Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৭ ভাদ্র ১৪৩৩
  • মঙ্গলবার
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
Howrah Shootout

তপন দত্ত খুনে তথ্য গোপনেই তৃণমূল নেতাকে হত্যার চেষ্টা? বিস্ফোরক নিহত পরিবেশকর্মীর স্ত্রী

ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বাবু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বাসু চৌধুরির।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ১৯:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২৫, ১৯:৫৬

options
link
তপন দত্ত খুনে তথ্য গোপনেই তৃণমূল নেতাকে হত্যার চেষ্টা? বিস্ফোরক নিহত পরিবেশকর্মীর স্ত্রী zoom
Advertisement

অরিজিত গুপ্ত, হাওড়া: নিশ্চিন্দা বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দেবব্রত মণ্ডল ওরফে বাবু মণ্ডলকে গুলি করে খুনের চেষ্টার ঘটনায় নয়া মোড়। চাঞ্চল্যকর দাবি হাওড়ার নিহত তৃণমূল নেতা তথা পরিবেশ কর্মী তপন দত্তের স্ত্রী প্রতিমা দত্তের। তাঁর দাবি, ভয় দেখাতেই বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে। প্রতিমা দত্ত বলেন, ”তাঁর স্বামী তপন দত্তর খুনের মামলায় নাম জড়িয়েছিল পঞ্চায়েত প্রধান বাবু মণ্ডলের। কিন্তু পরবর্তীকালে চার্জশিট থেকে সেই নাম বাদ হয়ে যায়। নির্দোষ প্রমাণিত হন বাবু মণ্ডল।” তাঁর কথায়, ”সম্প্রতি সিবিআই তদন্তে গতি বাড়িয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।” কারোর নাম যাতে বাবু না বলে দেন, সেজন্য শুধুমাত্র ভয় দেখাতেই এই ঘটনা বলে দাবি প্রতিমা দত্তের। এমনকী দোষীদের আড়াল করতেই এই ঘটনা বলে বিস্ফোরক দাবি প্রতিমা দত্তের। এহেন মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।

অন্যদিকে এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে বাবু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বাসু চৌধুরির। ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে বাসুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধান বাবু মণ্ডলের ইমারতি দ্রব্য, মাছ ও জমি সংক্রান্ত ব্যবসা রয়েছে। আর এই সমস্ত ব্যবসায় বাসু চৌধুরির সঙ্গে বাবুর সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ, কয়েকমাস আগে মাছের ব্যবসার টাকাপয়সা নিয়ে তৃণমূল নেতার সঙ্গে বাসুর বচসা হয়। এমনকী দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয় বলেও দাবি। যা নিয়েই দু’জনের মধ্যে ব্যবসায়ীক শত্রুতা তৈরি হয়। সেই শত্রুতা থেকেই পঞ্চায়েত প্রধানকে গুলি করে খুনের চেষ্টা বলে মনে করছে পুলিশ।

Advertisement

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালনার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ শুক্রবার সকালে প্রকাশ্যে এসেছে। ইতিমধ্যে প্রকাশিত সিসিটিভি ফুটেজ থেকে বাসু চৌধুরিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যদিও ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত বাসু। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ও রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বালির সাঁপুইপাড়া মালিবাগান বুড়োশিবতলার রাস্তা দিয়ে যখন পঞ্চায়েত প্রধান বাইকে চেপে ফিরছিলেন তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়েছিলেন বাসু। বাইকটি চালাচ্ছিলেন অনুপম রানা নামে বাবুর এক দলীয় সঙ্গী। বাইকের পিছনেই বসেছিলেন বাবু মণ্ডল। আচমকাই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা বাসু চলন্ত বাইকটিকে থামিয়ে পকেট থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বার করে বাইক লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকে। গুলির আঘাতে বাইক থেকে পড়ে যান পঞ্চায়েত প্রধান।

সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যাচ্ছে, পঞ্চায়েত প্রধান রাস্তায় পড়ে গিয়েও উঠে বাসুকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষমেষ গুলির আঘাতে প্রধান রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর পরই এলাকা থেকে চম্পট দেয় বাসু। গুলির আঘাতে আহত হন বাবু মণ্ডলের সঙ্গী বাইক চালক অনুপম রানাও। জানা যায়, তৃণমূল নেতার বাঁ কাঁধে ও তলপেটে গুলি লাগে। সঙ্গী অনুপম রানারও বাঁ হাতে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় একটি অটোতে করে বাবু ও তাঁর সঙ্গীকে প্রথমে বেলুড় স্টেট জেনারেল হাসপাতাল, তার পর গোলাবাড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বাবু মণ্ডলকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ট্রমা কেয়ার ইউনিটে তাঁর চিকিৎসা চলে।

ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূলের সদর সভাপতি গৌতম চৌধুরি বলেন, ‘‘কোনও রাজনৈতিক কারণে এই গুলি চালনার ঘটনা ঘটেনি। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে এই গুলি চালনার ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে। আমরা বলেছি যেই দোষী হোক না কেন পুলিশ তাকে ধরুক।’’

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.