সরকারি কাজে বাধ্যতামূলক হবে বাংলা। ঘোষণা রাজ্য সরকারের। কিন্তু দীর্ঘদিন ইংরেজি নথি তৈরিতে অভ্যস্ত কর্মীদের অসুবিধে হবে না?
সরকারি প্রশাসনে ভাষার ব্যবহার কেবল যোগাযোগের বিষয় নয়, তা নাগরিকের অধিকার, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সঙ্গেও যুক্ত। রাজ্য সরকার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি কাজে বাংলা ভাষা (Bengali Language) বাধ্যতামূলক করার যে ঘোষণা করেছে– তা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের সাধারণ মানুষের একাংশের অভিযোগ ছিল, সরকারি দফতরের বহু নথি, বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র বা চিঠিপত্র এমন ভাষায় তৈরি হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সহজে বোঝা সম্ভব নয়। মাতৃভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সেই অর্থে নাগরিকবান্ধব প্রশাসনের দিকেই একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
মনে রাখতে হবে, বাংলা কেবল পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ভাষাই নয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষা। এই ভাষার সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, সরকারি অফিস থেকে আদালত, এমনকী অনেক শিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ইংরেজির প্রাধান্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সাধারণ মানুষ প্রায়শই নিজের ভাষায় নিজের সমস্যার কথা জানাতেও অস্বস্তি বোধ করে। ফলে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ প্রশাসনকে আরও জনমুখী করে তুলতে পারে। সাধারণ মানুষ সরকারি নথি সহজে বুঝতে পারবে, আবেদন করতে সুবিধা হবে, তথ্য জানার অধিকারও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা সহজ হবে।
মাতৃভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সেই অর্থে নাগরিকবান্ধব প্রশাসনের দিকেই একটি পদক্ষেপ হতে পারে।
বাংলা কেবল একটি ভাষা নয়, এ রাজ্যের মানুষের আত্মপরিচয়, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সম্মিলিত চেতনার অন্যতম ভিত্তি। বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ– বাংলা ভাষা বারবার আত্মমর্যাদা, স্বাধীন চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধের বাহক হয়ে উঠেছে। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের সাফল্য কেবল ঘোষণাতেই নিশ্চিত হবে না। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলা ভাষায় দক্ষতা, পরিভাষার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো তৈরিও জরুরি। সরকারি দফতরের বহু আধিকারিক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজি নথি তৈরিতে অভ্যস্ত। হঠাৎ করে বাংলা বাধ্যতামূলক হলে প্রথম দিকে বিভ্রান্তি, অনুবাদের ভুল কিংবা প্রশাসনিক বিলম্বের আশঙ্কা থেকেই যায়। বিশেষ করে আইন, অর্থনীতি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য বা প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বহু বিশেষায়িত পরিভাষার সঠিক ও একরূপ বাংলা ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে নথির অর্থ বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। পশ্চিমবঙ্গ বহুভাষিক একটি রাজ্য।
অন্য ভাষাভাষী নাগরিকদের যেন পরিষেবা পেতে অসুবিধা না হয়, সেদিকেও সমান সংবেদনশীল হতে হবে। ভাষানীতি কখনও এমন হওয়া উচিত নয়, যাতে প্রশাসনের দরজা কারও কাছে আরও কঠিন হয়ে ওঠে। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে বাংলা ও হিন্দি ব্যবহারের সিদ্ধান্তও বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনার দাবি রাখে। রাজ্যের তরফে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলার সঙ্গে হিন্দিও ব্যবহার হবে। প্রশ্ন হল– অবাঙালি কর্তা যদি হিন্দি রূপভেদটি পড়েন, তাহলে বাংলা লিপিকর্ম কি শুধু একটি রাজনৈতিক লক্ষ্য?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
‘ছাত্রক্ষোভ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার’, রাহুল গান্ধীকে তোপ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর
-
স্বাস্থ্য ভবনে পদোন্নতির ঝড়, মুখ্যমন্ত্রীর জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বড় প্রমোশন
-
দায়িত্ব নিয়েছিলেন ১৮ দিন আগে, কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা লকেটের দাদার
-
বাংলাতেই রাজনৈতিক অগ্রাধিকার, এনডিএ সংসদীয় বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা নিতিন নবীনের
-
তিন খণ্ড তৃণমূল! খোলা ময়দান পেয়ে মমতার ধাঁচে বছরভর কর্মসূচি ঘোষণা কংগ্রেসের