সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজ্যজুড়ে খুন, হামলা, মারধরের ঘটনা লেগেই রয়েছে৷ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রাণহানিও ঘটেছে৷ তবে এবার রাজনীতির বলি এক খুদে৷ অভিযোগের তির বিজেপির দিকে৷ ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরের কেওশা কলোনি৷
[ আরও পড়ুন: পরপর খুনের রহস্যভেদ, পুলিশের জালে কালনার ‘চেন কিলার’]
অশোকনগর থানার শ্রীকৃষ্ণপুর পঞ্চায়েতের কেওশা কলোনি এলাকার বাসিন্দা শিখা গঙ্গোপাধ্যায়৷ তাঁর মাসদুয়েকের কন্যাসন্তান রয়েছে৷ গৃহবধূর স্বামী রবি গঙ্গোপাধ্যায় কাজের সূত্রে ভিনরাজ্যে থাকেন। দম্পতি সক্রিয় তৃণমূল কর্মী হিসাবে পরিচিত৷ গৃহবধূর অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর জন্য শিখাকে জোর করা হয়। কিন্তু তিনি রাজি হননি৷ অভিযোগ, বিজেপি নেতাকর্মীরা তারপর থেকেই দম্পতির সঙ্গে অসহযোগিতা করতেন৷ নানাভাবে গৃহবধূর উপর অত্যাচারও করা হত। শনিবার দুমাসের কন্যাসন্তানকে তিনি খাওয়াচ্ছিলেন৷ সেই সময় তাঁর দুই ননদ এবং অন্য আত্মীয়দের মদতে বড় ভাশুর, বিজেপি নেতা সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। গৃহবধূর আরও দাবি, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এসবের মাঝে পড়ে যায় শিখাদেবীর বাচ্চাটি৷ আঘাত পায় সে৷ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাবড়া হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়৷ সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে এই প্রথমবার নয়, এর আগেও একাধিকবার শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরা তাঁর উপর অত্যাচার করে বলেই অভিযোগ৷
[ আরও পড়ুন: পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে তোলাবাজি! পুলিশকে বেধড়ক মার ব্যবসায়ীদের]
এই ঘটনায় অশোকনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই গৃহবধূ। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান রফিকুল হাসানও মহিলার সুরে সুর মিলিয়েছেন৷ তাঁর অভিযোগ, ‘‘লোকসভা নির্বাচনে ফলপ্রকাশের পর থেকে বিজেপি নানাভাবে মানুষের উপরে অত্যাচার শুরু করেছে। তারই এক মর্মান্তিক পরিণতি হল শিখা গঙ্গোপাধ্যায়ের একমাত্র কন্যাসন্তানের মৃত্যু৷’’ যদিও শিশুমৃত্যুর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগসাজশকে আমল দিতে নারাজ বারাসত সাংগঠনিক জেলার বিজেপি মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ভাস্বতী সোম৷ পরিবর্তে শিশুমৃত্যুর জন্য দুই পরিবারের সম্পত্তিগত বিবাদকেই দায়ী করেছেন তিনি৷