Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৩ অক্টোবর ২০২৬
BJP

কমিশনের ‘পক্ষপাতিত্ব’ দিয়ে বিজেপির বিপুল জনপ্রিয়তা সংজ্ঞায়িত করা যায় না

বিজেপির জনপ্রিয়তা শুধু মোদি ফ্যাক্টরের উপর বর্তায় না। বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার সমতুল ব্যবস্থা কংগ্রেস গড়ে তুলতে পারেনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২৬, ১৭:১৫

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২, ২০২৬, ১৭:১৫

options
link
কমিশনের ‘পক্ষপাতিত্ব’ দিয়ে বিজেপির বিপুল জনপ্রিয়তা সংজ্ঞায়িত করা যায় না zoom
ফাইল ছবি।
Advertisement

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্ব দিয়ে বিজেপির বিপুল জনপ্রিয়তা সংজ্ঞায়িত করা নিরর্থক। কংগ্রেসের অভ‌্যন্তরীণ সমস্যার দায় কমিশনের ঘাড়ে চাপানো যায় না। সাংগঠনিক অবক্ষয় এবং বিকল্প রাজনৈতিক বয়ানের অভাব– তাদের পতনে ভূমিকা রেখেছে। লিখছেন, রাজদীপ সরদেশাই।

গত সপ্তাহে রাহুল গান্ধী আক্ষরিক অর্থেই রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন তোলেন আপাতদৃষ্টিতে একটি সহজ প্রশ্ন তুলে: এক দশকেরও বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পরও নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপি কেন যেন প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়া বা ‘অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি’-র অভিঘাত থেকে অক্ষত থেকে যাচ্ছেন? তিনি আরও বলেন, ‘আমার ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধীও তো ১৯৭৭ সালে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।’ এরপরই তিনি নিজের প্রশ্নের সম্ভ‌াব‌্য একটি উত্তর তথা অভিযোগ তুলে বলেন, তাহলে কি মোদি-নেতৃত্বাধীন বিজেপি ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করছে? অভিযোগটি বিস্ফোরক। এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী হস্তক্ষেপগুলির মতোই রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্যেও একটি অস্বস্তিকর সত্য রয়েছে– কিন্তু একই সঙ্গে রয়েছে বিপজ্জনকভাবে সরলীকরণও।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

একটি বিষয়ে রাহুল গান্ধী ঠিকই বলেছেন: ভারতের নির্বাচন কমিশন তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর সংকটের মুখে। এটি এখন আর শুধুমাত্র বিরোধীদের রাজনৈতিক অভিযোগ হিসাবে উড়িয়ে দেওয়ার মতো বিষয় নয়। ‌‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা ‘SIR’ নিয়ে বিতর্ক, পশ্চিমবঙ্গে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যগত অসামঞ্জস্যের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে প্রশ্ন, বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া এবং আপিলের নিষ্পত্তিতে বিলম্ব– সব মিলিয়ে স্বচ্ছতা ও যথাযথ প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তিসংগত প্রশ্ন উঠেছে। এমনকী, সুপ্রিম কোর্টও পরিস্থিতিকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ‘আস্থার ঘাটতি’-র প্রতিফলন হিসাবে উল্লেখ করেছে।

