শান্তনু কর, জলপাইগুড়ি: আগ্নেয়াস্ত্রই এখন গলার কাঁটা অশীতিপর বৃদ্ধের। বছর বছর ভোটের গেড়োয় হাঁপিয়ে উঠে এখন ক্রেতা খুঁজছেন বারোপেটিয়ার ৮৮ বছরের প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য।
দীর্ঘ চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বন্ধুটির সঙ্গ এবার পুরোপুরিভাবে ত্যাগ করতে চাইছেন জলপাইগুড়ি বারোপেটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য দেবেন্দ্রনাথ দাস। কালে কালে বন্ধুটির বয়স ও কম হয়নি! পার করেছে চল্লিশটি বছর। রঙ চটেছে, জং ধরেছে শরীরে। এক সময় এই বন্ধুটিকে সামনে রেখে কম ডাকাত, দুষ্কৃতী ভাগাননি এলাকার সম্ভ্রান্ত কৃষক দেবেন্দ্রনাথবাবু। জানান, সেই সময় এতো ঘরবাড়ি ছিল না। সামান্য দূরেই বৈকুন্ঠপুরের জঙ্গল। রাত্রি হলেই ডাকাত পড়ত গ্রামে। পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জলপাইগুড়ি থেকে ২ হাজার টাকা খরচ করে একনলা বন্দুকটি কিনে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা শতেশ্বর দাস। লাইসেন্স ছিল বাবার নামেই। পরে নিজের নামে আরও একটি বন্দুক কেনেন দেবেন্দ্রবাবু। যদিও বাবার বন্দুকটি চুরি হয়ে যায়। নিজের নামের লাইসেন্স করা বন্দুকটি এখনো তাঁর হেফাজতে।
তবে এই বন্ধু বন্দুক টির জোরে সেই সময় এলাকায় দাপট যেমন ছিল, তেমনি দানধ্যান ও কম ছিলনা দেবেন্দ্রবাবুর। বর্তমানে বারোপেটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসটি তাঁর দান করা জমির উপর তৈরি। বারোপেটিয়া ভান্ডিগুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রঙধামালি ক্লাব তার জমির উপরেই গড়ে উঠেছে। এক সময় নিজে ছিলেন এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। বর্তমানে বারোপেটিয়া নতুনবস গ্রাম পঞ্চায়েতের বিদায়ী প্রধান, এলাকার তৃণমূল প্রার্থী তথা সদরের দাপুটে নেতা কৃষ্ণ দাস দেবেন্দ্র বাবুর আত্মীয়। সম্পর্কে তিনি মেশোমশাই।
সেই দেবেন্দ্র নাথ বাবু এখন ঘরে রাখা বন্দুক নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার। কারন গ্রাম পঞ্চায়েতই হোক বা লোকসভা, বিধান সভা! ভোট এলেই সরকারি আইন মেনে তাঁকেই বন্দুক জমা দিতে ছুটে আসতে হয় থানায়। ৮৮-র শরীরের পক্ষে যা অত্যন্ত কষ্টের। জানান, দিনকাল বদলে গিয়েছে। এখন আর ডাকাত পড়ে না গ্রামে। নেই দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য। ফলে দীর্ঘদিন ব্যবহার নেই বন্দুকের। সেই কবে আকাশে ওড়া একটা পাখিকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে ছিলেন মনে পড়ে না। এই অবস্থায় সেই সময়ের বন্ধু এই বন্দুকটির আর প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন না তিনি। জানান, ভোট এলেই থানা থেকে খবর পাঠায় বাড়িতে। ছেলেরা কাজেকর্মে ব্যস্ত থাকায় নাতিকে নিয়ে ছুটে আসতে হয় থানায়। শরীর সঙ্গ দেয় না, তবুও আসতে হয়। বলেন, এই হ্যাপা থেকে মুক্তি পেতেই এবার সঙ্গ ছাড়তে চাইছি বন্দুকটির। পরিবারের কারও কাছেই আজ প্রয়োজন নেই এই বন্দুকটির। নাতি জিতু দাস বলেন, রেখে কী কাজে আসবে। বরং বেচে দিতে পারলেই দায়িত্ব থেকে মুক্তি। সবদিক বিবেচনা করে তাই এখন ক্রেতা খুঁজছেন প্রাক্তন গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য।
সর্বশেষ খবর
-
জাহ্নবীর মেহেন্দিতে উজ্জ্বল ‘শিখু’, প্রেমচর্চা উসকে সম্পর্কে সিলমোহর শ্রীদেবীকন্যার!
-
বারুইপুরের খুনিদের ‘প্রতিবাদী’ বললেন মমতা! শুভেন্দুর তোপ, ‘সীমাহীন তোষণ, বদভ্যাস গেল না’
-
মাঝমাঠে ‘মাস্টারস্ট্রোক’, এএফসি চ্যালেঞ্জের আগে স্প্যানিশ তারকাকে সই করাল ইস্টবেঙ্গল
-
অগ্নিমিত্রার অনস্পট অ্যাকশন! আসানসোলে ফুটপাত দখল-অবৈধ পার্কিং রুখতে ধমক মন্ত্রীর, বাসে লাগালেন কাঁটা
-
লোহার সিন্দুকে সোনার গয়না রাখা ঘোর অশুভ! কারণ জানলে চমকে উঠবেন