবনে ও অর্জুন গাছে হাজারে হাজারে বাদুড় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে যমুনা নদীর পাড়ে ওই এলাকাটি বৈষ্ণবদের শ্মশানঘাট। এমনিতেই লোকে যায় না। কিন্তু বীরচন্দ্রপুরের বাসিন্দা প্রায় হাজার সাতেক মানুষ বাদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তারা জানায় আগে এই এলাকা থেকে প্রচুর তেঁতুল বিক্রি হত। সেই তেঁতুলের কিছু অংশ খেয়ে ফেলে বাদুড়। শুধু তাই নয় এলাকায় কোনও ফল গ্রামবাসীরা খেতে পারে না। কারণ পাকা পেঁপে, পেয়ারা এমনকি তালেও কামড় বসাচ্ছে বাদুড়। নিপা ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে বাদুড়ের কামড় দেওয়া কোনও ফল খাওয়া যাবে না।

গ্রামবাসী মালতি দাস বলেন, “বাদুড়ের জ্বালায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেল। এই গরমে ছাদে যেতে পারি না। রোদে কাপড় মেলতে পারছি না। তাতে বাদুড় পায়খানা করে দিলে তার দাগ ছাড়ে না। কৃষিজীবী এলাকায় কোনও ফসল রোদে মেলা দায়। বীরচন্দ্রপুর এলাকায় মূলত ঘোষেদের বাস। জাত ব্যবসা হিসাবে দুধ-দই-ছানা তাঁরা জেলা ও রাজ্যে সরবরাহ করেন। দুগ্ধ ব্যবসায়ী হৃদয় ঘোষ বলেন, “বাদুড়ের জ্বালায় আমরা ছানা করে তা বাইরে খোলা রাখতে পারিনা। ঘরের ভিতরে ঢাকা দিয়ে রাখতে হয়।” সব মিলিয়ে এলাকায় ছড়িয়েছে নিপার আতঙ্ক। তাই পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

[গণপিটুনিতে মৃত্যু ব্যক্তির, ভাইয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের দিদির]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.