২৫ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

২৫ কার্তিক  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর ২০১৯ 

BREAKING NEWS

সুমিত বিশ্বাস, পুরুলিয়া: মাধ্যমিকে দশ জনের মেধাতালিকায় একান্ন জনের নাম থাকলেও সেখানে ঠাঁই হল না পুরুলিয়ার। ফলে হতাশা গ্রাস করেছে পুরুলিয়ার বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। সেই সঙ্গে ক্ষোভও ঝরে পড়ছে তাদের গলায়।

তবে এই ক্ষোভটা আজকের নয়। দীর্ঘদিনের। কিন্তু ক্ষোভ উগরে দিলেও পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের খাতা দেখার ব্যবস্থ্যায় কোন পরিবর্তনই হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে ফি বছর ভুগতে হচ্ছে জঙ্গলমহলের এই জেলাকে। এই জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেই জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার খাতা যায় মেদিনীপুরে। আর মেদিনীপুরের খাতা আসে পুরুলিয়ায়। একইভাবে বাঁকুড়ার খাতা যায় বর্ধমানে। আর ওই জেলার খাতা আসে বাঁকুড়ায়। পুরুলিয়ার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একেবারে খোলাখুলি অভিযোগ, যতদিন না পুরুলিয়ার মাধ্যমিকের খাতা মেদিনীপুরের বদলে অন্য জেলায় যাচ্ছে ততদিন এই জেলায় মাধ্যমিকে ভাল ফল হবে না। তাই এই জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকারা বহুদিন ধরে মাধ্যমিকের খাতা মেদিনীপুরে না পাঠানোর কথা বলে আসছেন। কিন্তু তাতে কোন কাজই হয়নি।

যার ফলস্বরূপ যে মেধাবী ছাত্র গণিত, ভৌতবিজ্ঞানে ১০০ পেয়েছে তার প্রথম ভাষায় প্রাপ্ত নম্বর একানব্বই। এবার মাধ্যমিকে পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাপীঠের তাদের সেরা ছাত্র বিহারের সৌম্য কুমারের উদাহরণ দিয়ে বলেছে, অঙ্কে-বিজ্ঞানে ১০০ পাওয়া ছাত্র কি করে তাঁর প্রথম ভাষা হিন্দিতে ৯১ পাবে? ওই স্কুলের কমকর্তাদের আক্ষেপ, এখনকার নম্বর কাঠামোয় একজন মেধাবী ছাত্রের প্রথম ভাষায় ৯১ কেন, ৯৮-৯৯ পাওয়াটা কঠিন নয়। শুধু এই মেধাবী ছাত্রই নয়, জেলার এই নামকরা স্কুলের অধিকাংশ ছাত্রেরই প্রথম ভাষায় প্রাপ্ত নম্বর ৭০ থেকে ৮০-র মধ্যে। তাই ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক স্বামী গতিদানন্দ বলেন, “এই জেলার খাতাগুলো কি সঠিক ভাবে দেখা হচ্ছে? বছরের পর বছর যা দেখে আসছি তাতে এই সন্দেহটাই দানা বাঁধছে।” এবার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাত্র এক নম্বরের জন্য রাজ্যের মেধাতালিকায় ঢুকতে পারেনি। ফলে আফশোসের শেষ নেই।

[ আরও পড়ুন: অভাব নিত্যসঙ্গী, মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য পেল কাটোয়ার সোমা ]

গত বছর এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেধা তালিকায় ঠাঁই পেয়ে দশমে নাম ছিল। কিন্তু তার আগে ২০১৪-তেও দশম স্থান লাভ করে এই স্কুল। তবে অতীতের রেকর্ড বলছে, নয়ের দশকে এই স্কুল রাজ্যের নিরিখে ভাল ফল করে সুনাম কুড়িয়েছিল। সেই গরিমা যেন বেশ কয়েকবছর ধরে হারিয়ে গিয়েছে। জেলার আরও একটি নামকরা স্কুল পুরুলিয়া জিলা স্কুলও এবার হতাশ করেছে। তাদেরও ফল আশানুরূপ হয়নি। এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তারাপদ গোস্বামী বলেন, “২০১৬ সালের পর থেকে আমরা মেধাতালিকায় ঢুকতে পারিনি। ওইবার মেধাতালিকায় আমাদের চার ছাত্র ছিল।” তবে একরাশ হতাশার মাঝে একটাই ভাল খবর, মেধাতালিকায় অষ্টমে যে এগারো জনের নাম আছে তার মধ্যে বাঁকুড়ার রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশনের পৃতিষ কর্মকারের বাড়ি পুরুলিয়ার কাশীপুরের মণিহারা গ্রামে।

তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি সত্যকিঙ্কর মাহাতো বলেন, “মাধ্যমিকে এখানকার খাতা যেখানে যায় সেই ব্যবস্থাই যদি পরিবর্তন হয় তাহলে পুরুলিয়া যেন খোলস ছেড়ে একটু বেরিয়ে আসতে পারে। এই বিষয়টি জেলার শিক্ষকদের একটা বড় অংশের মত। ওই ব্যবস্থায় বদল হলে পুরুলিয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়নটা সঠিকভাবে হবে।” জেলার শিক্ষকরা রীতিমতো উদাহরণ দিয়ে বলছেন, ৬৮১ নম্বর মেধাতালিকায় রয়েছে। অথচ এই জেলার বহু ছাত্র-ছাত্রী ৬৭০-র বেশি নম্বর পেয়েছে। ফলে খাতার মূল্যায়ন ঠিক ভাবে হলে বাঁকুড়ার মতো পুরুলিয়ারও একাধিক ছাত্র-ছাত্রী রাজ্যের মেধাতালিকায় চলে আসবে।

[ আরও পড়ুন: ‘এক্সিট পোল দেখে ঘাবড়াবেন না, আমিই জিতব’, টুইট বাবুল সুপ্রিয়র ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং