শতবর্ষকে সামনে রেখে বীরভূমে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মহাবিস্তার পরিকল্পনা। তিন মাসে এক হাজার শাখা এবং কয়েক লক্ষ নতুন সদস্যের টার্গেট। সংঘের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর ব্লুপ্রিন্ট লক্ষ্যমাত্রা। কার্যত এক শতাব্দীর পথচলার প্রান্তে দাঁড়িয়ে জেলায় নতুন সাংগঠনিক বিস্তারের রূপরেখা আঁকছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ শতবর্ষ উদযাপন।
আর তাঁকে সামনে রেখে জেলায় সংগঠন সম্প্রসারণে বড়সড় কর্মসূচি নিয়েছে সংঘ। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলাজুড়ে এক হাজার নতুন শাখা গড়ে তোলা এবং কয়েক লক্ষ নতুন সদস্য যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যুবসমাজকে সংঘের আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা, নতুন স্বয়ংসেবক তৈরি এবং বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রাম ও শহর-উভয় ক্ষেত্রেই সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংঘ সূত্রের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শাখাভিত্তিক সাংগঠনিক কাজ শুরু হয়। তবে গত দেড় মাসে কার্যক্রমের গতি আরও বেড়েছে। এখন আগামী তিন মাসে শাখার সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বোলপুর ও বীরভূম এই দুই সাংগঠনিক জেলায় ১৩ থেকে ৬৫ বছর বয়সি স্বয়ংসেবকদের জন্য নিয়মিত মিলন, প্রারম্ভিক বর্গ এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে।
এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন সদস্যদের সংঘের আদর্শ, সংগঠনের কার্যপদ্ধতি ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।সংগঠনের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ, ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং বজরং দলের মাধ্যমে শিক্ষক, অধ্যাপক, শিক্ষাকর্মী ও যুবসমাজের মধ্যে সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা, প্রভাত সংঘস্থান, শ্রমসাধনা, সমাজজাগরণ সহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রমকে বিস্তৃত করা হচ্ছে।
মধ্যবঙ্গ প্রান্তের সম্পর্ক প্রমুখ শিবাজীপ্রসাদ মণ্ডল বলেন, “শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে। বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মেলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাজমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন মানুষ সংঘের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। সেপ্টেম্বরে যুব সম্মেলন রয়েছে। মণ্ডল যোজনার মাধ্যমে প্রত্যেক অঞ্চলে সংঘের বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি অনেকেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও যোগাযোগ করছেন।”
সংগঠনের দাবি, শিক্ষাক্ষেত্রেও তাদের উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। শিক্ষক-অধ্যাপকদের মধ্যে ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল ও অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ এবং পড়ুয়াদের মধ্যে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে যোগদানের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংগঠনের নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। লক্ষ্য, রাজ্যের অধিকাংশ স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক উপস্থিতি আরও সুদৃঢ় করা।তবে সংঘের জেলা পর্যায়ের কার্যকর্তাদের বক্তব্য, “সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় আমরা নেই। সমাজে সংগঠনের শক্তিকে সুসংহত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
দক্ষিণবঙ্গের সংঘচালক সিদ্ধান্ত মণ্ডল বলেন, “জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রারম্ভিক বর্গ শুরু হয়েছে। সেখানে নতুন স্বয়ংসেবকেরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং দেশমাতৃকার সেবায় আত্মনিয়োগের শিক্ষা অর্জন করছেন। সমাজসেবা ও দেশসেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! লজ্জার সিরিজ হার শ্রেয়সের ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের
-
জুলাই গণহত্যা মামলায় ঢাকার প্রাক্তন কমিশনার-সহ ৩ পুলিশকর্মীর মৃত্যুদণ্ড
-
৭ মাস পর খুলছে কাঁকিনাড়া জুটমিল, শিল্পের পুনর্জাগরণে খুশি ৩০০০ শ্রমিক