Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
জগদীপ ধনকড়

‘সমস্যা হলেই রাজভবনে যোগাযোগ করবেন’, লাদাখে শহিদ রাজেশের পরিজনদের আশ্বাস রাজ্যপালের

শুক্রবার সকালে বেলগড়িয়া গ্রামে শহিদের বাড়িতে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান ধনকড়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২০, ১২:০৬

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২০, ১২:০৬

options
link
‘সমস্যা হলেই রাজভবনে যোগাযোগ করবেন’, লাদাখে শহিদ রাজেশের পরিজনদের আশ্বাস রাজ্যপালের zoom
Advertisement

নন্দন দত্ত, বীরভূম: গালওয়ানে শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের বাড়িতে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় (Jagdeep Dhankhar)। সঙ্গে  ছিলেন চিফ কম্যান্ডিং অফিসার অনিল চৌহান।  শুক্রবার সকালে হেলিকপ্টারে সিউড়ি পৌঁছন তাঁরা। এরপর সড়ক পথে বীরভূমের মহম্মদবাজারের বেলগড়িয়া গ্রামে যান তিনি। শহিদের ছবিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। এরপর ঘরে ঢুকে বাবা, মা এবং বোনের সঙ্গে কথাও বলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। শহিদের মায়ের হাতে ১১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন তিনি।

রাজ্যপাল এদিন বলেন, “রাজেশের বলিদান বীরভূমকে বীর ভূমি করে তুলেছে। বীরভূম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাটি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম হয়েছে এই মাটি, পঞ্চসতীপীঠও রয়েছে এখানে। রাজেশ ওরাংয়ের আত্মবলিদান এই মাটিকে আরও পূর্ণ করে তুলল।” এছাড়াও করোনা মোকাবিলায় সকলকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বার্তা দেন তিনি। জগদীপ ধনকড় পাশে এসে দাঁড়ানোয় খুশি শহিদের পরিবার। শহিদ রাজেশের বোন শকুন্তলা ওরাং বলেন, “রাজ্যপাল আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে বলেছেন। কোনও সমস্যা হলে নির্দ্বিধায় রাজভবনে যোগাযোগ করতেও বলেছেন।”  শহিদের পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলার পরই কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান।

Advertisement

এদিকে, আদিবাসী শহিদের মূর্তি বানাচ্ছেন এক আদিবাসী শিল্পী। লাদাখে শহিদ রাজেশ ওরাংয়ের মূর্তি তৈরি করছেন বৈদ্যনাথ মুর্মু। একসঙ্গে চারটি। আবক্ষ সেই মূর্তিগুলি আগামী ১৫ আগষ্ট থেকে প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু হবে। শিল্পী বৈদ্যনাথ মুর্মুর আশা রাজেশের অনুভব, তার বজ্র কঠিন মানসিকতার অনেকটাই তিনি তাঁর মূর্তিতে আনতে পেরেছেন। যে মূর্তি দেখে অনুমোদন দিয়েছে রাজেশের পরিবার। রাজেশের ভাই অভিজিত ওরাং জানান, দাদার চেহারার সঙ্গে অনেকটাই মিল আছে মূর্তিতে।

[আরও পড়ুন: বন্যা পরিস্থিতির মাঝেই উত্তরের জেলাগুলিতে আরও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস]

লাদাখে শহিদ হন মহম্মদবাজারের বেলগড়িয়ার বাসিন্দা রাজেশ ওরাং। আদিবাসী সম্প্রদায়ের সেই দেশপ্রেমিকের আবক্ষ মূর্তি করার জন্য বৈদ্যনাথবাবুকে অনুরোধ করে আদিবাসী গাঁওতা। কারণ এলাকার আদিবাসী সংগ্রামীদের প্রায় দশটি আবক্ষ থেকে পূর্ণাবয়ব মূর্তি গড়েছেন বিশ্বভারতী কলাভবনের প্রাক্তনী বৈদ্যনাথবাবু। ফাইন আর্টসের ছাত্র হলেও সিধু কানুর জন্মস্থান ভগনাডিহি থেকে সিউড়ি পর্যন্ত বিভিন্ন মূর্তির সমীক্ষা করতে গিয়ে তিনি মূর্তির ভাব, আবেগ, অনুভব বোঝার শিক্ষা পেয়েছেন। সেই সূত্রে রাজেশের মূর্তি করার আগে ২০টি বিভিন্ন ছবি দেখেছেন। যা তাঁর পরিবারের দেওয়া। কখনও কঠোর পরিশ্রমে শুকিয়ে যাওয়া রাজেশের শরীর। কখনও বাড়িতে সময় কাটানোর ছবি। সব কিছু দেখে সৈনিকের বেশে তাঁর আবক্ষ মূর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

১৫ আগষ্ট আদিবাসী গাঁওতার পক্ষে প্রথম মূর্তিটি বসানো হবে মহম্মদবাজারের শেওড়াকুড়ি গ্রামে। গাঁওতার সম্পাদক রবীন সোরেণ জানান, ম্যাসানজোর যাওয়ার সংযোগস্থলে শেওড়াকুড়ির মোড়ে মূর্তিটি বসানো হবে। ভুতুরা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে মূর্তি বসানোর জন্য ইতিমধ্যে জায়গা দেওয়া হয়েছে। বৈদ্যনাথবাবু জানান, আপাতত মাটি দিয়ে রাজেশের অবয়বটি তৈরি করা হয়েছে। তার ছাঁচ তৈরি করে ফাইবার দিয়ে মূর্তিগুলির নির্মাণ হবে। রাজেশের গ্রাম বেলগড়িয়ায় বিধায়ক নীলাবতী সাহার উদ্যোগে বসানো হবে। এছাড়াও খয়রাশোল, হরিণসিঙা ও শেওড়াকুড়িতে মূর্তি স্থাপিত হবে।

[আরও পড়ুন: কোন কোন ওয়েবসাইটে জানা যাবে উচ্চমাধ্যমিকের ফল? একনজরে দেখে নিন তালিকা]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.