নন্দন দত্ত, সিউড়ি: মহম্মদবাজার কাণ্ডের জের। পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল লোকপুর থানার ওসি নীলোৎপল মিশ্রকে। ওসির পদ থেকে সরিয়ে তাঁকে সিউড়ির পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন ওসির পদে বসেছেন সিউড়ি থানার ওসি তরুণ চট্টরাজ। গত শুক্রবার বিজেপির মনোনয়ন জমা দিতে যাওয়ার সশস্ত্র মিছিল না আটকানোর অভিযোগ ছিল এই নীলোৎপল মিশ্রের বিরুদ্ধে। শুধু এখানেই শেষ নয়, আগেও নীলোৎপল মিশ্রের বিরুদ্ধে বিজেপিকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মহম্মদবাজারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তৃণমূলের জেলাসভাপতি অনুব্রত মণ্ডল নীলোৎপল মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান। তারপরই সরিয়ে দেওয়া হল সিউড়ি থানার ওসিকে।
[বিজেপির মহিলা প্রার্থীকে তরোয়াল দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারে চাপ]
উল্লেখ্য, সেদিন মহম্মদবাজার থানার শ্যাওড়াকুড়ি গ্রাম লাগোয়া জাতীয় সড়কের উপরে তাঁর ডিউটি ছিল। সেই জাতীয় সড়কের উপর দিয়েই বিজেপির সশস্ত্র মিছিল আসে। ১০ হাজার সশস্ত্র বিজেপি কর্মী ওই সড়ক দিয়েই মহম্মদবাজারের দিকে এসেছিল শুক্রবার। অভিযোগ, দায়িত্ব থেকেও মিছিল আটকানোর জন্য কোনও রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি ওসি নীলোৎপল মিশ্র। এমনটাই অভিযোগ করেছে জেলা তৃণমূল। ইতিমধ্যেই নীলোৎপল মিশ্র সম্পর্কে মুখ খুলেছেন অনুব্রতবাবু। তিনি জানান, এই নীলোৎপল মিশ্রের নামে আগেও এই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। মল্লারপুরে ওসি থাকাকালীন সেখানে দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। একইভাবে ময়ূরেশ্বরে থাকাকালীন সেখানেও বিজেপিকে সহায়তা করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। এদিকে মহম্মদ বাজারের ঘটনার জেরে নীলোৎপল মিশ্রের পদ খোয়ানোয় শাসক দলের হাত রয়েছে, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। যদিও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেননি জেলার পুলিশ সুপার নীলকান্ত সুধীর কুমার।

মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দিন দুয়েক আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিউড়িরর মহম্মদবাজার এলাকা। ব্লক অফিসের তিনদিক থেকে অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে আসে বিজেপি প্রার্থীরা। এই অস্ত্রমিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছিল কর্তব্যরত পুলিশ বাহিনী। ঘটনাস্থলে ছিল শাসকদলের কর্মীরাও। তবে মিছিলকে থামাতে যেতেই ঘটে বিপত্তি। শুরু হয় মুড়ি-মুড়কির মতো বোমা পড়া। অভিযোগ, বহিরাগত ও বিজেপি প্রার্থীদের ঘেরাটোপে আটকে পড়ে তৃণমূলের কর্মী সমর্থক ও পুলিশ বাহিনী। পরে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। মিছিলে থাকা বিজেপির কর্মী সমর্থকদের হাতে তীর ধনুক ছিল। উপস্থিত পুলিশবাহিনী তাদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। এই সময় বিডিও অফিস চত্বরে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীরাও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজেপির মিছিলকে রোখার চেষ্টা করে। ততক্ষণে তিন রাস্তা দিয়ে ব্লক অফিসের সামনে চলে এসেছে বিজেপির মিছিল। আর মিছিলের মাঝখানে আটকা পড়েছে পুলিশ ও তৃণমূলকর্মীরা। এমতাবস্থায় মিছিল লক্ষ্য করে শুরু হয় বোমা বর্ষণ। পালটা হিসেবে বিজেপি কর্মীরাও বোমা ছুঁড়তে শুরু করে। ঘটনাস্থলে যান জেলার পুলিশ সুপার নীলকান্ত সুধীর কুমার, স্পেশ্যাল আইজি জাভেদ শামিম ও আইজি রাজীব মিশ্র। পরে ঘটনার তদন্তে নেমে বহিরাগত ১৫ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে মহম্মদবাজার থানার পুলিশ। তদন্তেই জানা যায়, শ্যাওড়াকুড়ি গ্রামের জাতীয় সড়ক থেকেই বিজেপির অস্ত্র মিছিল এগিয়েছে মহম্মদবাজারের দিকে। সেখানেই দায়িত্বে ছিলেন ওসি নীলোৎপল মিশ্র। তারপরেই জেলা পুলিশের তরফে শুরু হয়ে যায় তৎপরতা।
[পঁচাত্তরেও প্রার্থী অজিত কুম্ভকার, বাড়িতে এসে আশীর্বাদ নিয়ে যাচ্ছেন বিরোধীরা]
সর্বশেষ খবর
-
পুলিশি হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত অনুব্রতর কার্যালয়, তৃণমূল নেতা বললেন…
-
‘সনাতন ধর্মকে দোষ দেবেন না’, রাম মন্দিরে অনুদান চুরির ঘটনায় ফুঁসছেন অনুপম খের
-
দখলদারি-তোলাবাজিই ছিল পেশা, ‘দিদিগিরি’ চালিয়ে ধন কুবের! বিরোধীদের নিশানায় লাভলি
-
যোগীরাজ্যে উদ্ধার লক্ষ টাকার ভেজাল চা! এই ঘরোয়া টোটকায় বুঝে নিন চা আসল না নকল
-
স্রেফ কল রেকর্ড এবং হোটেলের বিলই পরকীয়া প্রমাণে যথেষ্ট! বলছে সুপ্রিম কোর্ট