একবিংশ শতকেও লিঙ্গ বৈষম্য ঘুচল না। কন্যাসন্তানের জন্ম অনেকের কাছে অপরাধের মতো। এভাবে এসে গেল আরও একটা নারী দিবস। সমাজে নারী-পুরুষের তফাতের মধ্যে নিজেদের মতো করে মাথা উঁচু করে এগোনোর চেষ্টা করছেন অনেকেই। বাংলার নানা প্রান্তে রয়েছে এমন অজস্র সম্ভাবনা। সেই অর্ধেক আকাশের খোঁজে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল। এই সব আন সাং হিরোইনদের নিয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন ‘তোমারে সেলাম’। আমাদের প্রতিনিধি পুরুলিার সুমিত বিশ্বাস, এমনই কিছু যোদ্ধার সঙ্গে আলাপ করালেন।
কারও হাতে লাঠি। কারও হাতে কুড়ুল। আবার কারও হাতে কাটারি। ‘হো-হো’ চিৎকার করে জঙ্গল ঘেঁষে হেঁটে চলেছেন ৬২ জন মহিলা। একবেলা-একদিন নয়। রাতদিন-সাতদিন। গোটা মাস-সারা বছর। যেন এক-একজন ‘ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাই’! এমনই তাঁদের মেজাজ। তবে তাঁরা কোনও যুদ্ধে শামিল নন।

আর্তের সহায়তায় সদা প্রস্তুত, রাসবিহারীর মোড়ে নিত্য সেবায় গীতা দে]
এভাবেই রণংদেহি মেজাজে লড়াই করে বছর দুয়েক ধরে ৮২ হেক্টর শাল, শিমুল, হরিতকী, বহেড়া, কুসুমের ঘন জঙ্গল বাঁচাচ্ছেন। লাঠি-কুড়ুল-কাটারি হাতে তাঁদের ‘হো হো’ চিৎকারে তটস্থ সকলেই। কাঠচোর থেকে কাঠ মাফিয়ারা। জঙ্গলের ধারে-পাশে আসার সাহস নেই কারও। এই নারীশক্তির একতায় জঙ্গলের একটা পাতা তুলতে এখন ভয় পান সকলে। পুরুলিয়ার আড়শা বনাঞ্চলের তিনটি গ্রামের মহিলারা এভাবেই অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জের চোরনাচর ডুংরির প্রায় ৮২ হেক্টর জঙ্গল আগলে রেখেছেন। সরকারি হিসাবে এক হেক্টর জমির পরিমাণ হল ৭.৫ বিঘা। অর্থাৎ ৬১৫ বিঘার জঙ্গলের সবুজ ফিরিয়ে আনার পুরো কৃতিত্ব পুরুলিয়ার এই প্রমীলাবাহিনীর। গ্রামের মেয়েদের এমন কাজে অভিভূত রাজ্য সরকারের বন দপ্তর এবং এলাকার বাসিন্দারা। নারী দিবসে এই ৬২ ‘বীরাঙ্গনা’-কে বিশেষ কুর্নিশ জানিয়েছে বন দপ্তর।
[মার খেয়ে বাড়ি ছেড়েও পড়া ছাড়েননি আলমিনা]

ফুল বেচে সংসার চালানো, অভাব হারিয়ে সাফল্যের ফুল ফোটাচ্ছে প্রিয়াঙ্কা]
কিন্তু হঠাৎ করে জঙ্গল বাঁচানোর কাজে কেন শামিল নারীশক্তি? অযোধ্যা পাহাড় রেঞ্জ বরাবর আড়শা বনাঞ্চলের এই চোরনাচর ডুংরির ৮২ হেক্টর জঙ্গলের কথা শুধু বন দপ্তর নয় এই এলাকার সকলেই জানেন। জানেন এই বনভূমির গরিমা। কিন্তু সেই জঙ্গলের ঘনত্ব যেন কমে আসছিল। সাফ হয়ে যাচ্ছিল জঙ্গল। একনজরে তাকালে সহজেই ধরা পড়ত জঙ্গলের করুণ ছবি। তাই বন দপ্তরের আড়শা বনাঞ্চল সিদ্ধান্ত নিল মহিলাদের নিয়ে বনসুরক্ষা কমিটি গড়বে। ব্যস, সিদ্ধান্ত মতোই কাজ। মাঠে নেমে পড়লেন আড়শা বনাঞ্চলের আধিকারিক শ্রীমন্ত মাঝি। ওই ডুংরি বরাবর চকেদাবাদ, শালগা-দুমদুমি, কামরজাড়া গ্রামের মহিলাদের ডেকে বৈঠক করে বোঝালেন এই জঙ্গলের দায়িত্ব তাদের হাতে নিতে হবে। জঙ্গলকে তাদের রক্ষা করতে হবে। বন দপ্তরের এই কথায় রাজি হয়ে গেলেন তাঁরা। সাতটি স্বনির্ভর দলের মহিলারা রীতিমতো কোমর বেঁধে বনপাহারার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে লাগলেন। ওই মহিলাদের নিয়েই তৈরি হয়ে গেল বনসুরক্ষা কমিটি। আর আজ তাদের পালা করে দিন-রাত পাহারায় ওই জঙ্গলের ঘনত্ব আগের চেয়ে বেড়ে গিয়েছে অনেক। তা শুধু খালিচোখে নয়। ধরা পড়েছে গুগল ম্যাপেও।

কামারশালার হাপর টেনেই সংসারের খিদে মেটান মঙ্গলা]
আড়শা বনাঞ্চলের আধিকারিক শ্রীমন্ত মাঝি বলেন,“আগেও এই জঙ্গল পাহারা দেওয়া হত। তখন পুরুষ বনসুরক্ষা কমিটিই পাহারা দিত। ফলে জঙ্গলে ঢুকে মহিলারা কাঁচা গাছ কাটলেও পুরুষরা কিছু বলতে পারতেন না। তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নিই এই জঙ্গল বাঁচাতে মহিলা বনসুরক্ষা কমিটি গড়ব। আজ সেই কাজ করায় সুফল মিলছে। দু্’বছরের মধ্যেই জঙ্গলের শ্রী ফিরে গিয়েছে।” দশজন মহিলা পাঁচ ঘণ্টা করে পাহারা দেন। এই পাহারার কাজে রয়েছেন আড়শা পঞ্চায়েত সমিতির খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা চকেদাবাদ গ্রামের বাসিন্দা কবিতা মাঝিও। তাঁর কথায়, “আমরা জঙ্গল পাহারার কাজ করতে-করতেই এলাকার সকলকে বলে দিয়েছি এখানকার গাছ কেউ কাটবেন না। যদি কাউকে এই কাজ করতে দেখা যায় তাহলে কড়া শাস্তি হবে।”
[খবরের ফেরিওয়ালা, সংসারের ছাতা হয়ে একাই ছুটে চলেন ফুলেশ্বরী]
সর্বশেষ খবর
-
স্পেনের এক গোলেই স্বপ্নভঙ্গ! বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিদায়ে মন খারাপ মহিষাদলের ‘রোনাল্ডোর গ্রামের’
-
‘ও ভালোই জানে, আসল বস কে’, নেতানিয়াহুর ভারত সফরের আগেই মনে করালেন ট্রাম্প
-
‘যদি পঞ্চাশটাও পরকীয়া থাকে…’, গোবিন্দাপ্রীতি দেখাতেই শিল্পাকে তুলোধনা সুনীতার
-
তারাতলা কাণ্ডে হতাহতের পরিবারকে অর্থ সাহায্য, বিনামূল্যে ওষুধ, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!
-
দূরপাল্লা-লোকাল ট্রেনের পর মেট্রো! ধূমপানে ২০০০, বিনা টিকিটে ৫০০, জরিমানা বাড়ল পাতাল পথে