দীর্ঘ আলোচনা, তর্কবিতর্কের পর তৃণমূলকে একটি ভোটও নয় – এই সিদ্ধান্ত থেকে কার্যত সরে এসে নয়া শর্ত দিল অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ। সেইসঙ্গে জানিয়ে দিল, লোকসভার মতো তারা বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election) লড়বেন না। তাদের আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে শাসকদল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, তাদের পক্ষেই থাকবে অজিতের আদিবাসী কুড়মি সমাজ। এই শর্তে সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছে জঙ্গলমহলে কুড়মি জনজাতিদের একসময়ের বৃহৎ সংগঠন আদিবাসী কুড়মি সমাজ।

আরও পড়ুন:
এই আদি সংগঠনটি ভেঙে গঠিত হওয়া ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের আহ্বানে পুরুলিয়া শহরে সপ্তাহখানেক আগে গত শনিবার যে বৈঠক হয়েছিল সেখানে কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গ ও আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজ ছিল না। কিন্তু ৫-৬ ফেব্রুয়ারি দু’দিন ধরে চলা পুরুলিয়ার কোটশিলার মুরগুমার কেনকেচে পাহাড়ে কুড়মালি নেগাচারি সারনা ধরম মহাজড়ুআহিতে ওই দুই সংগঠন হাজির ছিল। যা আদিবাসী কুড়মি সমাজের কাছে যেমন চ্যালেঞ্জের ছিল। তেমনই অজিত বিরোধী ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজ ও পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের কাছেও আজ, শনিবার বাঁকুড়ার ছাতনার বৈঠকে ওই দুই সংগঠনকে হাজির করানো চ্যালেঞ্জের। এই সামগ্রিক বিষয়ে কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গ কিছু বলতে চায়নি। আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেসব মন্ত্রী, বিধায়ক কুড়মি বিরোধী, তাঁরা যদি প্রার্থী হন তাহলে ভোটের মাধ্যমে তাঁদের উচিত শিক্ষা দেবেন। আগামী ৫ এপ্রিল আদিবাসী কুড়মি সমাজের পরবর্তী বৈঠক।
আরও পড়ুন:
অজিত মাহাতোর আদিবাসী কুড়মি সমাজ জানিয়ে দিল, লোকসভার মতো তারা বিধানসভা ভোটে লড়বেন না। তাদের আদিবাসী তালিকাভুক্ত করার দাবিতে শাসকদল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে যারা গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন, তাদের পক্ষেই থাকবে অজিতের আদিবাসী কুড়মি সমাজ।
এদিকে তৃণমূলকে একটিও ভোট নয় – এই সিদ্ধান্ত থেকে আদিবাসী কুড়মি সমাজ আপাতত সরে এলেও অনেকাংশেই বিজেপির দিকে ঝুঁকে। কারণ আদিবাসী কুড়মি সমাজ ওই কর্মসূচি শেষে জানিয়েছে, কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত করে দিলেই তারা বিজেপিকে সমর্থন করে দেবেন। আদিবাসী কুড়মি সমাজের মূল মানতা অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “রাজ্য আমাদের দাবি পূরণে বহুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। আমরা বারবার বলেছি, কমেন্ট-জাস্টিফিকেশন পাঠাতে। কিন্তু তা করেনি। সেই কারণেই আমরা রেল অবরোধের কর্মসূচি নিয়েছিলাম। তৃণমূলকে একটি ভোট নয় – এই ডাক দিয়েছিলাম। এখন আমাদের বক্তব্য এটাই রাজ্যে নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরণে যে রাজনৈতিক দল সমর্থন করবে আমরা তার পক্ষেই যাব। তৃণমূল, বিজেপি আমাদের দাবি নিয়ে একটি কথা না বললেও যদি তৃতীয় কোনও ফ্রন্ট আমাদের দাবি নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা তাদের সমর্থন করব। কেন্দ্র যদি কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করে দেয় তাহলে আমরা বিজেপির পাশেই আছি। এবার আমরা কোনও ভোটে দাঁড়াব না।”
অজিতপ্রসাদ মাহাতো বলেন, “এখন আমাদের বক্তব্য এটাই রাজ্যে নির্বাচনী বিধি চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের দাবি পূরণে যে রাজনৈতিক দল সমর্থন করবে আমরা তার পক্ষেই যাব। তৃণমূল, বিজেপি আমাদের দাবি নিয়ে একটি কথা না বললেও যদি তৃতীয় কোনও ফ্রন্ট আমাদের দাবি নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা তাদের সমর্থন করব।”
মূল মানতার এই বিষয়ে ছোটনাগপুর আদিবাসী কুড়মি সমাজের এক্সিকিউটিভ কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা চিকিৎসক সুজিত মাহাতো ও পূর্বাঞ্চল আদিবাসী কুড়মি সমাজের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক শুভেন্দু মাহাতো বলেন, “আমরা যা বলার শনিবারের বৈঠকের পর বলব।” আদিবাসী নেগাচারি কুড়মি সমাজের মহামোড়ল অনুপ মাহাতোর বক্তব্য, “আমাদের রাজ্য কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে সমস্ত মন্ত্রী, বিধায়ক কুড়মি বিরোধী, তাঁরা যদি প্রার্থী হন তাঁদেরকে আমরা ভোটের মাধ্যমে উচিত শিক্ষা দেব। আদিবাসী কুড়মি সমাজের একটা ডেটলাইন দেওয়া আছে। ওই সময়টুকু আমরা অপেক্ষা করছি।” কুড়মি সমাজ, পশ্চিমবঙ্গের উপদেষ্টা রাজেশ মাহাতো বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় আদিবাসী কুড়মি সমাজের ডাকে সারনা ধরম জড়ুআহিতে সব সংগঠনের সঙ্গে আমরাও আমন্ত্রিত ছিলাম। সারনা ধর্ম, নেগাচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক আলোচনা হয় এবং জাতিসত্তার দাবিতে আগামী আন্দোলন সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাব আমার সংগঠনের পক্ষ থেকে রাখি। এর বেশি আমার পক্ষে বলা বা মন্তব্য করা সমীচীন মনে করছি না।”
পুরুলিয়া জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক শান্তিরাম মাহাতো বলেন, “আমাদের সরকার একেবারে প্রথম থেকে কুড়মি জনজাতিদের আদিবাসী তালিকাভুক্তের দাবিতে কেন্দ্রের কাছে দরবার করে আসছে। এই দাবিটি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
পালাবদলে বাড়ছে শক্তি! আরএসএস শিক্ষক সংগঠনে একধাক্কায় ৩০ হাজার সদস্যবৃদ্ধি
-
বড় ধাক্কা টিম ইন্ডিয়ার, আফগানিস্তান সিরিজ থেকে ছিটকে গেলেন বিরাট কোহলি!
-
পুলিশের জালে কলকাতার আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, এবার শ্লীলতাহানির অভিযোগ
-
হোমিওপ্যাথিই শ্রেষ্ঠ! পোস্ট করে বিপাকে অনুষ্কা শর্মা, ‘অশিক্ষিত সেলেব’ বলে কটাক্ষ চিকিৎসকের
-
বঙ্গভবনে ক্ষণিকের ‘সৌজন্য সাক্ষাতে’ই বদলাল রাজ্য রাজনীতির ভাগ্য! ঋতব্রতর আড়ালে কার হাত?
নিবেদিত


