Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
বেথুন কলেজ

সবার উপরে ‘মানব ধর্ম’, পথ দেখাল রাজ্যের একাধিক কলেজ

বেথুন ও মেদিনীপুর কলেজ-সহ রাজ্যের বেশ কিছু কলেজে শুরু হয়েছে এই অভিনব উদ্যোগ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০১৯, ১৫:৫৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১, ২০১৯, ১৫:৫৬

options
link
সবার উপরে ‘মানব ধর্ম’, পথ দেখাল রাজ্যের একাধিক কলেজ zoom

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: “মানব ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম”-একথা প্রায়শই শুনে থাকি আমরা। কিন্তু কাজের বেলায়? বাস্তব চিত্রটা পরিষ্কার। স্কুল হোক বা কলেজ, যে কোনও প্রতিষ্ঠানেই ভরতি হওয়ায় আবেদনপত্র ফিল-আপ করার সময় এখনও জবাবদিহি করতে হয়, আপনি কোন ধর্মাবলম্বী! আরেকটু ভেঙে বললে আপনি হিন্দু না মুসলমান, শিখ না বৌদ্ধ? নির্ধারিত জায়গায় টিক চিহ্ন দিয়ে খালাস হয়ে যান আপনিও। তবে কখনও ভেবে দেখেছেন কি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোনও কর্মক্ষেত্রে ধর্মের দোহাই দিয়ে আদৌ কোনও কার্যসিদ্ধি হয় কি না? প্রশ্নটা মাথায় এলেও অনেকেই কিন্তু এড়িয়ে যান ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে?’ এহেন গোছের ভাবনা নিয়ে। প্রশ্নটাই বা কার কাছে তুলব?- এহেন হাজারো চিন্তা ভিড় করে ভাবনা জগতে। তবে, এই প্রথম কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছে আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে না আপনি হিন্দু না মুসলিম? কারণ, ভরতির ফর্মে আবেদন করার সময় চাইলেই আপনি বেছে নিতে পারেন মানবতার ধর্মকে। আর এই সুযোগ করে দিচ্ছে উত্তর কলকাতার খ্যাতনামা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেথুন কলেজ, বারাসাত গভর্মেন্ট কলেজ এবং মেদিনীপুর কলেজ। অনলাইনে আবেদন করার সময় তালিকার প্রথমেই আপনার চোখে পড়বে ‘হিউম্যানিটিজ’ নামক শব্দটি।

[আরও পড়ুন: তৃণমূল কর্মীর খামার বাড়িতে বিস্ফোরণ, চাঞ্চল্য কাঁকড়তলায়]

Advertisement

প্রসঙ্গত, গত সোমবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলপ্রকাশের পর থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কলেজে শুরু হয়ে গিয়েছে ভরতির প্রক্রিয়া। হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্ট কিংবা জৈন ধর্মকে বাদ দিয়ে মানবতার ধর্মকে এগিয়ে রাখার এমন পদক্ষেপ যে কার্যত নজিরবিহীন, তা বলাই যায়। কেন এমন উদ্যোগ? এপ্রসঙ্গে বেথুন কলেজের অধ্যক্ষা মমতা রায় জানান, গত বছরও কলেজে ভরতির জন্য অনলাইন ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ থাকলেও তাতে ‘মানবতা’কে নিজের ধর্ম বলে বেছে নেওয়ার মতো কোনও সুযোগ ছিল না। তবে এবার সেই সুযোগ পাচ্ছেন পড়ুয়ারা। তিনি বলেন, “অনেক আবেদনকারীরাই হয়তো কোনও ধর্মে বিশ্বাস রাখেন না। তিনি হয়তো শুধু মানবধর্মে বিশ্বাসী। এই আবেদনকারীরা ওই কলামে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান-সহ নানা ধর্মের মধ্যে ‘অন্যান্য’ বলে যেখানে উল্লেখ থাকত এতদিন তা বেছে নিতেন। অনেকে আবার লিখে দিতেন ‘নন বিলিভার’ (বিশ্বীসী নই)। এবার থেকে তাঁরা নিজের মত স্পষ্ট করে প্রকাশ করতে পারবেন।” অধ্যক্ষার কথায়, মানবতাই যে শ্রেষ্ঠ ধর্ম, সেই বার্তাও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা করা হয়েছে এই উদ্যোগের মাধ্যমে।

[আরও পড়ুন: গরম থেকে মিলতে পারে স্বস্তি, সপ্তাহান্তে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের]

অন্যদিকে, মেদিনীপুর কলেজের অধ্যক্ষ গোপালচন্দ্র বেরার মতে, “মানুষের প্রথম পরিচয় সে মানুষ। মানবতাই তার সর্বশ্রেষ্ঠ পরিচয়। তাই কলামের প্রথমেই ‘হিউম্যানিটিজ’ অপশনটি রাখা হয়েছে।” বেথুন ও মেদিনীপুর কলেজ-সহ রাজ্যের বেশ কিছু কলেজ কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আবেদনকারী ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে তাঁদের অভিভাবকদের অনেকেই। তাঁদের একাংশের মতে, এর ফলে অনেকেই নিজের মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.