৫ ফাল্গুন  ১৪২৬  মঙ্গলবার ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 

Menu Logo মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সংগ্রাম সিংহরায় ও সৈকত মাইতি: প্রেমদিবসে আকাশছোঁয়া দাম গোলাপের। কুঁড়ির দামই প্রায় ৫০ টাকা। একটু ফুটে থাকলে ৬০ আর বড় ডাচ গোলাপ হলে ৭৫ টাকা পর্যন্ত দাম চাইতে কুণ্ঠা বোধ করছেন না শিলিগুড়ির গোলাপ ব্যবসায়ীরা। অনলাইনেও মিলছে চাহিদা মতো গোলাপগুচ্ছ। দশ থেকে কুড়ি পঁচিশ কিংবা পঞ্চাশটার দাম অবশ্য খানিকটা কম পড়ছে। তবু এক লপ্তে একগুচ্ছ গোলাপ কেনেই বা কতজন? ভালোবাসা দিবসের গোড়ায় গোলাপের সুগন্ধির চেয়ে কাঁটাতেই তাই রক্তাক্ত হচ্ছে শিলিগুড়ির আমজনতা। বিধান মার্কেট থেকে হাসমি চক, মহাবীর স্থান থেকে সুভাষপল্লি কিংবা চম্পাসারি, পাঁচ থেকে দশ টাকা তারতম্য হয়েছে বাজার ভেদে। তাছাড়া মোটামুটি হাফসেঞ্চুরি দামের কমে কোনও বিক্রেতাই ছাড়তে চাইছেন না ভ্যালেন্টাইন্স ডের প্রধান এবং প্রচলিত উপহার। একই অবস্থা তমলুকেও। তবে গোলাপের এই দামবৃদ্ধিতে নতুন করে পথচলার দিশা পাচ্ছেন কোলাঘাট, পাঁশকুড়ার ফুল চাষিরা।

ভালবাসার ফুলের বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজার এই ‘রোজ ডে’ থেকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। গত পনেরো-কুড়ি বছরে গ্লোবালাইজেশনের পাকেচক্রে এই দিনগুলি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়েছে। ফলে গোলাপের বাজার তৈরি হয়েছে এই সময়ে। শিলিগুড়ি ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক রমাপদ সেন জানিয়েছেন, জোগানে কোনও সমস্যা নেই। তবে এই মুহূর্তে পাইকারি দামটাও খানিকটা বেশি। কলকাতা থেকে যে ছোট গোলাপটি আসছে সেটি সাড়ে পাঁচশো থেকে ছ’শো টাকা ‘শ’ হিসেবে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে বেঙ্গালুরুর আমদানি করা ডাচ গোলাপ প্রতিটি হিসেবে কিনতে হচ্ছে পাইকারিতে ১৭-১৮ টাকায়। তবে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পার হলেই গোলাপের দাম আবার গড়ে ১০ টাকায় নেমে আসবে বলে তাঁর দাবি।

[ আরও পড়ুন: অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, সমবায় ব্যাংকে রাতভর তল্লাশি পুলিশের ]

চলতি বছর একাধিক বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে প্রায় সমস্ত রকমের ফুলেরই জোগান কমে যায়। কোলাঘাটের পাইকারি ফুলের বাজারে মাত্র দিন পনেরো আগেই যে গোলাপের দর প্রতি শতক পিছু ৭০ থেকে ৮০ টাকার আশাপাশ ঘোরাঘুরি করছিল। এখন ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র হিড়িকে সেই ফুলেরই দর হাঁকাচ্ছে সাড়ে ৭০০টাকা। অর্থাৎ প্রায় দশগুণ। আর ভিনদেশী ডাচ গোলাপের নাগাল পাওয়া তো বেশ মুশকিল। কোলাঘাটের ডেউলিয়া পাইকারি বাজারে ২০টি ডাচ গোলাপের বান্ডিল দেদার বিক্রি হয়েছে ৩৫০ টাকা করে। আর সেই গোলাপই আবার পাইকারি বাজার ছাড়িয়ে খুচরো বাজারে বিকোচ্ছে আরও প্রায় তিনগুণ চড়া দামে। আর শুধুই যে গোলাপের দর চড়া তা তো নয়। ভরা মরশুমে এই গোলাপের হাত ধরেই দাম চড়েছে মোরগঝুটি থেকে অনামী ঝুপসি ফুলেরও। গোলাপের বিকল্প হিসেবে মোরোগঝুটির বাজারও চড়ে হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

সর্বপরি ঘন কুয়াশার চাদর সরিয়ে ফের চড়তে শুরু করেছে ফুলের বাজার। আর তাতেই এখন আশায় বুক বাঁধছেন ফুল চাষি ও ব্যাবসায়ীরা। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটায় কিছুটা হলেও মুখে হাসি ফুটেছে তাঁদের। কোলাঘাট, পাঁশকুড়ার ফুল চাষিরা জানান, প্রত্যাশিত ভাবেই ভ্যালেন্টাইন্স ডেকে ঘিরে গোলাপ-সহ অন্যান্য ফুলের দর বেশ চড়া। ফলে বিগত কয়েক মাসের আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় এবার তাই অনেকটাই ক্ষতি পোষাতে পারবেন চাষিরা। সারা বাংলা ফুল চাষি ও ফুল ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক নারায়ণ নায়েক বলেন, পুজোর দিনগুলি ছাড়া বছরের অন্যান্য দিনগুলিতে এবছর সেভাবে দাম পাননি ফুল চাষিরা। কাজেই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফাঁড়া কাটিয়ে একদিকে বিয়ের লগ্ন ও অপর দিকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপলক্ষ্যে কিছুটা হলেও বাড়তি দাম মেলায় এখন খুশি বিস্তীর্ণ এলাকার ফুল চাষিরা।

[ আরও পড়ুন: সমাবর্তনে আমন্ত্রণ নয় কেন? পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে শোকজ ধনকড়ের ]

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং