Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Baby Elephant Rescued

ক্লান্তিকর খবরের ভিড়ে হস্তিশাবকের বাঁচার গল্প যেন রূপকথা!

এ পৃথিবীতে এত মিথ্যে! কিন্তু নাড়ির টানে পরিবর্তন আনে, ভেজাল মেশায়, কার সাধ্য?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১৪:৫১

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬, ১৪:৫১

options
link
ক্লান্তিকর খবরের ভিড়ে হস্তিশাবকের বাঁচার গল্প যেন রূপকথা! zoom
ছবি: সংগৃহীত।
Advertisement

৫ মৎস্যজীবীর তৎপরতায় বাঁচল হস্তিশাবক (Baby Elephant Rescued)। মা ও সন্তানের মিলনদৃশ্য থেকে প্রমাণিত- নাড়ির টানে পরিবর্তন আনে, ভেজাল মেশায়, কার সাধ্য?

উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘হ্যামলেট’ নাটকের একটি দৃশ্যে হ্যামলেট নিবিষ্ট হয়ে বই পড়ছেন। রাজকুমারকে প্রশ্ন করা হল- ‘হোয়াট আর ইউ রিডিং মাই লর্ড?’ হ্যামলেট ক্লান্ত, বিহ্বল উত্তরে জানালেন: ওয়ার্ডস, ওয়ার্ডস, অ্যান্ড ওয়ার্ডস! নিরর্থ, ক্লান্তিকর, পুনরাবৃত্তি। ক্রমশ সংবাদপত্রও যেন তাই। খবর যেন শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ, রেষারেষি, অশান্ত রোহণ-অবরোহণের অগ্নানি প্রচার। কিন্তু মঙ্গলবারের সংবাদপত্রে এক আকস্মিক দৈগন্তিক ‘ডিপারচার’। ‘করভিক’ গল্পও বলা যায়। কেননা, ‘করভ’ সেই বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ, যার অর্থ ‘করীর’ অর্থাৎ, হাতির বাচ্চা।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

এই অনন্য স্বাদু ও সাধু গল্পটা হল, তিস্তার জলে ভেসে যাওয়া এক অসহায় হস্তিশাবককে কীভাবে উদ্ধার করে তাকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন ৫ তরুণ মৎস্যজীবী, সেই মায়াময় রূপকথা, যা সত্যি ঘটেছে সোমবার ভোরে জলপাইগুড়ির গজলডোবায়। সময়: ভোর ৫টার কাছাকাছি। আশ্বিনের তিস্তা এখানে পাক খেয়ে ছুটছে প্রচণ্ড গতিতে। আর ঠিক এখানেই গজলডোবা জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একদল হাতি ঠিক করল তিস্তা পার হয়ে যাবে ওপারে বৈকুণ্ঠপুর জঙ্গলে। কিছুটা যেতেই এক হস্তিনীর বাচ্চা তিস্তার স্রোত সামলাতে পারল না কিছুতেই। মায়ের চোখের সামনে ভেসে গেল। খুদে শুঁড়টাকে মরিয়া চেষ্টায় জলের উপরে রেখে সেই শাবক ভেসে চলে আসে ৩-৪ কিলোমিটার দূরে তিস্তার নিম্ন অববাহিকায়। সেখানে তখন নৌকায় ৫ মৎস্যজীবী- মিঠু, রাজেশ, বাবলু, অজয়, বিশ্বনাথ। প্রত্যেকের পদবিই দাস। এঁরা দূর থেকে দেখতে পেলেন, একটা কালো মতো কিছু বারবার ভেসে উঠেই ডুবে যাচ্ছে।

খবর যেন শুধু রাজনৈতিক স্বার্থ, রেষারেষি, অশান্ত রোহণ-অবরোহণের অগ্নানি প্রচার। কিন্তু মঙ্গলবারের সংবাদপত্রে এক আকস্মিক দৈগন্তিক ‘ডিপারচার’।

নৌকো নিয়ে কাছে যেতেই স্পষ্ট হয়: একটি হস্তিশাবক প্রাণপণ লড়াই করছে তিস্তার স্রোতে বেঁচে থাকতে। রাজেশ, বাবলু, বিশ্বনাথ সাঁতরে চলে যান বাচ্চাটাকে বাঁচাতে। তারপর মিঠু আর অজয় নৌকো নিয়ে পৌঁছে যান সেখানে। হাতির বাচ্চা তো! ৫ সাঁতারু তরুণ হিমসিম খান তাকে নৌকায় তুলতে। তারপর নৌকোর ব্যালেন্স রাখাও কঠিন কাজ। মায়ের কাছে যাওয়ার জন্যে বাচ্চাটা ছটফট করছে। বাগে আনা যাচ্ছে না। তখন দু’জন বাচ্চাটাকে আঁকড়ে ধরে নৌকায় বসলেন। অন্য ৩ জন সাঁতরে নৌকো ঠেলতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত ভিড়লেন গজলডোবার ১২ নম্বর ঘাটে। এরপর মোবাইলে এই যুবকরা জানালেন তারঘেরা ও কাঠামবাড়ি রেঞ্জের বনকর্মীদের।

তিস্তার জলে ভেসে যাওয়া এক অসহায় হস্তিশাবককে কীভাবে উদ্ধার করে তাকে তার মায়ের কাছে পৌঁছে দিলেন ৫ তরুণ মৎস্যজীবী, সেই মায়াময় রূপকথা, যা সত্যি ঘটেছে সোমবার ভোরে জলপাইগুড়ির গজলডোবায়।

এক সময় এল এই রূপকথার শেষ দৃশ্য। মা হাতি তার দলের সঙ্গে যায়নি। দাঁড়িয়ে আছে জলের মধ্যে সন্তানের ফিরে আসার অপেক্ষায়। শাবকটিকে মায়ের কাছে নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিতেই আনন্দে আকাশ-ফাটানো ধ্বনি তুলল মা হাতি। মায়ের কাছে ছুটে চলে গেল খুদে। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ শাখার মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বললেন, শাবকের বয়স একমাসও হয়নি। মা ছাড়া এইটুকু বাচ্চাকে বাঁচিয়ে রাখা শক্ত হত। মা আর সন্তানের মিলনদৃশ্যে ৫ তরুণের চোখে জল। এ পৃথিবীতে এত মিথ্যে! কিন্তু নাড়ির টানে পরিবর্তন আনে, ভেজাল মেশায়, কার সাধ্য?

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.