BREAKING NEWS

১৭ জ্যৈষ্ঠ  ১৪২৭  সোমবার ১ জুন ২০২০ 

Advertisement

মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে গণপিটুনি, উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ

Published by: Tiyasha Sarkar |    Posted: September 15, 2019 6:29 pm|    Updated: September 16, 2019 3:19 pm

An Images

শুভদীপ রায়নন্দী, শিলিগুড়ি: ফের ছেলেধরা সন্দেহে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে গণপিটুনির ঘটনা ঘটল রাজ্যে। খবর পেয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা পুলিশের উপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পুলিশকে মারধর ও পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর চালায় উন্মত্ত জনতা। পাশাপাশি পুলিশ ফাঁড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধৃত ছয় জনকে পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

[আরও পড়ুন:শরিকি বিবাদের রেশ প্রতিবেশীদের উপর, ঢোলাহাটে সংঘর্ষে জখম ৭]

জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে কলমজোত এলাকায় একটি বাড়ির সামনে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলাকে বসে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তাঁকে দেখেই এলাকাবাসীদের সন্দেহ হয়। এরপরই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তাঁরা। অসংলগ্ন উত্তর মেলায় মহিলাকে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর শুরু করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের মেডিক্যাল ফাঁড়ির পুলিশের চারজনের একটি দল। অভিযোগ, মহিলাকে উদ্ধার করতে গেলে স্থানীয়রা পুলিশের উপর চড়াও হয়। দু’জন পুলিশ কর্মীর উর্দি ছিঁড়ে দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, আরেকদল এলাকাবাসী লাঠি, বাঁশ দিয়ে ভাংচুর চালায় পুলিশের গাড়িতে। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকর্মী ও মহিলাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মহিলা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে শনিবার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কলমজোতের বাসিন্দা হরি নায়ক, চন্দ্রকিশোর রায়, দেবরাজ দাস, দেবা বিশ্বাস, সাগর বিশ্বাস ও কাওয়াখালির বাসিন্দা সন্তোষ বর্মনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার আদালতে তোলা হলে ধৃতদের জামিনের আবেদন খারিজ করে পাঁচ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। এই বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি (জোন ২) অতুল ভি বলেন, “সাধারণ মানুষকে গুজবে কান দিয়ে আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। ধৃতরা পুলিশের উপর আক্রমন ও মারধর করেছে। পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর চালান হয়েছে। এগুলি অন্যায়।” সরকারি আইনজীবী সুশান্ত নিয়োগী বলেন, “ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাঁধা, সরকারি সম্পত্তি নষ্টর মতো একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। বিচারক জামিনের আবেদন খারিজ করে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।” রাজ্যে বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে একের পর এক গনপিটুনির ঘটনা ঘটে চলছে। এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক। সাধারণ মানুষকে কোনভাবেই আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তাতে পালটাচ্ছে না পরিস্থিতি।

[আরও পড়ুন: পুলিশের সামনেই চুরি হচ্ছে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার লোহা, সরব স্থানীয়রা]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement