দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করায় রবিবার সকালে পান্ডুয়ার সরাই তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপুরে এক বৃদ্ধকে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল। অগ্নিদগ্ধ ওই বৃদ্ধ দুর্গা মুর্মু (৬০) বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় পান্ডুয়া থানার পুলিশ বিকেল পর্যন্ত ২ মদ্যপকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবারের সকালের এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
[গাছে ঝুলন্ত দুই কঙ্কালকে ঘিরে চাঞ্চল্য সালানপুরে]
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দূর্গাবাবুর বাড়ি জগন্নাথপুরে। এদিন সকাল ৯ টায় বাজার করে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। সাইকেলের ক্যারিয়ারে আটকানো ছিল কেরোসিন তেলের বোতল। বাড়ি ঢোকার মুখে দুর্গাবাবু দেখেন তারই বাড়ির বাগানে বসে অলোক দুর্লভ, পলাশ দুর্লভ-সহ বেশ কয়েকজন যুবক মদ খাচ্ছে। দুর্গাবাবু মদ খাওয়ার প্রতিবাদ করায় মদ্যপরা তাকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। সেসময় বৃদ্ধ আশেপাশের প্রতিবেশীদের ডাকলে মদ্যপদের সঙ্গে তাঁর বচসা বেধে যায়। বচসা চলাকালীন এক মদ্যপ বৃদ্ধের সাইকেলের ক্যারিয়ারে থাকা কেরোসিন তেলের বোতল এনে তাঁর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিমেষের মধ্যে দাউদাউ করে আগুন ধরে যায় বৃদ্ধের শরীরে। তাঁর আর্তনাদে স্থানীয়রা ছুটে এলে মদ্যপরা পালিয়ে গেলও পলাশ দুর্লভ নামে এক মদ্যপ এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়ে যায়। এলাকার মানুষই বৃদ্ধের শরীরের আগুন নিভিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে পান্ডুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
[রেললাইনের ধার থেকে উদ্ধার দুই তরুণীর ছিন্নভিন্ন দেহ, উলুবেড়িয়ায় চাঞ্চল্য]
দুর্গাবাবুর শরীরের পেট থেকে বুক পর্যন্ত এবং থাইয়ের অনেকটা অংশই পুড়ে গিয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। অন্যদিকে, মদ্যপ পলাশকে জনতা পুলিশের হাতে তুলে দিলে পান্ডুয়া থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ পরে অলোক দুর্লভ নামে আর এক মদ্যপকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ অবশ্য আগুন ধরিয়ে দেওয়ার তত্ত্ব মানতে নারাজ। পুলিশের বক্তব্য মদ্যপদের সঙ্গে বচসা চলাকালীন সাইকেল পড়ে গিয়ে তাতে রাখা কেরোসিন তেল থেকে কোনওভাবে আগুন ধরে যায়। তবে স্থানীয় মানুষ ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, গোটা পান্ডুয়া এলাকা জুড়ে চোলাই মদের ঠেক আর মদ্যপদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। এ নিয়ে বহুবার তাঁরা পুলিশকে জানিয়েছেন। কোনেও ফল হয়নি। পুলিশ যদি আগে থেকে চোলাই মদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিত তবে আজকের এই ঘটনা ঘটত না বলে এলাকাবাসীর দাবি।
সর্বশেষ খবর
-
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তিকিতাকার জয়, সুপার সাব ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন
-
মাঝরাস্তায় ট্যাঙ্কার থেকে ইথানল চুরি! বর্ধমানে সক্রিয় বড়সড় চক্র, সতর্ক পুলিশও
-
পকেটের চাপে অভিভাবকত্বে ব্রেক! বাংলায় কমছে প্রজনন হার, সমীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগ
-
আগামী মাসে নদিয়া সফরে মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি থাকবেন সরকারি অনুষ্ঠানেও!
-
একমাসে দ্বিতীয়বার! ফের বঙ্গে আসছেন শাহ, আগামী সপ্তাহে একগুচ্ছ কর্মসূচি