BREAKING NEWS

১২ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৯  শুক্রবার ২৭ মে ২০২২ 

READ IN APP

Advertisement

Advertisement

দলের ভরসা হারাচ্ছেন সব্যসাচী, সরলেন বিধাননগরে প্রচারের দায়িত্ব থেকেও

Published by: Sucheta Sengupta |    Posted: March 31, 2019 9:23 am|    Updated: March 31, 2019 9:23 am

Sabyasachi Dutta is reduced from election campaign in his own ward at Bidhannagar

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: দ্বন্দ্ব অবশেষে প্রকট হল৷ বাইরে থেকে দলীয় নেতার সঙ্গে যথেষ্ট মিলমিশ দেখা গেলেও, শেষ পর্যন্ত ভরসা হারালেন বিধাননগরের তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত৷ তাঁর এলাকার সমস্ত নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল৷ বদলে বিধাননগর পুরসভার ওই সমস্ত ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব পেলেন স্থানীয় নেতা সুপ্রিয় চক্রবর্তী৷

[ আরও পড়ুন: কোচবিহারে বিজেপি প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে]

শনিবার বিধাননগরের এক কর্মিসভায় সব্যসাচী দত্তকে প্রচার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানান দমকল মন্ত্রী তথা নিউটাউনের বিধায়ক সুজিত বসু৷ তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘সব্যসাচী একজন বিধায়ক৷ নিজের কেন্দ্রের কাজ নিয়ে সবসময়ে ব্যস্ত থাকেন৷ ব্যস্ত মানুষকে আর আমরা বেশি ভার দিতে চাই না৷ বিধাননগর এলাকার কর্মীরা বেশ তৎপর৷ তাঁরাই ভোটের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে করতে পারবেন বলে বিশ্বাস আছে৷এখানকার নেতা সুপ্রিয় চক্রবর্তী আপাতত ৩১ নং ওয়ার্ড এবং সংলগ্ন এলাকার প্রচারের কাজ করবেন৷’’ এমনিতেই সল্টলেক-নিউটাউন এলাকায় সব্যসাচী বনাম সুজিতের অন্তর্দ্বন্দ্ব দলের কাছে তো বটেই, স্থানীয়দের কাছেও অজানা কিছু নয়৷ ক্ষমতা প্রদর্শন এবং দলের কাছে ভাল ইমেজ নিয়ে এই দুই নেতার মধ্যে গোড়া থেকেই প্রতিযোগিতা৷ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারবার দু’জনকে দ্বন্দ্ব মিটিয়ে একত্রে কাজ করতে সতর্ক করেছেন৷ আর সেই সতর্কতাকে গুরুত্ব দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নিজের নম্বর অনায়াসে বাড়িয়ে দিতে সফল সুজিত বসু৷ উপহার স্বরূপ, তাঁকে দমকল মন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷

  [ আরও পড়ুন: সম্প্রীতির নজির, মসজিদে মাইক বাজিয়ে হিন্দুর দেহ সৎকারের আরজি মুসলিমদের]

অন্যদিকে, সব্যসাচী দত্ত বিধাননগর পুরসভার চেয়ারম্যানও৷ সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে এখনও যে বেশ খানিকটা তিনি পিছিয়ে, সেই খবরও তৃণমূল সুপ্রিমোর কানে গিয়েছে৷ ফলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে ক্রমশই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন সব্যসাচী৷ তার উপর নির্বাচনের ঠিক আগে একদা ঘনিষ্ঠ সিনিয়র, তৃণমূলত্যাগী মুকুল রায়ের তাঁর বাড়ি যাওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি৷ মাসখানেক আগে পুরনো সম্পর্কের জের টেনে বিজেপি নেতা মুকুল রায় একদিন আচমকাই পৌঁছে গিয়েছিলেন সল্টলেকে সব্যসাচী দত্তর বাড়িতে৷ সেখানে তাঁকে আপ্যায়ণ করে লুচি-আলুরদম খাওয়ানো হয়৷ সাংবাদিকদের ক্যামেরায় এই ছবি ধরা পড়তেই তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে৷ নতুন সমীকরণের জল্পনাও উসকে উঠেছিল৷ তাহলে কি তৃণমূলে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়া সব্যসাচীকে নিজের দলে টানতেই একেবারে বাড়ি গিয়ে হাজির হয়েছিলেন মুকুল রায়? ভোটের আগেই কি বিজেপিতে পা রাখছেন সব্যসাচী? এসব প্রশ্নের মাঝেই রাজ্যের পুর-নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সাংবাদিক বৈঠক সমস্ত জল্পনা জল ঢেলে দেয়৷ ঘটনার ২৪ঘণ্টার মধ্যেই দলের বিধায়ককে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘মুকুল রায়ের আগমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলেও, দল ভাঙানোর কাজ সম্পূর্ণ ব্যর্থ৷ সব্যসাচী দলেই ছিলেন, দলেই থাকবেন৷’ এরপর সব্যসাচী দত্ত নিজেও বলেন, ‘মুকুল রায়ের সঙ্গে একসময়ে অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল৷ তবে তিনি দলত্যাগের পর শীর্ষনেতৃত্বের নির্দেশে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি দলের কেউই৷ কিন্তু মুকুল রায় পুরনো সম্পর্ক ঝালিয়ে নিয়ে নিতান্ত সৌজন্যবশত বাড়িতে এসেছিলেন৷ সেই সৌজন্য বজায় রেখেছিলাম আমিও৷ এর বেশি কিছু নয়৷’

   [ আরও পড়ুন: কমিশনকে থোড়াই কেয়ার! ভোটপ্রচারে অনুব্রতর দাওয়াই ‘নকুলদানা’]

সেদিনের সাংবাদিক বৈঠক যে তৃণমূলের এক বড়সড় কৌশল ছিল, তা প্রমাণিত হল শনিবার সুজিত বসুর ঘোষণায়৷ তাঁর উপর ভরসার কথা বললেও, ভিতরের দ্বন্দ্ব বেশ স্পষ্ট হয়ে গেল৷ বোঝা গেল, বিধাননগরের বিধায়কের উপর আর তেমন ভরসা নেই দলের৷ তাই এমনকী নিজের ওয়ার্ডের নির্বাচনী প্রচার থেকেও তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল৷

Sangbad Pratidin News App: খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
নিয়মিত খবরে থাকতে লাইক করুন ফেসবুকে ও ফলো করুন টুইটারে