ডাইনোসর বিদায় নিয়েছে সেই কবে। জুরাসিক যুগের একটি প্রাণী লড়াই করে এখনও টিকে আছে উত্তরের পাহাড়ে। ‘হিমালয়ান সালাম্যান্ডার’ অথবা ‘হিমালয়ান নিউট’। এই উভচর গবেষক মহলে ‘লিভিং ফসিল’ নামেও পরিচিত। বিরল প্রাণীকে বিলুপ্তি থেকে বাঁচাতে কার্শিয়াংয়ের জঙ্গলে গড়ে উঠতে চলেছে বিশ্বের প্রথম ‘হিমালয়ান স্যালাম্যান্ডার স্যাংচুয়ারি’। রাজ্য বনদপ্তর, জু অথরিটি, কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে। বনদপ্তর সূত্রে খবর, প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। কার্শিয়াং বন বিভাগের গবেষণা ভিত্তিক প্রস্তাব ইতিমধ্যে বন ও পরিবেশ মন্ত্রক ও সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছে জমা পড়েছে।
প্রায় ১৬০ মিলিয়ন বছর আগে জুরাসিক যুগে যখন পৃথিবীতে ডাইনোসর ঘুরে বেড়াত তখন থেকেই সালাম্যান্ডার টিকে আছে। জলবায়ুর পরিবর্তন হলেও এদের দৈহিক গঠন পাল্টায়নি। তাই গবেষকরা একে ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’ অথবা ‘লিভিং ফসিল’ বলে থাকেন ৷ ভারতীয় উপমহাদেশে কাউডাটা বর্গের জীবিত উভচর হিসেবে একটিমাত্র প্রজাতি টিকে আছে৷ সেটি প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের কালচে-বাদামি পিঠের উপর দানাদার উঁচু রেখাবিশিষ্ট। প্রাণীটিকে পাহাড়বাসী ভালোবেসে বলেন ‘পানি টিকটিকি’ অথবা ‘পানি কুকুর’৷ এক সময় দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পাহাড়ের প্রায় একশোটিরও বেশি জায়গায় এদের দেখা যেত। এখন বেড়ে চলা নগরোন্নয়ন, পর্যটন, প্লাস্টিক দূষণ এবং জমি ব্যবহার পরিবর্তনের ধাক্কায় এদের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলি উদ্বেগজনকভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে।

কার্শিয়াং বনবিভাগের ডিএফও দেবেশ পাণ্ডে দেবেশ পাণ্ডে জানাচ্ছেন, ভারতে তো বটেই। পৃথিবীর কোথাও মেলে না এই প্রাণী। পাওয়া যায় শুধুমাত্র দার্জিলিং ও কার্শিয়াং পাহাড়ে। স্যালাম্যান্ডার অতিসংবেদনশীল ইন্ডিকেটর। যেখানে ওই প্রাণী থাকে বুঝতে হবে সেখানকার জলের গুণগতমান চমৎকার ও বাস্তুতন্ত্রে সমস্যা নেই। জলমগ্ন নিচু জমিতে এরা চলাফেরা করে। মাটিতে ছিদ্র করে। ফলে বৃষ্টির জল খুব সহজে মাটির গভীরে প্রবেশ করে। ভূগর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ে। কিন্তু জল সামান্য দূষিত হলে এরা টিকে থাকতে পারে না। অদ্ভুত দেখতে উভচর প্রাণীটি ‘কাউডাটা’ বর্গের অন্তর্ভুক্ত। উভচর প্রজাতির সাব ক্যাটাগরির প্রজাতি।
স্যালাম্যান্ডারদের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্রগুলি পাহাড়ি অঞ্চলে কোনও একক বড় বনভূমিতে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ওই কারণে বন কর্তারা স্যাংচুয়ারির প্রধান তিনটি কেন্দ্রবিন্দু ঠিক করেছেন। সেগুলো হল কার্শিয়াংয়ের নামথিং পোখরি, পোখরিয়াটার এবং পঞ্চ পোখরি। বনকর্তারা জানান, এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উঁচু পাহাড়ি জৈববৈচিত্রপূর্ণ হেরিটেজ সাইট। এখন এলাকাটি জেলা প্রশাসনের অধীনে হলেও বন বিভাগের কাছে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। স্যাংচুয়ারি মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনা করা যাবে।
তবে পোখরিয়াটার সংরক্ষিত জঙ্গল এলাকায় রয়েছে। পঞ্চ পোখরি হল গভীর জঙ্গলে পাঁচটি প্রাকৃতিক ছোট জলাশয়। ডিএফও জানান, বাসস্থানগুলি ছড়িয়ে রয়েছে। কোনওটি ৫ হেক্টর, কোনওটি ৩ একর অথবা ২ একর। প্রথম ধাপে প্রায় ১৫ একর এলাকা অভয়ারণ্যের কঠোর আইনি ব্যবস্থায় আনা হবে। নামথিং পোখরি ও সংলগ্ন অঞ্চলের জন্য ২০২৬-২০৩১ সালের মেয়াদের পূর্ণাঙ্গ ‘ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ তৈরি করা হয়েছে। জমি বন বিভাগের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হলে স্যাংচুয়ারি ঘোষিত হবে তিনি আরও জানান, মার্গারেট’স হোপ টি এস্টেটের মতো স্যালাম্যান্ডারের যেসব প্রজনন এলাকা চা বাগানের সীমানায় রয়েছে বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে নির্দিষ্ট জলাশয়গুলির চারপাশে সুরক্ষা সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে। স্যাংচুয়ারি গঠিত হলে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক থেকে নিয়মিত বরাদ্দ আসবে। ফলে সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
সর্বশেষ খবর
-
নন্দীগ্রামের পর রেজিনগর! মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন মমতার ‘শেষ সৈনিক’ রবিউলও? জল্পনা তুঙ্গে
-
আবেগের নাম ‘জোড়াফুল’! প্রতীক হারিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মমতা, মামলায় যুক্ত ঋতব্রতরাও
-
বৃষ্টিভেজা ফুটবল মাঠে ‘মৃত্যুদূত’ বাজ! ঝাড়গ্রামে মৃত ১, বজ্রাহত আরও ২৭
-
আগরকরের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা! ‘সিদ্ধান্ত ১৫ দিনের মধ্যে’, জানালেন বিসিসিআই সচিব
-
ফোনে মেসেজ পাঠাচ্ছেন মৃত যুবক! ‘অন্ধকারে’ পরিবার, হাড়হিম হত্যাকাণ্ড দিল্লিতে