৩ শ্রাবণ  ১৪২৬  শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯ 

Menu Logo বিলেতে বিশ্বযুদ্ধ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

সুমিত বিশ্বাস,পুরুলিয়া: ‘দ্বিতীয় হুল যদি না চান অযোধ্যা থেকে চোখ সরান।’ হুল দিবসের প্রাক্কালে পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের মাথায় থাকা টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে রাজ্য সরকার তথা জেলা প্রশাসনকে চরম হুঁশিয়ারি দিল আদিবাসীদের একটি সামাজিক সংগঠন। মঙ্গলবার টুরগা প্রকল্পের বিরোধিতায় আদিবাসীদের ওই সামাজিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল জেলাশাসককে গণ ডেপুটেশন দেয়। টুরগা নিয়ে প্রতিবাদের ভাষা আর অযোধ্যা পাহাড়ের দেওয়ালে নেই। ওই সামাজিক সংগঠন ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের বিরোধিতায় জেলার ব্লকে-ব্লকে ডেপুটেশন দিয়েছে। এবার জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে টুরগা নিয়ে তাদের বার্তা একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছে।

৩০ জুন হুল দিবসেও কর্মসূচি রয়েছে আদিবাসীদের। সেদিন এই প্রকল্পের বিরোধিতায় বাইক মিছিল হবে রঘুনাথপুরে। মঙ্গলবার রবীন্দ্র ভবনের কাছ থেকে মিছিল করে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জমায়েত হন আদিবাসীরা। টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতায় কিঁদরির সুরে গান গেয়ে  প্রতিবাদ জানানো হয়। পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয় পুরুলিয়ার জেলাশাসককে । সংগঠনের জেলা পারগানা রতনলাল হাঁসদা বলেন. “টুরগা প্রকল্প কোনভাবেই করা যাবে না। ওই প্রকল্প হলে সেখানকার আদিবাসীদের জীবন-জীবিকায় ক্ষতি হবে। কারণ ওই এলাকার আদিবাসী মানুষজন প্রাকৃতিক সম্পদের ওপরই নির্ভরশীল। তাছাড়া এই প্রকল্প হলে গাছ যেমন কাটা যাবে তেমনই বন্যপ্রাণ বিপদের মুখে পড়বে। পরিবেশ তার ভারসাম্য হারাবে।”

[ আরও পড়ুন: প্রতিবাদের ভাষা শেখালেন কিশোরী, প্রকাশ্যে ইভটিজারকে জুতোপেটা স্কুল ছাত্রীর]

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের টুরগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটি এখন উচ্চআদালতে বিচারাধীন। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত এই প্রকল্পে স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত। এদিন ওই সামাজিক সংগঠনের পাঁচ দফা স্মারকলিপি নেওয়ার পর জেলাশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, “এই বিষয়টি এখন আদালতে রয়েছে। এই স্মারকলিপি যথাস্থানে পাঠিয়ে দেব।” তবে জেলাশাসকের কাছে দাবি পেশ করতে পেরে খুশি আদিবাসীদের সংগঠনের নেতারা। এদিন জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাদের এই অবস্থানে শামিল হয়েছিলেন মহিলারাও। হাতে তির-ধনুক নিয়ে তাঁদের দাবি একটাই, আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে টুরগা পাওয়ার প্রকল্প করা যাবে না। হাতে-হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘অরণ্য ধ্বংসকারী টুরগা পাওয়ার প্রজেক্ট চাই না। সেইসঙ্গে তাদের আওয়াজ, পুরুলিয়ার তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৫২ ডিগ্রি হতে দেব না, পুরুলিয়াবাসী যদি বাঁচতে চান তাহলে অযোধ্যাকে বাঁচান।’

অযোধ্যা পাহাড়ের মাথায় থাকা টুরগা ঝরনাকে ঘিরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। যার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০১৬ সাল থেকে। এখন এই প্রকল্প নিয়ে সরব এই সামাজিক সংগঠন-সহ একাধিক সংস্থা৷ পরিবেশ ও বন্যপ্রাণ নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলিও রীতিমতো গলা ফাটাচ্ছে। বলা যায় টুরগার বিরোধিতায় রীতমতো ফুঁসছে অযোধ্যা পাহাড়। তবে বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও এই প্রকল্পে স্টেজ টু-র অনুমোদন দেয়নি কেন্দ্র সরকার। আদালতেও স্থগিতাদেশ থাকায় এই প্রকল্পে কত গাছ কাটা পড়বে তার চূড়ান্ত সমীক্ষা এখনও করেনি বনদপ্তর৷ সবমিলিয়ে এই প্রকল্প নিয়ে আপাতত ধীর গতিতে এগোচ্ছে ইউজার এজেন্সি ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। তবে পুরুলিয়া বনবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে যে সমীক্ষা হয়েছিল তাতে যে এলাকাকে ঘিরে টুরগা জলপ্রকল্প হওয়ার কথা সেখানে ওষুধ-সহ হাজারদুয়েক গাছ ছিল। কিন্ত এখন জঙ্গল বেড়েছে। ফলে গাছের সংখ্যা হাজার দশেক ঠেকলেও অবাক হবে না বনদপ্তর। যদিও আন্দোলনরত সংগঠনগুলির দাবি, এই প্রকল্প হলে দশ হাজারেরও বেশি গাছ কাটা পড়বে। বনদপ্তর প্রকৃত তথ্য দিতে চাইছে না বলেও অভিযোগ৷

[ আরও পড়ুন: বিধায়ক দলে যোগ দিতেই বনগাঁয় বিক্ষোভ মিছিল বিজেপি কর্মীদের]

তবে প্রাথমিক সমীক্ষায় বনদপ্তরের দাবি, যে এলাকায় টুরগা জল প্রকল্প হবে সেখানে ৫৮০ রকমের পাখি আছে। আছে ৪৮৬ রকমের বন্যপ্রাণ। রাজ্যের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাহাড়ের টুরগা নালা বা ঝরনাকে কাজে লাগিয়ে মোট ২৯২ হেক্টর জমিতে জাপানের আর্থিক সহায়তায় প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে আড়াইশো মেগাওয়াট করে চারটি ইউনিটের প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ২৯২ হেক্টর জমির মধ্যে অধিকাংশই বনভূমি। আর তাতেই সরব পাহাড়ের আদিবাসী মানুষজন। ওই বনভূমির পরিমান ২৩৪ হেক্টর। সরকারি খাস ৩৪ হেক্টর ও রায়তি জমি নিতে হবে প্রায় ২৪ হেক্টর। এই প্রকল্পও বাঘমুন্ডিতে থাকা পুরুলিয়া পাম্পড স্টোরেজ প্রজেক্টের আদলেই তৈরি হবে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং