ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বোলপুর: বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে উপরাষ্ট্রপতির যোগদানের আগেই উপাচার্যকে বয়কট করে পোস্টার ঘিরে উত্তেজনা৷ শুক্রবার সকালেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনয় ভবন এবং শান্তিনিকেতনে ফটকের সামনে দেখা গেল সেই পোস্টার৷ যাতে লেখা, উপরাষ্ট্রপতি স্বাগত, কিন্তু উপাচার্যকে চাই না৷ এই পরিস্থিতিতে উপরাষ্ট্রপতির সফরকালে নিরাপত্তার এই কড়াকড়ির মাঝে কীভাবে, কে বা কারা ভিতরে ঢুকে এই পোস্টার দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷
[আরও পড়ুন: বিয়েবাড়ির আনন্দে ভাঁটা, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে বরযাত্রী বোঝাই বাস]
উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর অধ্যাপক, কর্মীদের অভিযোগ বিস্তর৷ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বক্ষেত্রে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করছেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদদের তুলনায় আমন্ত্রিত ব্যক্তি হিসেবে রাজনীতিকদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, এমনই নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে৷ এমনকী অধ্যাপক এবং কর্মিসভাগুলি তিনি ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে সরব বিশ্বভারতীর কর্মী, অধ্যাপকদের একাংশ৷ যা কিনা বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যের সঙ্গে একেবারেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়৷ এসবের জেরেই আজও উপাচার্যের বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে৷
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে শুক্রবার এক ঘণ্টার জন্য শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। তিনি রবীন্দ্রভবনে ‘শ্যামলী’ বাড়িটির উদ্বোধন এবং লিপিকায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংস্কার হয়ে পড়ে ছিল। উদ্বোধনের পরে বাড়িটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে বলে বিশ্বভারতী সূত্রে খবর৷ শুক্রবার দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে সকাল ৯.১৫ নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছান উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নায়ডু। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিশ্বভারতীর কুমিরডাঙা মাঠে নামেন। ১১টা নাগাদ রবীন্দ্রভবনে সংস্কার হওয়া ‘শ্যামলী’ বাড়ির উদ্বোধনের পর লিপিকায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী উপরাষ্ট্রপতির হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন, তার মধ্যে রয়েছে ১৯৪০ সালের একটি ছবি। সেই সাদা-কালো ছবিতে ‘শ্যামলী’ বাড়ির সামনে বসে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

তবে উপরাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান সংক্রান্ত খবর করার জন্য স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, লিপিকা প্রেক্ষাগৃহে বেশি জায়গা নেই। অথচ, এখানে মোট ৩৫৩টি আসন রয়েছে। সেখানে সরকার অনুমোদিত সাংবাদিকদের কেন প্রবেশাধিকারের অনুমতি দেওয়া হল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে৷
[আরও পড়ুন: ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নিয়ে মদের ঠেকে ধুন্ধুমার, বাধা দিয়ে আক্রান্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের ছেলে]
সর্বশেষ খবর
-
সার্কিট হাউসে মহুয়াকে ঘর ছাড়তে ‘চাপ’, বাইরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান! উত্তেজনা কৃষ্ণনগরে
-
স্বাধীনতা দিবসে রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণপত্রে ছত্তিশগড়-মধ্যপ্রদেশের কারুকাজ, মাওবাদীমুক্ত রাজ্যের শিল্পচর্চায় জোর
-
স্বাধীনতা দিবসের রাতে ৭টি গাড়িতে মাংস পাচার! পুলিশি অভিযানে খড়্গপুরে গ্রেপ্তার ১৮
-
এই প্রথম! স্বাধীনতা দিবসে রেড রোডের নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গী কেন্দ্রীয় বাহিনী
-
টুলুর কারবারের সঙ্গে যোগ? বীরভূমের ভূমি দপ্তরের হেড ক্লার্কের বাড়িতে পুলিশি হানা