শেখর চন্দ্র, আসানসোল: পঞ্চায়েত ভোটের (Panchayat Election) প্রথম দিন থেকেই সালানপুর পঞ্চায়েতে মনোনয়ন তোলা ও জমার কাজে নেতৃত্ব দিতে দেখা যায় বাম যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়কে (Minakshi Mukherjee)। কিন্তু মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় আসতেই তাসের ঘরের মতো যেন ভেঙে পড়তে থাকে বামেরা। এবার ভোটের ফলাফলেও দেখা গেল সালানপুরে (Salanpur) নিজেদের একসময়ের গড় দখল রাখতে পারলো না সিপিএম। জেলা বিজেপির থেকেও পিছিয়ে পড়েছে বামেরা। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সমিতি এমনকি জেলা পরিষদ প্রত্যেকটি স্তরেই বামেরা (CPM) সালানপুরে রয়েছে তৃতীয় স্থানে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সালানপুর ব্লকের ১৫ এবং ১৬ নম্বর আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর আসানসোল মহকুমা শাসকের হাতে ইতিমধ্যে সংসাপত্র সংগ্রহ করেছেন মহম্মদ আরমান ও বেবি মণ্ডল। সালানপুর ব্লকের দুটি আসন থেকে তৃণমূল সমর্থিত এই দুই প্রার্থী তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি (BJP) ও বাম প্রার্থীদের পরাজিত করেছেন বড় ব্যবধানে। ফলাফলের নিরিখে মহম্মদ আরমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির চিন্ময় তেওয়ারির চেয়ে ২২ হাজার ৮৯৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। ১৫ নম্বর জেলা পরিষদে আসনটি তৃণমূল প্রার্থী মহম্মদ আরমান পেয়েছেন ২৯ হাজার ৩৪০ ভোট। বিজেপির চিন্ময় তেওয়ারি পেয়েছেন ৬হাজার ৪৪১ ভোট।
[আরও পড়ুন: অনুব্রতহীন বীরভূমে তৃণমূলের জয়জয়কার, মিষ্টিতেও ‘সবুজ বিপ্লব’]
এছাড়াও এই আসনে সিপিএমের শিপ্রা মুখোপাধ্যায় পেয়েছেন ৫ হাজার ৩৮৭ ভোট। কংগ্রেসের বরুন মণ্ডল পেয়েছেন ৯৬৬ ভোট এবং এসইউসি (SUCI) সমর্থিত নির্দল প্রার্থী দেববসর বেসরা পেয়েছেন ৩২৪ টি ভোট। তৃণমূলের বেবি মণ্ডল পেয়েছেন ১৫হাজার ৩৪৯ টি ভোট। এখানে বিজেপি প্রার্থী পায়েল বাউড়ি পেয়েছেন ৩হাজার ৭৬৪ টি ভোট এবং সিপিআইএমের প্রার্থী চায়না দাস মালাকার পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭২ ভোট। এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী বেবি মণ্ডল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী বিজেপির পায়েল বাউরি ১১ হাজার ৫৮৫ ভোট বেশি পেয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সালানপুর ব্লক থেকে নির্ধারিত দুটি আসনেই প্রথম স্থানে আছেন তৃণমূল (TMC) প্রার্থীরা। দ্বিতীয় স্থানে আছেন বিজেপি প্রার্থীরা। তৃতীয় স্থানে আছেন সিপিআইএম প্রার্থীরা।
[আরও পড়ুন: মোদি কি এমএ পাশ? স্মৃতিচারণে কী বললেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক]
বাম নেতৃত্বের দাবি, সন্ত্রাসের ভয়ে প্রত্যাহার হয়েছে মনোনয়ন। ভোট লুট হয়েছে। গণনায় কারচুপি হয়েছে। গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোট হয়নি। অন্যদিকে আরেকাংশের মত, তারা স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করেছিলেন। সালানপুর ব্লকে প্রথম দিনে ২৯ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছিলেন। যার বেশিরভাগটাই ছিল সিপিএম।সালানপুর এরিয়া কমিটির সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের দাবি ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। তৃণমূল ব্লক সম্পাদক ভোলা সিং বলেন, ”আমরাই ওদের গোলাপ ফুল, ঠান্ডা জল দিয়ে স্বাগত জানিয়ে মনোনয়ন করিয়েছি। আমরা কেন সন্ত্রাস করতে যাব? ওদের ক্ষমতা নেই। সংগঠন নেই। মানুষ ওদের সঙ্গে নেই। ব্যালটে জবাব দিয়ে দিয়েছে।”
সর্বশেষ খবর
-
নতুন তৃণমূল আত্মপ্রকাশের পরদিনই সন্দীপনের বাড়িতে বিক্ষোভ, কাটমানি-তোলাবাজিতে সরব বিজেপি
-
আরজিকর কাণ্ড এবার বড়পর্দায়, পরিচালনায় শঙ্কুদেব পণ্ডা, ‘অভিশপ্ত’ আগস্টেই শুরু শুটিং
-
বিশ্বজয়ের ৩ মাসের মধ্যে অধিনায়কত্ব যাচ্ছে সূর্যকুমারের, নেতৃত্বের দৌড়ে আপাতত ৩
-
দিল্লির পর বিহার, বিধ্বংসী আগুন হাসপাতালে, ঝলসে মৃত অন্তত ৪
-
কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা প্রত্যাহার হুমায়ুনের, অধীর, নওশাদের উদাহরণ তুলে আদালতে যাচ্ছেন এজেইউপি নেতা