দিব্যেন্দু মজুমদার, হুগলি: পশ্চিম মেদিনীপুরের লালগড় বাঘ, হাতির আতঙ্কে জুজু। হুগলির গোঘাটের পশ্চিমপাড়াও দুই দাঁতালের তাণ্ডবে জড়োসড়ো। ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রায় গোটা গ্রামের মানুষ প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় আশ্রয় নেন। হাতির হামলায় বাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। দাঁতালের আক্রমণে পশ্চিমপাড়া অঞ্চলের তিনজন জখম হন।

[বাঘ বাহাদুরকে বাগে আনতে জঙ্গলে ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর]
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাশেই গোঘাটের পশ্চিমপাড়া। জঙ্গল থেকে দুটি দাঁতাল বৃহস্পতিবার ভোরে পশ্চিমপাড়ায় ঢুকে পড়ে। তারপর শুরু হয় দৌরাত্ম্য। হাতির আক্রমণে তিনজন আহত হন। একটি দাঁতাল ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট ধরে তাণ্ডব চালানোর পর পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকে ফিরে গেলেও আর একটি দাঁতাল থেকে যায়। ওই দাঁতালটি শুরু করে ধ্বংসলীলা। ঠাকুরহাটি, শশাগেড়ে, সুন্দরপুর, ভাতশালা, কেলেপুকুর এলাকায় ঘরবাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি অ্যাসবেসটসের চাল ও আসবাবপত্র ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। ধানের গোলা মাড়িয়ে তছনছ করে দেয় ঐরাবতটি। জমির আলু ধংস করার সঙ্গে বস্তা ভরতি আলু শুড়ে তুলে ছুঁড়ে মারে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ছোটাছুটি শুরু করে দেন। অনুপনগর এলাকায় আইনাল খাঁ জমিতে কাজ করছিলেন। এমন সময় হঠাৎ পিছন দিক থেকে তাকে আক্রমণ করে হাতিটি। তাকে শুঁড়ে তুলে জমিতে জমে থাকা জলে দুবার আছাড় মারে। তারপর তাকে পা দিয়ে লাথি মেরে চলে যায় দাঁতালটি। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করেন। ভাতশালা গ্রামে অর্চনা কোলে নামে এক গৃহবধূ দাঁতালের হানার খবর পেয়ে তার ছাগলগুলিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেসময় হঠাৎই দাঁতালটি পিছন থেকে তাকে শুঁড়ে তুলে পুকুরের মধ্যে ছুঁড়ে ফেলে দেয়। জলে ছুঁড়ে ফেলার জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাকে গুরতর জখম অবস্থায় আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। পুরুলিয়া থেকে কাজ করতে আসা এক দিনমজুরকেও হাতি শুঁড়ে তুলে আছাড় মারে। তবে তাঁর আঘাত মারাত্মক নয়। হাতিটি একটি গরু ও মহিষকেও তুলে আছাড় মারায় প্রাণী দুটি গুরুতর জখম হয়।

[ঝুড়ি না বুনলেই ডিভোর্স! আজব গ্রামের আজব কাহিনি]
দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় আরামবাগ ফরেস্ট রেঞ্জারের অন্তর্গত চাঁদুর ও ভাদুর বিট হাউসের কর্মীরা। ছুটে যান গোঘাট থানার পুলিশ আধিকারিকরা। বন দপ্তর সূত্রে খবর হাতিটিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত হাতিটি গোঘাটেই রয়ে গেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন গোঘাটে হাতির আতঙ্কে স্কুল কলেজে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি যেরকম কম ছিল তেমনই অনেকে আতঙ্কে এদিন কর্মস্থলে যাননি।
[লাঠি-কুড়ুল হাতে অরণ্য বাঁচাচ্ছেন জঙ্গলমহলের লক্ষ্মীবাইরা]
সর্বশেষ খবর
-
স্পেনের এক গোলেই স্বপ্নভঙ্গ! বিশ্বকাপে পর্তুগালের বিদায়ে মন খারাপ মহিষাদলের ‘রোনাল্ডোর গ্রামের’
-
‘ও ভালোই জানে, আসল বস কে’, নেতানিয়াহুর ভারত সফরের আগেই মনে করালেন ট্রাম্প
-
‘যদি পঞ্চাশটাও পরকীয়া থাকে…’, গোবিন্দাপ্রীতি দেখাতেই শিল্পাকে তুলোধনা সুনীতার
-
তারাতলা কাণ্ডে হতাহতের পরিবারকে অর্থ সাহায্য, বিনামূল্যে ওষুধ, যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর!
-
দূরপাল্লা-লোকাল ট্রেনের পর মেট্রো! ধূমপানে ২০০০, বিনা টিকিটে ৫০০, জরিমানা বাড়ল পাতাল পথে