নন্দন দত্ত, সিউড়ি: স্ক্রুটিনি শেষ। উধাও ভূতুড়ে প্রার্থীরা। তৃণমূল জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের দাবি, ভূত পালিয়েছে। এবার গ্রামে গ্রামে ‘মশা’ খুঁজতে নামবে দল। বাঁশবনে, জমা জলে কোথায় মশা লুকিয়ে আছে দূরবীন নিয়ে তাঁর লোকেরা খুঁজতে নামবে। যেখানে মশা থাকবে স্প্রে করবে ছেলেরা। তবে যাঁরা মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই তফসিলির আসনে সাধারণ। উপজাতি মহিলার আসনে তফসিলির শংসাপত্র ছাড়া মনোনয়ন দাখিল করা হয়েছিল। এটা যে হবে তা বিরোধীদের জানা ছিল বলে খবর। তবে স্ক্রুটিনিতে বাদ যাওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। শাসকদলের প্রশ্ন, যারা সঠিকভাবে মনোনয়ন পেশ করতে পারে না, তারা ভোট চায় কী করে? যদিও বিরোধীদের দাবি, দাখিল করা মনোনয়ন তো তাদের ছিল না। নির্বাচন কমিশনের কাছে মুখ বাঁচাতে উধোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে সংখ্যা বাড়ানোর কৌশল নিয়েছিল শাসকদল। তাই স্বাভাবিকভাবেই ভূতুড়ে প্রার্থীরা বাদ গিয়েছে।
[পঞ্চায়েত ভোটে একই আসন দখলের লড়াইয়ে পরিবারের ৩ বধূ]
বীরভূমে প্রথম দফার মনোনয়নে বিরোধীশূন্য ছিল জেলা পরিষদ। ১৯টি ব্লকের মধ্যে ১৫টি ব্লক ও ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বেশিরভাগ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয় শাসকদল। সে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তারপরেই স্ট্র্যাটেজি বদল। গত ২৩ তারিখ বাড়তি মনোনয়ন পেশের দিনে জেলা জুড়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে ১২৮টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ২৭টি ও জেলা পরিষদের ১৩টি আসনে মনোনয়ন জমা পড়ে। যদিও বিরোধী দলের দাবি, উন্নয়ন লাঠি হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল। গ্রামে গ্রামে মশা মারার ওষুধ স্প্রে করেছিল অনুব্রত মণ্ডলের বাহিনী। তাতে মনোনয়ন পেশ করা তো দূরে থাক, ধারে পাশে ঘেঁষতে পর্যন্ত পারেনি কেউ। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মনসা হাঁসদা বলেন, ‘বর্ধিত দিনে আমাদের চারজন জেলা পরিষদের প্রার্থী সিউড়িতে জেলাশাসকের দপ্তরে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ আর শাসকদলের যে বেষ্টনি তাতে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিদিন নানা কৌশলে রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি লুঠ হচ্ছে। এটা তার মধ্যে একটা। এখন ভূত আর দুষ্কৃতীদের ওপর ভরসা করেই এলাকা দখল করতে হচ্ছে শাসককে।’ অভিযোগ, মুরারই পাইকরে সিপিএম মনোনয়ন দিতে গেলে প্রথমে পুলিশ আটকায়। পিছনে দাঁড়িয়ে ছিল দুষ্কৃতীরা। মনোনয়নের আগে মহম্মদবাজার, নলহাটি দুই ব্লকে বোমা পড়ে। সিউড়ি এক ব্লকে গুলি, বোমার লড়াই চলে। মৃত্যু হয় একজনের। এর মাঝে সহজেই প্রশ্ন জাগে কোথায় কারা মনোনয়ন দিল। মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, যাঁরা মনোনয়ন পেশ করেছেন তাঁরা সকলেই হয় শাসক দলের আত্মীয়। নয় তাদের ঘনিষ্ঠ। তাই স্ক্রুটিনির পরে গ্রাম পঞ্চায়েতে আসন কমল ৮৬টি। পঞ্চায়েত সমিতিতে ২৪টি। জেলা পরিষদে পাঁচটি। চূড়ান্ত তালিকায় গ্রাম পঞ্চায়েতে ৩০৮১টি, সমিতিতে ৬৭৫টি ও জেলা পরিষদে ৫২জন প্রার্থী দাঁড়ালেন।
[ইস্তাহারে ভুয়ো ছবি দেখিয়ে বাজার গরম করতে চাইছে বিজেপি, কটাক্ষ পার্থর]
এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি রামকৃষ্ণ রায় বলেন, ‘ওই ভূতগুলি আমাদের ছিল না। তাই আমাদের কোনও দায়িত্বও নেই। তবে আগামী লোকসভা নির্বাচনে এই ভূতগুলিই শাসকের গলা চেপে ধরবে।’ অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘আমি তো শেষ দিনে কোথাও মশারি খাটাইনি। খাটালে এত মনোনয়ন দিতে পারত বিরোধীরা। আসলে ওদের মুরোদ নেই তো আমি কী করব। ভুল করেছে। তাই বাদ গিয়েছে।’
সর্বশেষ খবর
-
‘মুক্তোমনা হও তবে…’, কেতন হত্যাকাণ্ডের পর তরুণপ্রজন্মকে সতর্কবাণী কঙ্গনার
-
‘চূড়ান্ত হতাশ’, চিরতরে বিশ্বকাপ দেখা বন্ধ করছেন দেবের নায়িকা ইধিকা!
-
ঘরে ফিরে নবজাতকের মুখদর্শন, যন্ত্রণায় প্রলেপ বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ হওয়া দানিশের, কী বলছেন সুইটি?
-
কাল থেকে টানা ৬০ ঘণ্টা বন্ধ চিংড়িঘাটা উড়ালপুল! আচমকা কেন এমন নির্দেশিকা কলকাতা পুলিশের?
-
আইসিসি হল অফ ফেমে সৌরভ, ‘পার্টনার’কে আবেগঘন বার্তা শচীনের