Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
  • বুধবার
  • ৮ জুলাই ২০২৬

ভোটের ময়দানে নয়া কৌশল, ‘হই’ দিলেই হাওয়া বিরোধীরা

'হই' স্ট্র্যাটেজিতেই বাজিমাত, জিনিসটা কী?

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০১৯, ১৫:৩৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৯, ২০১৯, ১৫:৩৪

options
link
ভোটের ময়দানে নয়া কৌশল, ‘হই’ দিলেই হাওয়া বিরোধীরা zoom

সৌরভ মাজি: এ এক আজব কায়দা।  ‘হই’ দিলেই হাওয়া। মোড়ে মোড়ে ‘হই’ দিতেই ময়দান সাফ। আর ‘হই’ নিয়েই পঞ্চায়েতের বাজারে হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে।

বংশীবাবু লুকিয়ে-চুরিয়ে গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিলেন। নজর এড়াতে, রোদে মুখে গামছা দেওয়ার ভান করে ঢেকে-ঢুকে গুটিগুটি পায়ে যাচ্ছিলেন। মোড়ের মাথায় যেতেই ‘হই হই’ শব্দ। আঁতকে ওঠেন তিনি। বুকে ধুকপুকুনি শুরু। পিছন ফিরে দেখেন কেউ একজন ‘হই’ দিচ্ছে। কিছুটা সামলে নিয়ে বিশ পা যেতেই ফের ‘হই হই’ আওয়াজ। পরক্ষণেই ফের হই-হই। সামনের মোড়ের বেশ কয়েকজন জোরে জোরে ‘হই’ দিচ্ছে তখন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[  আসন ৩৮, দাবিদার ১২৪! প্রার্থী বাছতে মাথায় হাত পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের ]

তখন চাচা আপন প্রাণ বাঁচা। মেঠো-আলপথ ধরে দে দৌড়। বাড়ি না পৌঁছনো পর্যন্ত আর থামেননি তিনি। কলসি থেকে এক গ্লাস জল নিয়ে গলায় ঢেলে তবে স্বস্তি। স্ত্রী একটু জোরে কিছু বলতে চাইলেও যেন বুকটা কেঁপে উঠল বংশীর। হই আতঙ্ক তখনও কাটেনি তাঁর। সোমবার থেকে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়েছে।

পূর্ব বর্ধমানের গলসির বাবলা গ্রামের দিক থেকে বিডিও কার্যালয় আসার মোড়, স্টেশনের দিক থেকে বিডিও কার্যালয় আসার মোড়, আবার চৌমাথায় হয়ে গলসি-২ বিডিও কার্যালয় আসার মোড়ে প্রতিদিন সকালেই বসে থাকছে হই-বাহিনী। মনোনয়ন পত্র জমা দিতে বা তুলতে গেলে বা প্রার্থী হতে জাতিগত শংসাপত্র নিতে বিডিও কার্যালয়ে যেতে গেলে এই ‘হই’ বাহিনীর সামনে দিয়েই যেতে হবে। আর এই বাহিনী ‘হই’ দিয়েই বিরোধীদের কুপোকাত করছে। গালমন্দ নয়, মারধর নয়, রক্তপাত নয়, ‘হই’ দিলেই বিরোধী শিবির ময়দান ফাঁকা করে দিচ্ছে।

[  বাম জমানায় রাজনৈতিক সন্ত্রাস, পঞ্চায়েত ভোটে ‘শহিদ পুত্র’-কে প্রার্থী করল তৃণমূল ]

গ্রামগঞ্জে ধানের মরশুমে মাঠের ধানের চুরি আটকাতে পাহারা দেওয়া হয়। বিভিন্ন মাঠে কুঁড়েঘর করে থাকেন জমি মালিকরা। রাতভর বিভিন্ন সময় ‘হই’ দেন তাঁরা। তাঁদের ‘হই’ শুনে দূরের কুঁড়েতে থাকা পাহারাদাররা ‘হই’ দিয়ে জানান দেন তাঁরাও রয়েছেন। আর এই ‘হই’ শুনে দূরে থাকে চোরের দল, বুঝে যায় পাহারাদার সজাগ রয়েছে। চোর-ডাকাতের উপদ্রব থেকে রাত পাহারাও দেওয়া হয় গ্রামে গ্রামে। সেখানেই ‘হই’ দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এবারের ভোটের ময়দানে নয়া আমদানি সেই ‘হই’।

[  পঞ্চায়েতে প্রার্থীদের জেতাতে বিধায়কদের ‘ছুটি’ দিল তৃণমূল ]

গলসির সিপিএম নেতা সৈয়দ হোসেন মঙ্গলবার বলেন, “মোড়ে মোড়ে ক্যাম্প করেছে তৃণমূল। ডেকরেটর দিয়ে প্যান্ডেল করেছে। সেখান থেকে হই দিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তারা। বিরোধীদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল। জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, “তৃণমূল হাই তুললেও এখন সিপিএম ভয় পাচ্ছে। সংগঠন নেই। পাশে মানুষ নেই। জনবিচ্ছিন্ন হয়ে আতঙ্কে ভুগছে। ওরা কী করেছিল আগে সেসব ভুলে গিয়েছে নিজেরাই।” তিনি আরও দাবি করেছেন, বিরোধীরা তখন মনোনয়ন তুলতে গেলে পা ভেঙে দিত, ঘর জ্বালিয়ে দিত। এখন মানুষ শান্তিতে রয়েছেন।

ছবি: মুকলেসুর রহমান

 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.