BREAKING NEWS

২৮ আশ্বিন  ১৪২৭  বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০ 

Advertisement

বারাণসীকে পথ দেখাচ্ছে বাংলা, বেলুড়ের কলেজে বেদান্ত পড়াচ্ছেন শামিম আর সংস্কৃত রমজান

Published by: Soumya Mukherjee |    Posted: November 22, 2019 5:51 pm|    Updated: November 22, 2019 6:35 pm

An Images

বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বারাণসী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরোজ খানের সংস্কৃত পড়ানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হচ্ছে। যার প্রতিবাদে সরব হয়েছে গোটা দেশ। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের সমালোচনা করেছেন বিজেপি সাংসদ পরেশ রাওয়ালের মতো ব্যক্তিত্বও। এমন সময় রামকৃষ্ণ ও স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে পরিচালিত বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। মনুষ্যত্বের আদর্শে পরিচালিত ওই কলেজে সংস্কৃত ও বেদান্ত দর্শন পড়াতে দেখা গেল মুসলিম সম্প্রদায়ের দুই শিক্ষককে। ওই দুই শিক্ষক হলেন রমজান আলি ও শামিম আহমেদ।

[আরও পড়ুন: লেগিংস বিতর্কের জেরে বন্ধ হয়ে গেল বোলপুরের স্কুল, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ]

বহুদিন আগে বাংলার বিখ্যাত কবি বড়ু চণ্ডীদাস লিখে গিয়েছিলেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ আজ ২০১৯ সালে দাঁড়িয়েও সেই আদর্শকে নিজেদের ট্যাগলাইন বানিয়েছে হাওড়া জেলার বেলুড়ের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর তাই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামানো হয় না এখানে। শুধু লক্ষ্য রাখা তাঁদের মেধা, আচরণ ও পড়ানোর ক্ষমতার দিকে। তাই দীর্ঘদিন ধরে এখানকার পড়ুয়াদের বেদান্ত দর্শন পড়াতে কোনও সমস্যা হচ্ছে না শামিম আহমেদের।

একই অবস্থা কয়েকদিন আগে ওই কলেজের সংস্কৃত বিভাগে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়া রমজান আলিরও। কলেজ সার্ভিস কমিশন তাঁর নাম পাঠানোর পর কোনও সমস্যা ছাড়াই ক্লাস শুরু করেছেন তিনি। তাঁর কাছে ক্লাস করে খুশি হয়েছে পড়ুয়ারাও। তবে এই বিষয়ে আলাদা করে তাদের কোনও অনুভব নেই। কারণ, এর আগেও রসায়ন থেকে পরিসংখ্যান এমনকী দর্শন বিভাগেও মুসলিম শিক্ষকের কাছ থেকে পাঠ নিয়েছে তারা। ফলে এর মধ্যে নতুনত্ব কিছু খুঁজে পাচ্ছে না।

[আরও পড়ুন: বিজেপি করার ‘অপরাধ’, ধানে আগুন লাগানোর অভিযোগে কাঠগড়ায় তৃণমূল]

বিষয়টি নিয়ে গর্ব বা অহংকার করতে চাইছে না বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির কর্তৃপক্ষও। রামকৃষ্ণ, সারদা ও বিবেকানন্দের আদর্শ মেনে আজও প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই অনন্ত দেবত্বের প্রকাশ দেখে তারা। আর তা বিকশিত করার লক্ষ্যেই কাজ করে। রামকৃষ্ণ দেবের ‘যত মত তত পথ’-এর আদর্শ মেনে আগামীতেও তাই করতে চায়।

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement