বিপ্লব দত্ত, কৃষ্ণনগর: তিনি একজন গৃহবধূ। দুই সন্তানের মা। কিন্তু, তাতে কী! মানুষের পাশে থাকা, কার্যত রান্না-বান্না ফেলেও কারওর বিপদ -আপদে ছুটে যাওয়া। পারলে নিজের মানিপার্স থেকে সব টাকা দিয়ে বিপদগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করা। আর রয়েছে একগাল মিষ্টিমুখের হাসি নিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলা। তাঁর সম্পর্কে মানূষ বলেন, একজন মহিলার এমন অমায়িক ব্যবহার হতে পারে, তা ভাবাই যায় না। তার বাবার বয়সী এক বৃদ্ধের কথায়, ‘ওর ওই হাসিমুখ দেখে আর অমায়িক ব্যবহার অনেক দুঃখকেও মূহূর্তে ভুলিয়ে দেয় গো। আর তাই গ্রামসভায় আমি অন্য দলকে ভোট দিলেও জেলা পরিষদে আমি ওই মেয়েটিকেই ভোট দিয়েছি।’ আর এটাই হল ওই মেয়ে অর্থাৎ, গৃহবধূর মূল ‘অস্ত্র’। নদিয়া জেলা পরিষদে ৬৩ হাজার ৩৮৪ ভোটের ব্যবধানে জিতেছেন। বেসরকারি সুত্রে খবর, জেলা পরিষদে ৪৭টি আসনের মধ্যে তৃণমূলের জেতা ৪৫টি আসনের সব থেকে বেশি ভোটে জেতা একজন জয়ী প্রার্থী। তাও মহিলা। জেলা পরিষদে প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে এই বিপুল মার্জিনে জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন খোদ জেলার তৃণমূল নেতাদেরও।
[ভোট মিটতেই বদলে গেল রং, নদিয়াতে গেরুয়া শিবিরে যোগ ১০০০ কর্মীর]
গৃহবধূ বর্ণালী দে। বাড়ি নদিয়ার রানাঘাটের শ্যামনগরে। যদিও ভোটের ময়দানে তার পা দেওয়া এই প্রথম নয়। এরআগে রানাঘাট-২ নং পঞ্চায়েত সমিতিতে দাঁড়িয়েও ভালও ব্যবধানে জিতেছিলেন। রাজনীতিতে পা স্বামী আনন্দ দে-র পদাঙ্ক অনুসরণ করেই। আনন্দ দেও রানাঘাট-২ নং পঞ্চায়েত সমিতি থেকে জিতেছিলেন। সমাজসেবক বলেই তাঁর পরিচিতি। বড় ব্যবসায়ীও। যদিও বলেই ফেললেন, ‘এখন একটু লজ্জা পাচ্ছি। কারণ, আমি তো এবার ভোটে দাঁড়াইনি। দাঁড়িয়েছে আমার স্ত্রী বর্ণালী। ওর অমায়িক ব্যবহার, মিষ্টি হাসি আর মানুষের পাশে থাকার জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আশীর্বাদে জানতে পারলাম, জেলা পরিষদে সব থেকে বেশি ভোটে জিতেছে আমার স্ত্রী। আমি গর্বিত এই কারণে, এত মানুষ ওকে ভালবাসেন। এখন আমি নিজের পরিচয়ে নয়, বর্ণালীর স্বামী হিসাবে পরিচিত হই। তাই, একটু লজ্জা লাগে না তা নয়।’ জেলা পরিষদের ৪০ নং আসনের তৃণমূল প্রার্থী বর্ণালী দে-র এবারের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৯৭ হাজার। বিপক্ষে ছিল ছয়জন প্রার্থী। কে নেই তালিকায়? বিজেপি, সিপিএম, দুজন নির্দল, বিএসপি এবং এসইউসিআই। যদিও মিষ্টিমুখের হাসিতে ৩৭ বছর বয়সী বর্ণালী দে বললেন, ‘পঞ্চায়েত সমিতিতে প্রায় ২ হাজার ১০০ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৭৯৩ জন মানুষ ভোট দিয়েছিলেন। আমার এক ছেলে, এক মেয়ে। সতেরো বছরের বড় ছেলে আকাশ ভুবনেশ্বরের কিট ইউনিভার্সটিতে এমবিএ পড়ছে। মেয়ে অস্মিতা কলকাতায় থাকে। ক্লাস সিক্সে পড়ে। ওরা ভাল মানূষ হোক, এটাই চাই। মমতা বন্দোপাধ্যায়কে আদর্শ মেনে জেলা পরিষদে জেতার পর মানুষের জন্য আরও কাজ করব। এলাকার উন্নয়ন করব। আমার পাওয়া-চাওয়ার কিছু নেই। সবার জন্য কাজ করতে চাই।’ হয়তো এই মানসিকতা তাঁর ভোটাররা বুঝেছেন। তাই, জেলা পরিষদে তাকে জেলার মধ্যে সব থেকে বেশি ভোটে জিতিয়েছেন। স্বামী আনন্দ ব্যাবসায়ী। তৃণমূল কংগ্রেসের জেলার সাধারণ সম্পাদক। বর্ণালী মানেন একটাই কথা, যা শিখেছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে থেকে, ‘ভালবাসা দিয়ে সব জয় করা যায়। আমি চাই, শুধুই মানুষের কাজ করে যাব।’
[পঞ্চায়েত ভোট বাতিলের দাবিতে এবার আদালতের দ্বারস্থ বুদ্ধিজীবী মঞ্চ]
সর্বশেষ খবর
-
রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে তিকিতাকার জয়, সুপার সাব ম্যাজিকে বেলজিয়ামকে হারিয়ে সেমিতে স্পেন
-
মাঝরাস্তায় ট্যাঙ্কার থেকে ইথানল চুরি! বর্ধমানে সক্রিয় বড়সড় চক্র, সতর্ক পুলিশও
-
পকেটের চাপে অভিভাবকত্বে ব্রেক! বাংলায় কমছে প্রজনন হার, সমীক্ষার ফলাফলে উদ্বেগ
-
আগামী মাসে নদিয়া সফরে মুখ্যমন্ত্রী, প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি থাকবেন সরকারি অনুষ্ঠানেও!
-
একমাসে দ্বিতীয়বার! ফের বঙ্গে আসছেন শাহ, আগামী সপ্তাহে একগুচ্ছ কর্মসূচি