রাহুল চক্রবর্তী: রাজ্য সরকারের ছেলে পঞ্চায়েত ভোটে প্রার্থী! শুনে হোঁচট খেলেন তো। তবে যা লেখা হয়েছে, সেটা কিন্তু একেবারেই সত্যি। আবারও বলি, এই পঞ্চায়েত ভোটে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন রাজ্য সরকারের ছেলে।
বিষয়টা একটু খোলসা করেই বলা যাক, এই ভূ-ভারতে প্রতিটি রাজ্য সরকারের একটা ভৌগোলিক সীমা-পরিসীমা আছে। দেশের প্রতিটি রাজ্য শাসন করে একটি সরকার। যেমনটা পশ্চিমবঙ্গে। এখানেও একটি স্থায়ী রাজ্য সরকার আছে। তবে ব্যতিক্রম আছে অন্য এক রাজ্য সরকারের ক্ষেত্রেও। তিনি একজন রক্ত মাংসের মানুষ।
[নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে সরকারি গাড়ি ও নিরাপত্তা ছাড়লেন সিদ্দিকুল্লা]
উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের বাসিন্দা রাজ্য সরকার। এখন বয়স আশির আশেপাশে। গোটা ইটাহার ব্লক তাঁর নখদর্পণে। নামের দৌলতে যে তাঁর বাড়তি পরিচিতি ঘটেছে তা একবারের জন্যও গোপন করেননি তিনি। বাবা কেকারু সরকার কমিউনিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনিই ছেলের নাম রাখেন রাজ্য সরকার। “বাবা ভালবেসে এই নাম রেখেছিলেন। হয়তো এরকম ভাবনা ছিল, ছেলে রাজ্য শাসন করবে,” মত রাজ্য সরকারের।

বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন রাজ্যবাবু। ইটাহার ব্লকে সিপিআইয়ের পতাকা উত্তোলনের অন্যতম কারিগর তিনি। এবারের পঞ্চায়েত ভোটে বয়সের ভারে প্রচার করতে পারছেন না। পার্টির কাছ থেকে সাময়িক ‘ছুটি’ চেয়েছেন। বলছিলেন, “ইটাহার থানা এলাকার ছোট, বড় সবাই আমায় এক নামে চেনেন। সবাই ভালবাসেন। তৃণমূলের হাতে কোনওদিন আক্রান্ত হতে হয়নি। সেটা হয়তো নামের কারণেই। এবার পার্টি বারবার ডাকছে। কিন্তু অসুস্থতার কারণে প্রচারে যেতে পারছি না।” ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবন অতিক্রম করা এই কমরেডের ছেলে এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। নাম মাধব সরকার। প্রার্থী হয়েছেন ইটাহার ব্লকের পতিরাজপুর অঞ্চল থেকে। রাজ্যবাবুও একটা সময় পতিরাজপুর অঞ্চল থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতে জিতে প্রধান হয়েছিলেন। যার পর থেকে গোটা এলাকার মানুষ তাঁকে ডাকেন ‘রাজ্যদা’ বলেই।
[পঞ্চায়েত নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কলকাতার ধর্মতলা-কালীঘাটে সাজ সাজ রব]
এবারের ভোটে ইটাহার ব্লক থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনে প্রার্থী হয়েছেন মাধব সরকার। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাবার নামের মাহাত্ম্য আরও একবার টের পেয়েছি জানালেন তিনি। বলছিলেন, “বাবার নাম নিয়ে গর্ববোধ হয়। বাবার নাম যে শুনেছেন সেখান থেকেই আমি সম্মান পেয়েছি। প্রশংসা পেয়েছি। নিজেকে অনেক উঁচুতে মনে হয়। এমনকী, মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়েও বাবার নামের দৌলতে আলাদা খাতির পেয়েছি।” অসুস্থতার কারণে বাবাকে প্রচারে নিতে আগ্রহী নন ছেলে। কিন্তু বাবাকে সঙ্গে নিয়েই ভোট দিতে যাওয়ার ইচ্ছা। বলছিলেন, “রাজ্য সরকারের আশীর্বাদ আছে। আর কিসের চিন্তা।”
[দাদা প্রার্থী জেলা পরিষদে, বোন পঞ্চায়েত সমিতিতে]
সর্বশেষ খবর
-
স্রেফ কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিলই পরকীয়া প্রমাণে যথেষ্ট! বলছে সুপ্রিম কোর্ট
-
উঠছে নিষেধাজ্ঞা, তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেবে আমেরিকা! নয়া ‘বন্ধুত্বে’ কোন ‘কাঁটা’য় উদ্বিগ্ন ভারত?
-
বিশ্বের সর্বাধিক মুসলিমের বাস, সেই দেশের প্রাচীন মন্দিরে দাঁড়িয়ে হিন্দু ঐতিহ্য বাঁচানোর ‘শপথ’ মোদির
-
বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’! বছর পেরিয়ে মহদীপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে সোনালি বিবির স্বামী-সহ ৪
-
বিমানসংস্থার সঙ্গে ‘অবৈধ’ লেনদেন, তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ইডি