Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
SIR

CAA-তে আবেদন করেও মেলেনি জবাব, SIR শুনানির ডাক পেয়ে চরম সিদ্ধান্ত শান্তিপুরের তাঁতির

সিএএ-তে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যেই এসআইআরের শুনানিতে ডাক পান। ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো? এদেশে থাকতে পারবেন তো স্বপরিবারে? সেই আশঙ্কা ক্রমাগত চেপে বসেছিল তাঁর উপর। এসআইআর আতঙ্কে 'আত্মঘাতী' হলেন এক তাঁতি।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ২০:১৬

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ২০:১৬

options
link
CAA-তে আবেদন করেও মেলেনি জবাব, SIR শুনানির ডাক পেয়ে চরম সিদ্ধান্ত শান্তিপুরের তাঁতির zoom
মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন মৃতের স্ত্রী। নিজস্ব চিত্র

সিএএ-তে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যেই এসআইআরের শুনানিতে ডাক পান। ভোটার তালিকায় নাম থাকবে তো? এদেশে থাকতে পারবেন তো স্বপরিবারে? সেই আশঙ্কা ক্রমাগত চেপে বসেছিল তাঁর উপর। এসআইআর আতঙ্কে ‘আত্মঘাতী’ হলেন এক তাঁতি। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুরে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী রাজনৈতিক তরজা।

এসআইআর আতঙ্কে বাংলার বিভিন্ন জায়গায় ‘আত্মঘাতী’ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এবার সেই তালিকায় যোগ হল নদিয়ার শান্তিপুর। মৃতের নাম সুবোধ দেবনাথ, পেশায় তাঁতি। বাড়ি শান্তিপুর শহরের ২ নং ওয়ার্ডের ঢাকাপাড়া এলাকায়। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন ধরে এসআইআর আবহে হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। ইতিমধ্যে ভারতের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য সিএএ-তে আবেদনও করেছিলেন। পরিবারের দাবি নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় এবং দেশ ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রীতিমতো হতাশায় ভুগছিলেন সুবোধবাবু।

Advertisement

পরিবারের লোকজন, এলাকার বাসিন্দারা, এমনকী তিনি যেখানে কাজ করেন সেই মালিকের কাছেও এই বিষয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো আজ, শনিবার সকালে চার নম্বর ওয়ার্ডে কামারপাড়া এলাকাতে তাঁত বুনতে গিয়েছিলেন সুবোধবাবু। জানা যায়, সেখানে অন্যান্য তাঁতিদের সঙ্গে তিনিও তাঁত বুনছিলেন। তখন অন্যান্য তাঁতিরা পাওয়ার লুমের মেশিন চালাতে অন্যত্র ছিলেন। কিছু সময় পরে তাঁদের নজরে আসে সুবোধবাবু কারখানার ঘরে নেই। কারখানার ঘরের মধ্যেই অন্ধকারময় একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে উঁকি মারতেই দেখা যায়, গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন সুবোধবাবু! এরপরেই চাঞ্চল্য ছড়ায় গোটা এলাকায়।

খবর দেওয়া হয় সুবোধবাবুর পরিবারকে। বাড়িতে কোনওরকম অশান্তি হয়নি বলে পরিবারের তরফে জানান হয়েছে। তাঁদের সন্তানও কাজকর্ম করে এবং তিনজনের সংসার ভালোই চলে। জানা গিয়েছে, বিএলও তাঁদের বাড়িতে এসআইআর-এর শুনানির নোটিশ সুবোধ এবং স্ত্রীকে দিয়েছিলেন। আগামী ১৯ তারিখ হিয়ারিংয়ের দিন ছিল। পরিবারের দাবি, হিয়ারিং নিয়ে রীতিমতো বিচলিত ছিলেন সুবোধবাবু। তিনি জানিয়েছিলেন, এরপরেও যদি তাঁর নাম বাদ যায়, পুলিশ যদি তাঁকে ধরে কী উত্তর দেওয়া হবে? রীতিমতো মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রানাঘাট পুলিশমর্গে পাঠিয়েছে শান্তিপুর থানার পুলিশ।

অপরদিকে এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এসআইআর আতঙ্কে আত্মহত্যা এটা একটা ট্রেডমার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনওরকম মৃত্যুকেই এখন এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ তৃণমূল বিধায়কের। শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, “সিএএ-তে আবেদন করেছিলেন সুবোধবাবু, তারপরও তার মধ্যে হতাশা ছিল। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে বাধ্য করছে বিজেপি সরকার।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.