প্রতিবাদ করলেই সে ‘দেশবিরোধী’ নয়। আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের এই কথা কি মাথায় থাকবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’দের?
১৯৬৩। বার্মিংহ্যামের সিক্সটিন স্ট্রিট ব্যাপটিস্ট চার্চ। কথা ছিল সেখানে জড়ো হয়ে ওরা হেঁটে যাবে শহরের কেন্দ্রস্থল ডাউনটাউনে। বয়স বড়জোর ১০ কি ১২। প্রত্যেকে স্কুলপড়ুয়া। প্রতিবাদে নেমেছে ওরা। সংখ্যায় প্রায় ১০০০। মেয়রের সঙ্গে দেখা করে শহরের আইনত বৈধ বর্ণবৈষম্য ও বিভাজন নিয়ে কথা বলবে। ওদের গ্রেপ্তার করা হয়। ছাড়া হলে পরের দিন ফের সরকার-বিরোধিতায় নামে ওরা। তবে এবার আর পার পায়নি। প্রথমে মোটা হোসপাইপে জলকামান দেগে ও পরে প্রশিক্ষিত কুকুর লেলিয়ে ওদের ‘টাইট’ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ফলাফল কিন্তু ভালো হয়নি। পরিস্থিতির কাছে একপ্রকার নতিই স্বীকার করেন তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এফ কেনেডি। জনসমক্ষে কেন্দ্রীয় নাগরিক অধিকার আইনের পক্ষে সমর্থন জানান, যা পরবর্তীতে ১৯৬৪-র ঐতিহাসিক ‘সিভিল রাইটস অ্যাক্ট’ পাসের পথ প্রসারিত করে। কেনেডি স্বীকার করে নিতে কার্যত বাধ্য হন- ভুল হোক বা ঠিক, সরকারের উচিত কিশোর-যুবক-তরুণদের বক্তব্যে এক কান খাড়া রাখা।
আরও পড়ুন:
এককাঠি উপরে গিয়ে ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ’ প্রধান মোহন ভাগবত বললেন, ‘যদি অন্ধ সমর্থনের প্রশ্ন তোলেন, আমি অবশ্যই জেন জি-দের তা করব।’ সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘দ্য রোল অফ ইয়ুথ ইন ইউনাইটিং দ্য ওয়ার্ল্ড, দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ে’ শীর্ষক এক কনফারেন্সে ভারতের তরুণদের প্রতি স্নেহবৎসল ও প্রশ্রয়ী শোনায় ভাগবতকে। অকপট স্বীকারোক্তি সংঘপ্রধানের জেন জি ও আলফা-রা তাঁদের প্রজন্মের তুলনায় সৎ।
সম্প্রতি ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে জেন জি-রা। তাদের প্রতিবাদের ভাষা ও ভাষ্য নিয়ে দেশজুড়ে সমর্থন ও সমালোচনার যুগপৎ চোরাস্রোত বয়েছে। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সরব সাহসকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারেনি দেশ।
দেশভাগ ও রাষ্ট্রহিতে তাদের যোগদানও স্বতঃস্ফূর্ত। তারা যদি কোনও বিষয় নিয়ে আন্দোলন করে, তা অবশ্যই শ্রুত হওয়ার দাবি রাখে। প্রতিবাদ মানেই ‘দেশবিরোধিতা’ নয়। মনে রাখতে হবে, তারাই আমাদের উত্তরসূরি।
সম্প্রতি ‘নিট’ প্রশ্নপত্র ফাঁসে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে জেন জি-রা। তাদের প্রতিবাদের ভাষা ও ভাষ্য নিয়ে দেশজুড়ে সমর্থন ও সমালোচনার যুগপৎ চোরাস্রোত বয়েছে। তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে সরব সাহসকে কুর্নিশ না জানিয়ে পারেনি দেশ।
খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘ফ্রেন্ড’ জেন জি-দের সঙ্গে তাদের বোলচালেই জলন্ত খাণ্ডবে জল ঢালতে হয়েছে। তাও আবার সেই সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করেই, যা কিনা আদতে জেন জি-দেরই শস্ত্র। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘দেশবিরোধী’ স্লোগানে আপত্তি জানায় অনেকেই। এবার সেই বিরোধিতারই পাল্লা ভারী করে বাৎসল্য রসের অনন্য নজির গড়লেন শ্রীভাগবত। তাতে হরেদরে মান্যতা পেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যকর প্রতিবাদের বিষয়টিও।
‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ’ প্রধান মোহন ভাগবত বললেন, ‘যদি অন্ধ সমর্থনের প্রশ্ন তোলেন, আমি অবশ্যই জেন জি-দের তা করব।’ সম্প্রতি মুম্বইয়ে আয়োজিত ‘দ্য রোল অফ ইয়ুথ ইন ইউনাইটিং দ্য ওয়ার্ল্ড, দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ে’ শীর্ষক এক কনফারেন্সে ভারতের তরুণদের প্রতি স্নেহবৎসল ও প্রশ্রয়ী শোনায় ভাগবতকে।
তবে ‘অন্ধ সমর্থন’ কখনওই কাম্য নয়। যে কোনও প্রতিবাদ ও প্রতিবাদীর ভাষাই যুক্তির নিক্তিতে মাপা উচিত, এও সত্য। তবে আশা করি, ভাগবতের কথা মাথায় রেখে প্রতিবাদ করলেই ‘দেশবিরোধী’ দাগিয়ে দেওয়ায় ইতি টানবে তথাকথিত ‘দেশভক্ত’রা?
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
আয়ুষ্মানে ছোট নার্সিংহোমেও মিলবে ৫ লক্ষ পর্যন্ত ক্যাশলেস সুবিধা, পিছিয়ে পড়াদের জন্য বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যদপ্তরের
-
তেইশ সালেই রাজনীতিকে বিদায়! এবার ‘রামায়ণ’-এর ট্রেলার বেরতেই কেন যোগীর দরবারে সানি দেওল?
-
এত লম্বা, সত্যি! চুলের দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, গিনেস বুকে নাম উঠল উত্তরাখণ্ডের এলোকেশী কন্যার
-
প্রেমিকাকে সোনাগাছিতে বিক্রি যুবকের! ১০০ ডায়ালে ফোন পেয়ে একঘণ্টায় হাজির পুলিশ, তারপর…
-
তথ্য ভাঁড়িয়ে ভিসার আবেদন! ২ বছর নিষিদ্ধ পাকিস্তানের উঠতি ক্রিকেটার হামজা