৩ কার্তিক  ১৪২৬  সোমবার ২১ অক্টোবর ২০১৯ 

Menu Logo পুজো ২০১৯ মহানগর রাজ্য দেশ ওপার বাংলা বিদেশ খেলা বিনোদন লাইফস্টাইল এছাড়াও বাঁকা কথা ফটো গ্যালারি ভিডিও গ্যালারি ই-পেপার

জাতীয় স্বার্থই তাঁর কাছে সবচেয়ে জরুরি। তিনি নরেন্দ্র মোদি। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১২ বছর ক্ষমতাসীন থাকার সময়ই তাঁর এই ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। ২০০৪—’১৪ এই দীর্ঘ সময়ে, দেশে রাজনৈতিক পঙ্গুত্ব, দুর্নীতি এবং নেতৃত্বের অভাব যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, সেই সময়েই তাঁর অতিপ্রয়োজনীয় উত্থান ঘটে। সে কারণেই, মানুষ তাঁকে ভালবেসেছে।

‘লেভেল ফাইভ’ কিংবা পঞ্চস্তরীয় নেতৃত্ব বলতে বোঝায় – সেই নেতার মধ্যে থাকবে সততা ও নিষ্ঠা, প্রতিশ্রুতিপরায়ণতা ও আবেগ, সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিচক্ষণতা এবং জবাবদিহিতায় অখণ্ডতা। সর্বোপরি তাঁকে হতে হবে অনুগামীদের সঙ্গে মেলামেশায় সহজ, তাঁর থাকতে হবে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মন। থাকবে প্রতিনিধিত্বের গুণ, ক্ষমতার দার্ঢ্য এবং অবশ্যই তিনি হবেন একজন অনুপ্রেরণাকারী। এই সমস্ত গুণই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রয়েছে।

[আরও পড়ুন: খাণ্ডবদহন থেকে ‘ইকোসাইড’, প্রকৃতির বিনিময়ে চলছে দখলের রাজনীতি]

