Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনে স্মৃতিকাতর হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর নামে ভবন গড়ার প্রস্তাব মমতার

ভারত-বাংলাদেশ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বারবার স্মরণ করলেন হাসিনা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০১৮, ১৩:৫২

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ২৫, ২০১৮, ১৩:৫২

options
link
বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনে স্মৃতিকাতর হাসিনা, বঙ্গবন্ধুর নামে ভবন গড়ার প্রস্তাব মমতার zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিশ্বভারতীর সমাবর্তনের শেষে কথামতো উদ্বোধন হল বাংলাদেশ ভবনের। পরিকল্পনা আগেই হয়েছিল। কাজ সারা হওয়ার পর সেজে উঠেছিল ভবনটি। শুক্রবার দুপুরে সেটির উদ্বোধন করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই রীতিমতো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

এদিন গোড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অটুট। বারবারই তার প্রমাণ মিলেছে। কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের যেমন জাতীয় কবি, তেমনই ভারতেও তিনি সমান আদৃত। মমতা জানান নজরুল ইসলামের নামে এ বাংলায় এয়ারপোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, অ্যাকাডেমি ও তীর্থ তৈরি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নামে একটা ভবনও করতে চান বলে আজ প্রস্তাব রাখেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

DeBoPDKU0AITTzg

এরপর বক্তব্য রাখতে উঠে স্মৃতিমেদুর হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। বলেন, “বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন করার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত। কবিগুরুর হাতে গড়া এই শান্তিনিকেতন। এ তো শুধু ভারত বা পশ্চিমবঙ্গের নয়। আমাদেরও। কবিগুরুর অধিকাংশ কবিতা বাংলাদেশে বসেই লেখা। আমাদের অধিকার তাই একটু বেশি আছে বলেই মনে করি।” এদিন হাসিনার কথায় ফিরে ফিরে আসে বহু ঘটনার স্মৃতি। ১৯৯৯ সালে তাঁকে বিশ্বভারতী থেকে দেশিকোত্তম দেওয়া হয়েছিল। সেই কথা বারবার মনে পড়ছিল তাঁর। বললেন, “বিশ্বভারতীর সঙ্গে সম্পর্ক পুরনো। পড়ার সুযোগ হয়তো পাইনি। তবু আত্মার মিল রয়ে গিয়েছে। এটাকে আমি নিজের বিশ্ববিদ্যালয় বলেই মনে করি। প্রকৃতির কাছে থেকে বৃহত্তর বিশ্বের কাছে নিজেকে মেলে ধরার জন্য এই শান্তিনিকেতন গড়ে তুলেছিলেন। তোমার কীর্তির চেয়ে তুমি যে মহৎ-এ কথাই বারবার মনে হয় তাই।”

 ‘মন্দিরে আসার মতোই অনুভূতি হচ্ছে’, বিশ্বভারতীতে বাংলায় কথা বলে মন জয় মোদির ]

২০১০ সালে ভারত সফরের সময়ই বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সারা হয়। তারপরই ভবনটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রকৃতির সঙ্গে শান্তিনিকেতনের যে মেলবন্ধন তা মাথায় রেখেই ভবনের নকশা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ প্রসঙ্গেই হাসিনার মনে পড়ে যায় বাবার কথা। বললেন, “বাবাকে তো খুব কমই পেয়েছি। বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। যখন বাইরে থাকতেন মাঝেমধ্যে আমরা আমাদের গ্রামের বাড়িতে যেতাম। স্টিমারে করে যেতে হত। তো ওই স্টিমারের ডেকে বসে বাবা কবিতা আবৃত্তি করতেন। রবি ঠাকুরের কত কবিতা যে বাবার মুখে শুনেছি!” বাবার স্মৃতিতে বুঁদ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারও আমাদের রক্ত দিয়ে অর্জন করতে হয়েছে। বাবা যখনই কোনও সংকটে পড়তেন তখনই উচ্চারণ করতেন, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে…। তাঁর দরাজ গলায় শোনা যেত, উদয়ের পথে শুনি কার বাণী। আজ এই বয়সে এসে অনুধাবন করতে পারি, কথাগুলো কতটা সত্য।”

DeBimD_UQAIkMrY

বাবার সূত্রেই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুতার ঐতিহাসিক সম্পর্কটিকে একবার ঝালিয়ে নেন হাসিনা। বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতবর্ষ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। খাবার, চিকিৎসার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছিল। ইন্দিরা গান্ধী-সহ সারা ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁদের কথা স্মরণ করি। দলমত নির্বিশেষে মুক্তিকামী বাংলার পাশে ভারতের সবাই যে পাশে ছিলেন, তা কখনওই ভোলা যায় না।”

কিছুদিন আগেই দুই দেশের ছিটমহল বিনিময় হয়েছে। হাসিনা বলছেন, তাঁর স্মৃতিতে ফিরে আসছিল একাত্তরের স্মৃতি। তখন যেভাবে গোটা ভারত এক হয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তেমনই এবারও এক হয়ে ছিটমহল বিনিময়ে সাহায্য করেছে।  তাছাড়া ছিটমহল বিনিময় নিয়ে যুদ্ধ লেগেই থাকে। ভারত ও বাংলাদেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ছিটমহল বিনিময় করেছে। হাসিনার মতে, গোটা বিশ্বে তা একটা দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “মনে হয়েছিল একাত্তর যেন ফিরে এসেছে। এভাবেই দুই প্রতিবেশী দেশ এক হয়ে চলতে চাই। দুটো আলাদা দেশে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা তা সমাধান করে ফেলতে পারি বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশেই। উন্নত, ক্ষুধামুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত করতে হবে বাংলাদেশকে। আমাদের শত্রু একটাই, সেটা হল দারিদ্র।”

স্মৃতিমেদুর হাসিনা এদিন ফিরে গেলেন ১৯৭৫ সালের কথাতেও। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে তখন একটু একটু করে গড়ে তুলছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই সময় তাঁকে ও তাঁর পরিবারের প্রায় প্রত্যেককে হত্যা করা হয়। যাঁরা কোনক্রমে বেঁচে ছিলেন তাঁরা ভারতেই এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। হাসিনারা দুই বোন সে সময় জার্মানিতে ছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী তাঁদের খবর নেন। থাকার সুযোগ করে দেন। আজ হাসিনা বললেন,  সেদিন ভারতের স্নেহছায়া না পেলে জীবন কোনদিকে কী মোড় নিত তা জানতেন না। হাসিনা বলেন, “আজও চেষ্টা করছি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছি। এখন আমার একটাই কাজ, বাবা যে কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন তা শেষ করা।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.