চন্দ্রশেখর চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল: নিপা ভাইরাস ছড়িয়েছে আসানসোলে-এরকম বিভ্রান্তিমূলক একটি পোস্ট গত কয়েকদিন ধরে ঘোরাফেরা করছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইংরাজিতে লেখা ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে জ্বরজ্বালা নিয়ে আসানসোল জেলা হাসাপাতালে অনেকেই ভর্তি হয়েছেন। যাঁরা নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। হাসপাতালে শল্য চিকিৎসক রাহুল আমিনের নাম করে মিথ্যা কোটেশন দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার বাবুকে মিসলিড করে লেখা হয়েছে, তিনি নাকি বলেছেন লিচু ও অন্যান্য ফল খেয়ে আসানসোলবাসী এই এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, রমজান মাসে লাচ্ছা সিমুই খেয়েও অনেকে অসুস্থ হয়েছেন। যদি ওই খাবার এখনই বন্ধ না হয় হাজারও মানুষ মারা যাবেন বলে সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর এখনও প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে ওই মেসেজে দাবি করা হয়েছে।- ভাইরাল ভুয়ো এই বার্তা আসানসোল জেলা হাসপাতাল ও এক চিকিৎসকের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিষয়টিকে প্রথমদিক গুরুত্ব না দিলেও পরে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুলিশকে অভিযোগ জানানো হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে।

এই বিষয়ে শল্য চিকিৎসক রাহুল আমিন জানিয়েছেন তাঁর নাম করে ভুয়ো কোটেশন করা হয়েছে। কেউ বা কারা বিভ্রান্তি ছড়াতে এটা করেছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল সুপারকে বিষয়টি মৌখিকভাবে তিনি অভিযোগ করেছেন। সুপার জানিয়েছেন বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিককে তিনি জানিয়েছেন।স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিষ হালদার বলেন, তিনি জানতে পেরে পোস্টটি দেখেন। হাসপাতালকে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার করছে কেউ। তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা যে নেই তা সাধারণ মানুষও জেনে গিয়েছেন। তাই তাঁরা এখনই কিছু করছেন না। নিপা ভাইরাস কী এবং কেন হয় সেই সচেতনতার কাজ তাঁরা শুরু করবেন। শহরবাসীর মতে নিপা ভাইরাসের সঙ্গে লাচ্ছা সিমুইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও দুষ্টচক্র শহরে অশান্তি তৈরি করার জন্য এগুলি করছে। পুলিশ প্রশাসনের উচিত প্রকৃত অপরাধীকে চিহ্নিত করে গুজবকে কন্ট্রোল করা।
আসলে কী এই নিপা ভাইরাস? ‘হু’-এর রিপোর্ট অনুসারে নিপা বা নিভ প্রধানত বাদুড়জাতীয় পশুর থেকেই ছড়ায়। নিপা অপেক্ষাকৃত নতুন ভাইরাস যা অতি সহজেই বাদুড়জাতীয় তৃণভোজী প্রাণীর থেকে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। শুধুমাত্র বাদুড় নয়, নিপা শূকরের বর্জ থেকেও ছড়ায়। নিপা ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণ কী? চিকিৎসকদের মতে, নিপা ভাইসারের আক্রমণে মৃত্যুর আশঙ্কা শতকরা ৭০ শতাংশ। সাধারণভাবে প্রথমে জ্বর এবং মাথা যন্ত্রণা ও ঝিমুনিই এই রোগের লক্ষণ। পরবর্তী পর্যায়ে জ্বর বাড়ে ও সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন রোগী। এরপর ধীরে ধীরে কোমাতে চলে যায় সে। আর এরপর মৃত্যু অনিবার্য। এখনও পর্যন্ত এই রোগের চিকিৎসা বা প্রতিষেধক বাজারে আসেনি। ফলে, এর প্রকোপ সেভাবে আটকানো সম্ভব হয় না। তবে, এই নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে। তবে আসানসোলে এই ধরনের কোনও ভাইরাস এসে পৌঁছায়নি। গুজব ছড়াতেই একটি গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ।
সর্বশেষ খবর
-
নকশাল নেতা সরোজ দত্তর এনকাউন্টার দেখেছিলেন উত্তমকুমার! ন্যায়-প্রশ্নে বরাবরই বিদ্ধ পুলিশ
-
অসময়ে রথযাত্রা উদযাপন! ওড়িশা থেকে ইসকনের উৎখাত চেয়ে বিক্ষোভ কলিঙ্গ সেনার
-
সরকারি নির্দেশ অমান্য করে হকার উচ্ছেদ! আসানসোলের ৩ আধিকারিককে শোকজ
-
ঝাড়গ্রামে হাতির পাল, বন দপ্তরের কর্মীদের উপর হামলা! উলটে ফেলা হল গাড়ি
-
যত নষ্টের গোড়া আইপ্যাক! ঋতপন্থী তৃণমূলে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েই বিস্ফোরক অনুব্রত