সততা ও অখণ্ডতায় তিনি স্বয়ম্ভু এবং চূড়ান্ত। জাতীয় স্বার্থই তাঁর প্রাথমিক আগ্রহের বিষয়। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ১২ বছর ক্ষমতাসীন থাকার সময়ই তাঁর এই ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্রহণযোগ্যতা পায়। ২০০৪ – ’১৪, এই দীর্ঘ সময়ে, দেশে রাজনৈতিক পঙ্গুত্ব, দুর্নীতি এবং নেতৃত্বের অভাব যেভাবে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, সেই সময়েই তাঁর এই অতিপ্রয়োজনীয় উত্থান ঘটে। সে কারণেই, মানুষ তাঁকে ভালবেসেছে। দরিদ্রেরও দরিদ্র, হতদরিদ্র মানুষ তাঁর এই সততা ও অখণ্ডতাকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করেছে।
একথা সর্বজনগ্রাহ্য যে, নিরক্ষরের বুদ্ধিমত্তা শিক্ষিতজনের অপারদর্শিতার চেয়ে অনেক বেশি এফেক্টিভ। বিগত পাঁচ বছরে, তাঁর সরকারের নামে ন্যূনতম দুর্নীতির আঁচ এসে পড়েনি।
‘চন্দ্রযান ২’—এর অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর ইসরোর বিজ্ঞানীদের তিনি যেভাবে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, সেখানে তাঁর মানবিক অভিব্যক্তি ছিল স্পষ্টত দৃশ্যমান। শ্রীহরিকোটা থেকে বিদায় নেওয়ার আগে, ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়রদের উদ্দেশে তিনি অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণামূলক ভাষণ দিয়েছিলেন।
২০১৪য় ক্ষমতায় এসে, সংসদে প্রবেশের আগে মাথা নত করেছিলেন। একইভাবে প্রণত হয়েছিলেন সংবিধানের সামনে। এবং সরকারের তরফে ঘোষণা করেছিলেন – দরিদ্র শ্রেণি, তফসিলি উপজাতি, অনগ্রসর এবং এ যাবৎ অবহেলিত শ্রেণির মানুষদের হিতেই এই সরকার। তাঁর স্বরোচ্চারে উত্থিত হয়েছিল ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ স্লোগান। এ বছর সেই স্লোগানে তিনি যোগ করেছেন – ‘সবকা বিশ্বাস’।
তাঁর ভাবনা জগৎটিই আদ্যন্ত ব্যতিক্রমী। তাঁর চিন্তাধারা স্বতন্ত্র পদ্ধতিতে এগোয়। অনুপ্রেরণা জোগাতে এবং আমলাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা পাওয়ার জন্য সরকারের কর্মসূচির প্রকৃষ্ট এবং স্বচ্ছ একটি মানচিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। ১০টি ভিন্ন ক্ষেত্রের জন্য তিনি সচিবদের ১০টি গ্রুপে নিয়োগ করেন। প্রত্যেকটি গ্রুপ তাদের পরিকল্পনা পেশ করে এবং সেসব মনোযোগ সহকারে শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আদেশ দেন – কাজে লেগে পড়ুন। গতির সঙ্গে কাজ করুন। এবং লক্ষ্যে পৌঁছন সফলভাবে। পরের বছর আবার সেই গ্রুপগুলির কাছে তাদের কাজের খতিয়ান নেন তিনি।
কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে, কেমনভাবে এই চাপের সঙ্গে তারা বোঝাপড়া করবে, কীভাবে জীবনের বাধাবিপত্তি কাটিয়ে উঠবে ও ঝঞ্ঝা অতিক্রম করবে – সে বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করতে এবং পথ দেখাতে তিনি একটি বই লিখেছেন। তিনিই সম্ভবত প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি এমন পদক্ষেপ করলেন ছাত্রসমাজের উদ্দেশে।
তিনিই সম্ভবত প্রথম সেই ভারতীয় রাজনীতিক, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ার অসীম ক্ষমতা ও সম্ভাবনা বুঝতে পেরেছিলেন। এবং তা প্রয়োগ করেছেন শুধুমাত্র জনমানসে পৌঁছে যাওয়ার জন্যই নয়, যুবসমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতেও।
জনসাধারণের কাছে পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারে, তাদের সঙ্গে কথোপকথনে, সংযোগ স্থাপনে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ ও অনন্য। সাধারণত তিনি মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথায় যান, কথার মধ্য দিয়েই তিনি সেতুবন্ধনী নির্মাণ করেন এবং তাদের বিশ্বাস জোগান অক্লান্তভাবে। গ্যাসের ভরতুকি কিংবা ভ্রমণে ছাড়ের ক্ষেত্রে কোনওরকম অন্যথা ঘটলেও মানুষ তাঁর কথায় সাড়া দিয়েছে। কথার মধ্য দিয়েই তিনি অবিরাম অনুপ্রেরণা দিয়ে গিয়েছেন।
জিএসটি, বিমুদ্রাকরণ, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক, দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ, ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিলোপ, তাৎক্ষণিক তিন তালাক আইনত নিষিদ্ধকরণ – তাঁর সিদ্ধান্তমূলক নেতৃত্বরই বহুল উদাহরণ। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য ১০ শতাংশ সংরক্ষণ, উজ্জ্বলা গ্যাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ‘উজালা এলইডি দান’, ‘মুদ্রা’, ‘স্কিল ইন্ডিয়া’, ‘আয়ুষ্মান ভারত’, ‘কিষান সম্মান’, অসংগঠিত মজুর-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী-কৃষকদের জন্য ভাতা, কৃষকদের জন্য ধার্য পারিশ্রমিক, সাড়ে ৯ কোটি শৌচালয় নির্মাণ – এসব দৃষ্টান্ত দরিদ্রশ্রেণিকে শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্যেই।
জিএসটি তাঁর সামবায়িক যুক্তরাষ্ট্রীয় বিশ্বাসেরই জলজ্যান্ত উদাহরণ। জিএসটির প্রত্যেকটি নীতি, নিয়ম এবং রেট ধার্য করা হয়েছিল সর্বসম্মতিক্রমেই, যেখানে কিনা নির্বাচনী পদ্ধতিতে এই নিয়ম-নীতি প্রণয়নের যথাযথ ব্যবস্থাই ছিল। কেন্দ্রীয় খাত থেকে রাজ্যে রাজ্যে বিকেন্দ্রীকরণের হার ৩২ শতাংশ থেকে আজ ৪৯.৫ শতাংশে পৌঁছেছে – এই সরল গণিতের মধ্য দিয়েই বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ভাবনায় তাঁর কতখানি অগাধ বিশ্বাস।
ক্ষমতার দ্বিতীয় দফায় এসে তিনি আরও নতুন নতুন লক্ষ্যের দিশা উত্থাপন করেছেন। ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ইকনমি, ঘরে ঘরে জল সরবরাহ, অভাবগ্রস্ত শ্রেণিকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদান এবং সর্বোপরি ‘সবকা বিশ্বাস’, সবার বিশ্বাস অর্জন তাঁর মূল লক্ষ্য।
তিনি সৃজনশীল এবং উদ্ভাবনী মননের অধিকারী একজন নেতা। তিনি বুঝেছেন – আবিষ্কারে, গবেষণায় ভারত পিছিয়ে রয়েছে। এবং এই পথই দেশের শক্তিশালী হয়ে ওঠার পাথেয়। তাই প্রায় ৩০০০ স্কুলে তিনি ‘অটল টেকনোলজি ল্যাব’ সূচনা করেছেন, যেখানে রোবটিক্স, থ্রি ডি প্রিন্টিংয়ের মতো অত্যাধুনিক বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ চলে, শেখানো হয়। ছাত্রছাত্রীরা এসব আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করছে এবং দারুণ সব ভাবনাচিন্তা নিয়ে তারা বেড়ে উঠছে। এ সবই অলিম্পিয়াডের জন্য ভাবিত ও নির্মিত। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাঁর প্রয়াস – ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন’। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সমস্যা নাড়াচাড়া করবে এবং ডিজিটাল বা হার্ডওয়্যারঘটিত বিষয়ের মাধ্যমে সমাধানে আসবে। এই ইভেন্টের চূড়ান্ত ধাপ বর্তমানে ২৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে ১০০০ জন ছাত্রছাত্রী একটানা ৩৬ ঘণ্টা ধরে কাজ করে চলেছে। প্রতি বছর এই ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে তিনি মধ্যরাতে আলোচনা করেন এবং অনুপ্রেরণা জোগান।

[আরও পড়ুন: জানেন, কেন ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ১৫ আগস্ট দিনটিকেই বেছে নিয়েছিল ইংরেজরা?]

দেশের বিভিন্ন আইআইটি এবং এনআইটি—তে তিনি ‘অটল ইনকিউবেশন সেন্টার’—এর নির্মাণ সুনিশ্চিত করেছেন। এই বাজেটে যেমন তিনি ‘ন্যাশনাল রিসার্চ ফান্ড’ যোজনা নির্মাণের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। বিভিন্নরকম প্রধানমন্ত্রীপ্রদত্ত বৃত্তির ঘোষণা করেছেন অত্যাধুনিক এবং প্রগতিশীল গবেষণার কাজে অনুপ্রেরণা জোগানোর জন্য। নিয়মিতভাবে তিনি স্টার্ট—আপ কাজের ক্ষেত্রে আলোচনায় আসেন, যুবসমাজের সঙ্গে আলাপ করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী ভাবনাচিন্তা শোনেন।
কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে, কেমনভাবে এই চাপের সঙ্গে তারা বোঝাপড়া করবে, কীভাবে জীবনের বাধাবিপত্তি কাটিয়ে উঠবে, অতিক্রম করবে– সেসব বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় করতে এবং পথ দেখাতে তিনি একটি বই লিখেছেন। এই ব্যাপারে তিনিই সম্ভবত প্রথম প্রধানমন্ত্রী, যিনি এমন পদক্ষেপ করলেন ছাত্রসমাজের উদ্দেশে।

আরও পড়ুন

ট্রেন্ডিং