যারা ভোটাধিকার ও নির্বাচনী তালিকার পবিত্রতা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের প্রত্যেকেরই পরিসংখ্যানগুলি নিয়ে চিন্তা করা উচিত। পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ২২ লক্ষ নাগরিক আপিল করেছে, এবং তাদের মধ্যে যাদের আবেদনে শুনানি হয়েছে, তার ৯৩ শতাংশই ‘বৈধ ভোটার’ বলে প্রমাণিত। কিন্তু যারা ভোটাধিকার পেল না, তাদের অপারগতা তথা নাগরিকের ভোটাধিকার একটি ডেটাবেসের অসংগতি বা একটি অস্বচ্ছ যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে বিপন্ন হওয়ার দায়ভার রাষ্ট্র নাগরিকের কাঁধে চাপিয়ে দিতে পারে না। নির্বাচন শুধু ভোটের দিন কী ঘটছে, তা নয়; নির্বাচন শুরু হয় এই প্রশ্ন দিয়ে– কার নাম ভোটার তালিকায় থাকবে। এর সঙ্গে যোগ করুন, ভোটগ্রহণ চলাকালীন বিহারে সরকারের নগদ হস্তান্তরে অনুমতি, অসমে প্রকাশ্য ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া, স্বীকৃত রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নিয়ে দলবদলকে বৈধতা দেওয়া এবং শাসক দলের সুবিধামতো নির্বাচনের সময়সূচিতে ‘সামঞ্জস্য’ রাখার অভিযোগ।এ কারণেই নির্বাচন কমিশনও তাদের কার্যকলাপ ঘিরে ওঠা সমস্ত প্রশ্নকে নিছক ‘রাজনৈতিক অভিযোগ’ বলে উড়িয়ে দিতে পারে না। সাম্প্রতিক কার্যকলাপের রেকর্ডের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আম্পায়ার নয়– এমন আশঙ্কার বাস্তব ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

বিজেপির জনপ্রিয়তা শুধু মোদি ফ্যাক্টরের উপর বর্তায় না। বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার সমতুল ব্যবস্থা কংগ্রেস গড়ে তুলতে পারেনি।

এখানেই রাহুল গান্ধীর যুক্তি ভুল পথে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। বিজেপির নির্বাচনী আধিপত্যকে মূলত একটি কারচুপিপূর্ণ বা আপস করা নির্বাচনী ব্যবস্থার ফল হিসাবে ব্যাখ্যা করলে বিপুল পরিমাণ রাজনৈতিক প্রমাণকে উপেক্ষা করা হয়। একই সঙ্গে এটি কংগ্রেস এবং বৃহত্তর বিরোধী শিবিরের জন্য এক ধরনের আত্মপক্ষসমর্থনের পথও খুলে দেয়। সবচেয়ে সহজ প্রশ্নটাই ধরা যাক: ভারতের ভোটাররাও কি এই ষড়যন্ত্রের অংশ? ২০১৪ সালের পর একের-পর-এক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি বিশেষত হিন্দি বলয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল এবং পশ্চিম ভারতে এখনও শক্তিশালী ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। জনমত সমীক্ষা ভুল হতে পারে তা যাচাই করার কাজ সমীক্ষা সংস্থার। কিন্তু বিজেপি শুধুমাত্র জনপ্রিয়তা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা পেয়েছে বলেই এত সব, বাকি গত এক দশকে ভারতীয় রাজনীতিতে যা ঘটেছে তা অস্বীকার করা যায় কী!

বিজেপির জনপ্রিয়তা শুধু মোদি ফ্যাক্টরের উপর বর্তায় না। বিজেপি এমন একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে, যার সমতুল ব্যবস্থা কংগ্রেস গড়ে তুলতে পারেনি। বিজেপির রয়েছে বিস্তৃত ক্যাডার নেটওয়ার্ক, আরএসএসের সাংগঠনিক পরিসর, বিপুল আর্থিক সংস্থান, আক্রমণাত্মক যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুস্পষ্ট আদর্শগত অবস্থান এবং জাতীয় রাজনৈতিক বয়ানকে নির্বাচনী প্রচারে রূপান্তর করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। অর্থের কথাই ধরুন। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি– এই ৫ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মোট ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে দেখিয়েছে। একই নির্বাচনে কংগ্রেসের ঘোষিত ব্যয় ২৪৮.৫৫ কোটি টাকা। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই বিজেপি ২৮৬.৯৯ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে জানিয়েছে– যা ৫ রাজ্যে কংগ্রেসের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

এগুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে ঘোষিত সরকারি হিসাব; অঘোষিত ব্যয়ের কথা সহজেই অনুমেয়। এই পরিসংখ্যান নির্বাচনী অনিয়মের প্রমাণ না হলেও এটি দেশের দুই প্রধান জাতীয় দলের হাতে থাকা সম্পদের বিপুল বৈষম্যকে স্পষ্ট করে। একদিকে সুপরিকল্পিত, অত্যন্ত দক্ষ একটি ফেরারি; অন্যদিকে যেন সেকেন্ড-হ্যান্ড ফিয়াট– একে সমান প্রতিযোগিতার ময়দান বলা কঠিন। মনে রাখতে হবে, বিজেপির আর্থিক সচ্ছলতা ছোটখাট বিষয় নয়। একই নির্বাচনী সময়কালে বিজেপির কেন্দ্রীয় সদর দফতর প্রায় ১,৪৭৩ কোটি টাকা আয় বা অনুদান পেয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে; কংগ্রেসের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক মাত্র ২০৭ কোটি টাকা।

নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরি– এই ৫ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মোট ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা খরচ করেছে বলে দেখিয়েছে। একই নির্বাচনে কংগ্রেসের ঘোষিত ব্যয় ২৪৮.৫৫ কোটি টাকা।

একটি বিপুল ক্ষমতাশালী নির্বাচনী পরিকাঠামোর অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রয়োজন হয় না। বরং প্রশ্নটি হওয়া উচিত– দশকের পর দশক দেশ শাসন করার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস কেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর সমতুল্য মজবুত কার্যকর রাজনৈতিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি? এ প্রশ্নটিই রাহুল গান্ধীকে মোকাবিলা করতে হবে। কংগ্রেসের সমস্যাগুলিকে সবসময় নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অবক্ষয়, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, দলবদল, রাজ্যস্তরে দুর্বল সংগঠন এবং একটি আকর্ষণীয় ‘বিকল্প’ রাজনৈতিক বয়ানের অভাব– সবই কংগ্রেসের পতনে ভূমিকা রেখেছে। একের পর এক রাজ্যে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস যেন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার আগেই অন্তর্দ্বন্দ্বে জেরবার। আর, এখানেই অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ প্রতিষ্ঠানবিরোধী জনমত যে নেই, তা নয়।

২০১৮ সালে কংগ্রেস– হিন্দি বলয়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য– মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তীশগড়ে, বিজেপিকে পরাজিত করেছিল। অর্থাৎ, এ কথা প্রমাণিত– বিজেপি অপরাজেয় নয়। ২০২৩ সালে কর্নাটকে বিজেপি ক্ষমতা হারায়। ২০২৪ সালে বিজেপি লোকসভায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতাও হারায় এবং সরকার গঠনের জন্য শরিকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলাফলটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছিল যে, ভারতীয় ভোটাররা ক্ষমতাসীন দলকে শাস্তি দিতে পারে এবং দেয়ও। তাহলে সম্ভবত রাহুলের প্রশ্নটি হওয়া উচিত ছিল– মোদির বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কাজ করে না, তা নয়। বরং বিরোধীরা কেন
অ্যান্টি-ইনকামবেন্সিকে একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় বিকল্পে রূপান্তর করতে পারেনি?

২০১৯ সালে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা ২০১৮ সালের রাজ্যস্তরের সাফল্যকে জাতীয় চ্যালেঞ্জে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়। পুলওয়ামা-বালাকোট পর্ব রাজনৈতিক বয়ানকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয় এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের একটি শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হয়। ২০২৪ সালে বিরোধীরা লোকসভায় নিজেদের অবস্থান অনেকটাই উন্নত করলেও ‘ইন্ডিয়া’ জোট কখনও সেই সুসংহত রাজনৈতিক বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য, নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন এবং একাধিক কৌশলগত ভুল বারবার সম্ভাবনাকে দুর্বল করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ইন্ডিয়া জোট ছেড়ে বেরিয়ে যান জোট গঠনের অন্যতম প্রধান কারিগর নীতীশ কুমার। এই সিদ্ধান্ত– বিরোধী রাজনীতির অভ্যন্তরে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সংঘাতের গভীরতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

২০১৯ সালে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধীরা ২০১৮ সালের রাজ্যস্তরের সাফল্যকে জাতীয় চ্যালেঞ্জে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়। পুলওয়ামা-বালাকোট পর্ব রাজনৈতিক বয়ানকে নাটকীয়ভাবে বদলে দেয় এবং জাতীয়তাবাদী আবেগের একটি শক্তিশালী ঢেউ তৈরি হয়।

