ধীমান রায়, কাটোয়া: উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়েও নির্বিকার রঘুনাথ। চালভাজা, ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবার পক্ষে ছেলেকে পড়ানোর ক্ষমতা ছিল না। তাই টিউশন করেই নিজের পড়াশোনার খরচ জোগার করে নিত আউশগ্রামের এই কিশোর। এহেন পরিশ্রমের ফল, হাতেনাতেই পেয়েছে সে। উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৫০। উত্তর রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের কলা বিভাগের ছাত্র রঘুনাথের এই নম্বর এবার স্কুলের সেরা। তবে এত বড় সাফল্যতেও নির্বিকার এই কিশোর। কেননা ভেবে কী হবে? বাবা সাহায্য করতে পারবেন না, আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। তাই ভাল ফল করেও আপাতত পেটের টানে কাজের খোঁজ শুরু করেছে রঘুনাথ। কোনওভাবে সাহায্যের আশ্বাস পেলে হয়তো আরও কিছুদিন পড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু তেমন কোনও সম্ভাবনা না থাকায় বাবার মতোই একটা কাজ জুটিয়ে নিয়ে জীবনযুদ্ধে নামতে তৈরি সে।
[সাফল্যের নজির, অটিজমকে জয় করে উচ্চ মাধ্যমিকে সফল স্পন্দন]
আউশগ্রামের মল্লিকপুর গ্রামে বাড়ি রঘুনাথদের। বাবা গোপাল মজুমদার ছেলের স্কুলের সামনেই ঠেলা নিয়ে ঝালমুড়ি বিক্রি করেন। মা কিরণবালা গৃহবধূ। জানা গিয়েছে, রঘুনাথরা তিনভাই। বড় দাদা গোপীনাথ আলাদা থাকেন। মেজদাদা জগন্নাথ বিএ পাশ করেছেন। তবে কাজ না পেয়ে দিনমজুরি করেন। গোপালবাবু বলেন, ‘আমার ছেলে ভাল নম্বর পেয়েছে সত্যি। কিন্তু বাস্তবটা মানতে হবে। আমি যা রোজগার করি তাতে খাওয়া পড়ার খরচ ঠিক মতো জোটাতে পারছি না। তাই ছেলের উচ্চশিক্ষা আমাদের কাছে স্বপ্ন।’ এই প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক দশরথ বাগদি বলেন, ‘রঘুনাথ যে এতটা মেধাবী প্রথম দিকে বুঝতে পারিনি। একাদশ শ্রেণির ফাইনাল পরীক্ষায় স্কুলে প্রথম হওয়ার পর বুঝতে পারি, ও ভাল ফল করবে। আমরা যতটা পারি সহযোগিতা করব। কিন্তু রঘুনাথ যদি আরও কিছুটা সহযোগিতা পেত তাহলে ও ভবিষতে কিছু করতে পারত।’
মেধাবী রঘুনাথ, বাংলায় ৯০, ইংরেজিতে ৮০, দর্শনে ৯৪, সংস্কৃতে ৯৬, এবং শিক্ষাবিষয়ে ৯০ পেয়েছে। ২০১৫-তে মাধ্যমিকে অল্প নম্বরের জন্য সে প্রথম বিভাগ পায়নি। অভাবের সংসার, তাই মাধ্যমিক পাশ করেই উত্তরপ্রদেশের একটি কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছিল এই কিশোর। মাস কয়েক পরে বাড়ি ফিরে বন্ধুদের পরামর্শে উচ্চমাধ্যমিকের জন্য স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়। খাওয়া পরা জুটলেও পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য তাকে নিয়মিত টিউশন করতে হত। সেই টিউশনের ফল মিললেও উচ্চশিক্ষা আদৌ সম্ভব কিনা জানে না এই কিশোর।
ছবি: জয়ন্ত দাস
[মা পরিচারিকা-বাবা দিনমজুর, মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়ে কুঁড়েঘরের সাঁঝবাতি মিঠানির রিতু]
সর্বশেষ খবর
-
নকশাল নেতা সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখেছিলেন উত্তমকুমার! ন্যায়-প্রশ্নে বরাবরই বিদ্ধ পুলিশ
-
অসময়ে রথযাত্রা উদযাপন! ওড়িশা থেকে ইসকনের উৎখাত চেয়ে বিক্ষোভ কলিঙ্গ সেনার
-
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হকার উচ্ছেদ! আসানসোলের ৩ আধিকারিককে শোকজ
-
ঝাড়গ্রামে হাতির পাল, বন দপ্তরের কর্মীদের উপর হামলা! উলটে ফেলা হল গাড়ি
-
যত নষ্টের গোড়া আইপ্যাক! ঋতপন্থী তৃণমূলে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত