বাবুল হক, মালদহ: কংগ্রেস সভাপতির সভায় মালদহের চাঁচোলের মাঠ ভরে গিয়েছিল কানায় কানায়৷ সেখানে প্রদেশ কংগ্রেসের স্ট্র্যাটেজি আর জনগণের আবেগ টের পেয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন রাহুল গান্ধী৷ ভোট ময়দানে সেই সুযোগ এতটুকুও হাতছাড়া করল না তৃণমূল৷ ঠিক দু’দিনের মধ্যে একই জায়গায় পালটা সভা করে কংগ্রেসের সমালোচনার জবাব দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রথম সারির নেতা শুভেন্দু অধিকারী৷
[ আরও পড়ুন: মাটির নিচে অস্ত্রভাণ্ডার! মুর্শিদাবাদে বাজেয়াপ্ত প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র, ধৃত ৩]
সোমবার দুপুরে চাঁচোলের কদমবাগান মাঠের সভায় যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সঙ্গে ছিলেন উত্তর মালদা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মৌসম বেনজির নূর৷ প্রসঙ্গত শনিবার রাহুলের নিশানায় ছিলেন কংগ্রেসত্যাগী তৃণমূলের এই প্রার্থী৷ তাই, এদিনের মঞ্চে তাঁকে পাশে দাঁড় করিয়ে বক্তব্য রাখাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ৷ শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ‘এরাজ্যে রাহুল গান্ধীকে প্রচারে আনা হয়েছে৷ কিন্তু তা বিজেপি বিরোধী প্রচার নয়৷ প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি মেনে তৃণমূল বিরোধী প্রচারই তিনি করে গিয়েছেন৷ তবে তাতে কোনও লাভ নেই৷ বিজেপির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াই জারি থাকবে৷’ মালদায় দলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী আগের প্রসঙ্গ তুলে আরও বলেন, ‘যখন মানিকচক, কালিয়াচকের সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হন, তখন কংগ্রেস নেতারা কোথায় ছিলেন? জনগণ সব বুঝে গেছেন৷ কংগ্রেস আসলে জনবিচ্ছিন্ন৷ সারাবছর মানুষের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ থাকে না৷’ ভোট মরশুমে কংগ্রেস নেতাদের দেখা যায় বলেও এদিন তোপ দেগেছেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী৷ বিজেপি হঠাওয়ের ডাক দিয়ে তাঁর মন্তব্য, যদি উন্নয়ন কেউ করতে পারে, সেটা তৃণমূল৷
[ আরও পড়ুন: গান গাওয়ার আবদার সমর্থকের, ভরা সভায় মেজাজ হারালেন শতাব্দী রায়়়]
এদিন শুভেন্দুর সভাতেও জমসমাগমের ছবিটা কংগ্রেস শিবিরে কপালে একটু হলেও ভাঁজ ফেলেছে৷ কদমবাগান মাঠ এদিনও ছিল তৃণমূল সমর্থকদের ভিড়ে ভরতি৷ গত শনিবার রাহুল গান্ধীর সভা ঘিরে ধুন্ধুমার হয়েছিল এই মাঠে৷ আর এদিন তেমন কোনও বিশৃঙ্খলাই চোখে পড়ল না৷ স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, এতেই বোঝা যাচ্ছে একদা কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতে এখন আর নিয়ন্ত্রণ নেই৷ ছন্নছাড়া সংগঠন৷ বরং গত লোকসভা ভোটে এই উত্তর মালদা কেন্দ্র থেকে জয়ী সাংসদ মৌসমকে তৃণমূল শিবিরে টেনে সেখানকারই প্রার্থীপদ দেওয়া হয়েছে৷ যাতে নিজের চেনা ঘাঁটিতে জনসমর্থন পেতে বিশেষ কসরৎ করতে না হয় গনিখান পরিবারের সদস্যকে৷ তবে কংগ্রেসের অন্দরের খবর, মৌসমকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে দেগে দিয়েছেন রাহুল৷ তাই তাঁকে হারাতে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে দল৷ উত্তর মালদা কেন্দ্রে মৌসমকে হারানো প্রদেশ কংগ্রেসের একটা বড় চ্যালেঞ্জ৷
সর্বশেষ খবর
-
একশোর বদলে পাঁচশোর নোটের টোপ! কমিশনের লোভে ব্যবসায়ী পেলেন সাদা কাগজের টুকরো
-
তৃণমূল জমানায় অবহেলা! দুর্যোগ-বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গকে স্বমহিমায় ফেরাতে আড়াইশো কোটি বরাদ্দ শুভেন্দুর
-
নিজের গড় রেজিনগরেই হারের ভয়! উপনির্বাচনে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূল মহাজোট চাইছেন হুমায়ুন
-
আপত্তি শুধু ‘সেক্যুলার’ কংগ্রেসের! নিয়ম মেনে বন্দে মাতরম পুরোটা দাঁড়িয়ে সম্মান আবদুল্লাদের
-
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে প্রার্থীই দিতে পারবে না তৃণমূল? সর্বদলীয় বৈঠকে গড়হাজিরায় উঠছে প্রশ্ন