কংগ্রেস একই সঙ্গে এই দাবি করতে পারে না যে, বিজেপি নির্বাচনে অপরাজেয় আর তারপর প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে পারে যে, বিরোধীদের অন্দরমহল কি আদৌ কোনওদিন ঘুণ-মুক্ত হবে! আর এখানেই আবার ফিরে আসতে হয় রাহুল গান্ধী প্রসঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাব চাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর দাবি যথার্থ। যে নির্বাচনী আম্পায়ারের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, তিনি শুধু ‘আমাদের বিশ্বাস করুন’ বলে দায় এড়াতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজন আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা। বিশেষ করে ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে আরও বিস্তৃত তথ্য প্রকাশ এবং স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবি অস্বীকার করার উপায় নেই।

কিন্তু উত্তরটা এখানেই থেমে থাকতে পারে না। বিরোধীদের যদি সত্যিই মনে হয় যে কেন্দ্রীভূত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বর্জনের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হয়েছে, তাহলে তাঁদের স্বাভাবিক ও স্পষ্ট দাবি হওয়া উচিত– এই পুরো প্রক্রিয়ার একটি স্বাধীন অডিট। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র ধরে, প্রতিটি সংযোজন ও বর্জনের হিসাব খতিয়ে দেখে, প্রতিটি অ্যালগরিদম ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা। আগে তথ্য ও সত্য প্রতিষ্ঠিত হোক। প্রমাণ অনুসরণ করা হোক। সমস্যার ব্যাপ্তি কতটা, তা প্রমাণই নির্ধারণ করুক। কিন্তু সেই কাজ হয়ে গেলে বিরোধীদেরও আয়নায় নিজেদের মুখ দেখতে হবে। কারণ প্রতিটি পরাজয়ের ব্যাখ্যা শুধু আম্পায়ারকে দোষ দিয়ে দেওয়া যায় না। কারণ যেসব নির্বাচনে কমিশন মূল বিতর্কের বিষয় ছিল না, সেখানেও কংগ্রেস পরাজিত হয়েছে। আবার বিজেপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থাতেও কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। আর, বিজেপির উত্থানকে শুধুমাত্র কোনও নির্বাচনী আম্পায়ারের কথিত ব্যর্থতা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর নেপথ্যে রয়েছে আরও বৃহত্তর এক রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, আদর্শগত এবং নেতৃত্বের কাহিনি– যার ব্যাপ্তি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার চেয়ে অনেক বেশি।

রাহুল গান্ধীর জন্য বিপদটা এখানেই, তিনি যত বেশি বাইরের দিকে তাকাবেন, ততই তাঁর চাপ কমবে। সম্ভবত কংগ্রেসের সামনে আসল চ্যালেঞ্জ– একই সঙ্গে দু’টি বিষয় মাথায় রাখা: একদিকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা; অন্যদিকে নিজেদের রাজনৈতিক সংগঠন ও নির্বাচনী যন্ত্রের কার্যকারিতা পুনর্গঠন করা। একটি ছাড়া অন্যটি যথেষ্ট নয়।

পুনশ্চ আমার শেষ নির্বাচনী বইয়ে ব্যবহৃত একটি পরিসংখ্যান ঘটনাটিকে যে কোনও রাজনৈতিক বক্তৃতার চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিজেপির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা প্রায় ৭.৮৪ কোটি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে বিপুল ২৩.৫৯ কোটিতে। বিপরীতে, কংগ্রেসের ভোটসংখ্যা প্রায় ১১.৯ কোটি থেকে সামান্য বেড়ে ১৩.৬৭ কোটিতে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যান অবশ্য সবকিছুর ব্যাখ্যা নয়– ভারতের নির্বাচনী মানচিত্র একটি জাতীয় ভোটের মোট হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। কিন্তু এই সংখ্যাগুলি গত দেড় দশকে ভারতীয় রাজনীতিতে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের ব্যাপকতা সম্পর্কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.