Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬

বেপরোয়া স্কুলবাসের গতিতে লাগাম টানতে স্পিড গভর্নর

দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গাড়ির অবস্থা দেখতে শহরের রাস্তায় স্কুলবাসের উপর নজরদারি চালানো শুরু হবে৷

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৬, ১৪:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০১৬, ১৪:৫২

options
link
বেপরোয়া স্কুলবাসের গতিতে লাগাম টানতে স্পিড গভর্নর zoom

স্টাফ রিপোর্টার: বেপরোয়া স্কুলবাসের গতিতে এবার লাগাম টানতে উদ্যোগী হল উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার৷ গত কয়েকদিন ধরে শহর এবং জেলায় একের পর স্কুলবাস দুর্ঘটনায় প্রশ্নের মুখে এসেছিল শিশুদের নিরাপত্তা৷ এবার সেই নিরাপত্তাকেই জোরদার করতে স্কুলবাসের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে প্রতি গাড়িতে জিপিএস বসানোর নির্দেশিকা জারি করা হল৷ পাশাপাশি স্কুলবাসের চাকার গতি নিয়ন্ত্রণে এক মাসের মধ্যে গাড়িতে স্পিড গভর্নর বসানো বাধ্যতামূলক করছে রাজ্য৷ দুর্ঘটনা এড়াতে এবং গাড়ির অবস্থা দেখতে শহরের রাস্তায় স্কুলবাসের উপর নজরদারি চালানো শুরু হবে৷ কলকাতা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচটি টিমে ভাগ হয়ে প্রতিটি স্কুলবাসের হাল হকিকত পরীক্ষা করে দেখবেন মোটর ভেহিক্যালস আধিকারিকরা৷ আপাতত কলকাতায় এই চেকিং করা হবে৷ তারপর প্রতি জেলায় ডিএম, এসপিদেরও তা করার নির্দেশ দেওয়া হবে৷ এক মাসের মধ্যে সমস্ত বেআইনি পুলকারকে আইনানুগ পদ্ধতিতে বৈধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ শনিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে স্কুলবাস এবং পুলকার মালিক সংগঠনের মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে একগুচ্ছ নির্দেশিকা দেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ জানানো হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হবে না৷ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত স্কুলবাসে স্পিড গভর্নর বসানো হবে৷ অন্যদিকে স্কুলবাসের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিপিএস সিস্টেম বসাতে হবে৷
পরিবহণমন্ত্রী এদিন বিকেলে বৈঠক শেষে বলেন, “সমস্ত বেআইনি পুলকারকে আইন মেনে রেগুলারাইজড করা হবে৷ কলকাতা পুলিশ এবং পিভিডি-র আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷ ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন৷ পুলকারের গতি নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের আইন মেনে স্পিড গভর্নর বসাতে হবে৷ বসাতে হবে জিপিএস পদ্ধতিও৷ যাতে স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীদের ওঠানামা থেকে শুরু করে গাড়ির গতিবিধি সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করা হবে৷ আমরা একটা টিম তৈরি করেছি৷ মোটর ভেহিক্যাল ইন্সপেক্টররা থাকবেন, পুলিশ থাকবে৷ কিছুদিনের মধ্যে থেকেই সেই টিম ব়্যান্ডম চেকিং শুরু করবে৷ তবে স্কুলের বাচ্চারা থাকাকালীন তা করা হবে না৷ ফাঁকা গাড়িতে চেকিং হবে৷ গাড়ির নম্বরও চেকিং হবে৷ রেজিস্ট্রেশনের সময় পারমিটের উপর টায়ার নম্বর লিখে দেওয়া হবে৷ টায়ার চেকিংয়ের সময় দেখা হবে সেগুলো ব্যবহারের উপযোগী কিনা৷”

suvendu_web

Advertisement

পরিবহণ সংক্রান্ত বৈঠকে যোগ দিতে যাচ্ছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷

শনিবার নেতাজি ইন্ডোরে৷ ছবি: অরিজিৎ সাহা।

কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, গাড়ি তো নিয়ন্ত্রণ করবে চালকরা, মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে কি সমস্যার সমাধান হবে? মন্ত্রী এদিন বলেন, “স্কুলবাস মালিকদের বলেছি, ড্রাইভারদের ট্রেনড করার জন্য আপনারা উদ্যোগ নিন৷ প্রয়োজনে এবিষয়ে বিশেষজ্ঞরা গিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেবেন৷ ওয়ার্কশপ করুন৷ চারটে সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে সে কথা জানিয়েছি৷” এদিকে একের পর এক স্কুলবাস দুর্ঘটনায় কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরু‌দ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী৷
আর জি করের কাছে যে স্কুলবাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে সেটি মুর্শিদাবাদের রেজিস্টার্ড হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে৷ পাশাপাশি দেখা যায়, সেটি ১৫ বছরের পুরনো গাড়ি৷ ফলে কলকাতায় ঢোকার কথা নয়৷ এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “শুক্রবার যে স্কুলবাসটি দুর্ঘটনায় পড়েছে সেটির কলকাতায় ঢোকার কথা ছিল না৷ মুর্শিদাবাদের সিএফ করানো ছিল৷ আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি৷ প্রতিটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তার বিরু‌দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷”
অনেক স্কুল আছে যাদের নিজেদেরই গাড়ি রয়েছে৷ সেই গাড়িতেই স্কুলের বাচ্চারা যাতায়াত করে৷ সেই সমস্ত গাড়ির প্রসঙ্গে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “স্কুলগুলোকে রেজিস্টার্ড, পারমিটযুক্ত বৈধ গাড়িতে ছাত্রছাত্রীদের আনা-নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হচ্ছে৷” বৈঠক শেষে বেরিয়ে স্কুল বাস সংগঠনের নেতা হিমাদ্রি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বৈঠক খুব ভাল হয়েছে৷ মন্ত্রী বেশ কিছু নির্দেশিকা দিয়েছেন৷ সেগুলো মানা হবে৷ পাশাপাশি চালকদেরও আরও প্রশিক্ষিত করার জন্য কর্মশালা করানো হবে৷”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.