Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Jhargram

বাড়ছে প্রাণীবৈচিত্র, এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে মিলল ‘বিরল’ হানি বেজার! খুশি বনদপ্তর

প্রাণীবৈচিত্রে ঝাড়গ্রাম জেলা রাজ্য মানচিত্রে উপর দিকে। এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে মিলল 'বিরল' হানি বেজার। এশিয়ান এই হানি বেজারের ছবি উঠে এসেছে বনদপ্তরের ট্রাপ ক্যামেরাতে। রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত দ্বিতীয়বার ঝাড়গ্রামে এই বিরল প্রাণীর সন্ধান মিলেছে বলে বনদপ্তরের একটা অংশ মনে করছে।

Advertisement
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ২০:৪৮

link
সুনীপা চক্রবর্তী
সুনীপা চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ২০:৪৮

options
link
বাড়ছে প্রাণীবৈচিত্র, এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে মিলল ‘বিরল’ হানি বেজার! খুশি বনদপ্তর zoom
এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে মিলল 'বিরল' হানি বেজার।

প্রাণীবৈচিত্রে ঝাড়গ্রাম জেলা রাজ্য মানচিত্রে উপর দিকে। এবার ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে মিলল ‘বিরল’ হানি বেজার। এশিয়ান এই হানি বেজারের ছবি উঠে এসেছে বনদপ্তরের ট্রাপ ক্যামেরাতে। রাজ্যের মধ্যে সম্ভবত দ্বিতীয়বার ঝাড়গ্রামে এই বিরল প্রাণীর সন্ধান মিলেছে বলে বনদপ্তরের একটা অংশ মনে করছে। কয়েকদিন আগেই বেলপাহাড়ির বাঁশপাহাড়ির জঙ্গলে বনদপ্তরের ট্রাপ ক্যামেরাতে ভালুকের পাশাপাশি হানি বেজারের ছবি উঠেছে।

বনদপ্তরের সমীক্ষায় আগেই উঠে এসেছে উদ্ভিদ বৈচিত্র বাড়ার বিষয়টি। এবার গত বছরের পর ফের বনদপ্তরের ট্রাপ ক্যামেরায় ভালুকের ছবি এবং হানি বেজারের ছবি ওঠায় এবার প্রাণী বৈচিত্র বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও সামনে আসছে। ঝাড়গ্রাম জেলার বেলপাহাড়ির পাহাড়, জঙ্গল,নদী,ঝোড়া সম্বলিত বিশাল এলাকা প্রানী কুলের থাকার আদর্শ জায়গা।গত বছর দু’দফায় ওড়িশার শিমলিপাল থেকে বান্দোয়ান হয়ে জিনাত নামে বাঘিনীটি বেশ কয়েকদিন থেকে গিয়েছিল। গত কয়েকদিন আগে এই বেলপাহাড়ির ভুলাভেদা জঙ্গলে মিলছে ভালুকের অস্তিত্ব। বনদপ্তরের লাগানো ট্রাপ ক্যামেরায় ধরা পড়েছে হানি বেজারের ছবিও।

Advertisement

বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, “আমাদের এখানের জঙ্গলগুলিতে সার্বিকভাবে জীববৈচিত্র বেশ ভালো জায়গাতেই রয়েছে। উদ্ভিদের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের অবস্থানও ভালো রয়েছে। বনকর্মীরা প্রচুর কাজ করছেন। গত বছরও ভালুকের ছবি ট্রাপ ক্যামেরাতে উঠেছিল। এবার ভালুকের পাশাপাশি হানি বেজার নামে একটি বিরল জন্তুরও ছবি এসেছে আমাদের হাতে।

জানা গিয়েছে, এই হানি বেজার মূলত ছোট থেকে মাঝারি আকারের স্তন্যপায়ী প্রাণী। শরীর মজবুত, পা শক্তিশালী ও নখ ধারালো। লোম সাধারণত কালচে, পিঠের দিকে হালকা ধূসর/সাদাটে রঙের ছাপ থাকে। খুব সাহসী ও আক্রমণাত্মক,নির্ভিক স্বভাবের জন্য পরিচিত। পাওয়া যায় ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা সহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। জঙ্গল, ঘাসভূমি, পাহাড়ি এলাকা ও ঝোপঝাড়ে বসবাস করে। মাটির গর্তে বা পরিত্যক্ত প্রাণীর গর্তে আশ্রয় নেয়। এরা মূলত সর্বভুক। তবে মধু ও মৌমাছির লার্ভা খুব পছন্দ করে। ইঁদুর, সাপ, পোকামাকড়, ছোট পাখি ও ফলও খায়।

উল্লেখ্য, গত বছর ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর ৬০ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ২০ শতাংশ জমির উপর উদ্ভিদ (ফ্লোরা) নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। মোট ১২ রেঞ্জের ৩৬টি বিটে তিনদিনের সমীক্ষা হয়েছিল। উদ্ভিদ বৈচিত্র বাড়ছে, বহু বিরল প্রজাতির গাছের দেখা মিলেছিল বলে খবর। ৪৯টি বিপন্ন গাছ এবং ৪০ টি ক্লাইম্বার টি (আকশি যুক্ত গাছ) চিহ্নিত করা হয়েছিল। তাই ফ্লোরার (উদ্ভিদ) পাশাপাশি ফনা (প্রাণীকূল)ও বৃদ্ধি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বনদপ্তর মনে করছে আগের থেকে মানুষের মধ্যে সচেতনতা অনেকটাই বাড়চ্ছে। শিকার করার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। জঙ্গল বৃদ্ধি, জঙ্গলে খাদ্য এবং জলের সংস্থানও এই বৃদ্ধির জন্য অনুকূল বলে মনে করা হচ্ছে।

গত বছর ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর ৬০ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ২০ শতাংশ জমির উপর উদ্ভিদ (ফ্লোরা) নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। মোট ১২ রেঞ্জের ৩৬টি বিটে তিনদিনের সমীক্ষা হয়েছিল। উদ্ভিদ বৈচিত্র বাড়ছে, বহু বিরল প্রজাতির গাছের দেখা মিলেছিল বলে খবর।

বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা বলেন, “আমাদের এখানের জঙ্গলগুলিতে সার্বিকভাবে জীববৈচিত্র বেশ ভালো জায়গাতেই রয়েছে। উদ্ভিদের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের অবস্থানও ভালো রয়েছে। বনকর্মীরা প্রচুর কাজ করছেন। গত বছরও ভালুকের ছবি ট্রাপ ক্যামেরাতে উঠেছিল। এবার ভালুকের পাশাপাশি হানি বেজার নামে একটি বিরল জন্তুরও ছবি এসেছে আমাদের হাতে। আমি মানুষের উদ্দেশ্যে বলব জঙ্গল,বন্যপ্রান এবং মানুষের সহাবস্থান সুন্দরভাবে বজায় থাক। তাহলে আমরা সবাই ভালো থাকব।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.