‘২৬ বিশ্বকাপে আফ্রিকার অজানা দেশ উঠে এসেছে। তেমনই উঠে এসেছে চেনা দেশের চেনা ফুটবলারের অজানা দিক। তিনি আর্লিং হালান্ড। বাঙালি জীবনে আর্লিং হালান্ডের আগে ফ্রান্সিস এসেছিল। ‘অনেক দিন আগের কথা। শান্ত সমুদ্রের বুক চিরে চলেছে একটা নিঃসঙ্গ পালতোলা জাহাজ। যত দূর চোখ যায় শুধু জল আর জল, সীমাহীন সমুদ্র। বিকেলের পড়ন্ত রোদে পশ্চিমের আকাশটা যেন স্বপ্নময় হয়ে উঠেছে। জাহাজের ডেকে দাঁড়িয়ে সেই দিকে তাকিয়ে ছিল ফ্রান্সিস।’
কে এই ফ্রান্সিস? ‘জাতিতে ভাইকিং। ইউরোপের পশ্চিম সমুদ্রপথে ভাইকিংদের দেশ। ভাইকিংদের অবশ্য বদনাম ছিল জলদস্যুর জাত বলে। শৌর্যে বীর্যে এবং জাহাজ চালনায় অসাধারণ নৈপুণ্যের জন্যে ইউরোপের সব জাতিই তাদের তারিফ করত। ফ্রান্সিস কিন্তু সাধারণ বাড়ির ছেলে না।
আরও পড়ুন:
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের জাতীয় দলের তারকা আর্লিং হালান্ড রাতারাতি নায়ক হয়ে ওঠেন। বিশেষত, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে, এবং বিশ্বকাপ থেকে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন দেশটিকে ছিটকে দিয়ে।
ভাইকিংদের রাজার মন্ত্রীর ছেলে বিদেশি জাহাজে যাচ্ছিল সাধারণ নাবিকের কাজ নিয়ে নিজের পরিচয় গোপন করে।’ ‘সোনার ঘণ্টা’ উপন্যাসে অনিল ভৌমিক বাংলায় প্রথম ‘ভাইকিংস’-এর আখ্যান তুলে ধরেন। ভাইকিংদের নায়ক রূপে আত্মপ্রকাশ ঘটে ফ্রান্সিসের। ভাইকিংস বলতে বোঝায় একটি বিশেষ নৃগোষ্ঠীকে, জাতিসত্তার পরিচয়ে যারা স্বতন্ত্র। স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের (বর্তমান মানচিত্রে ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন) অধিবাসীদের বলা হত ভাইকিংস। ৮ থেকে ১১ শতক পর্যন্ত সমুদ্রপথে তারা ছিল ত্রাস। লুঠপাট, ডাকাতির ঠেলায় অতিষ্ঠ করে রেখেছিল অন্য দেশের নাবিকদের। ভাইকিংসদের অন্যতম গুণ- ব্যবসায় সমৃদ্ধি। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য তারা ভূমধ্যসাগরের আশপাশে, উত্তর আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য, গ্রিনল্যান্ড, উত্তর আমেরিকা ও কানাডা পর্যন্ত পাড়ি দিয়েছিল। মধ্যযুগে উত্তর ও পূর্ব ইউরোপের সংস্কৃতিতে তাদের প্রভূত প্রভাব পড়ে।

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের জাতীয় দলের তারকা আর্লিং হালান্ড রাতারাতি নায়ক হয়ে ওঠেন। বিশেষত, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জোড়া গোল করে, এবং বিশ্বকাপ থেকে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন দেশটিকে ছিটকে দিয়ে। হালান্ডের হাঁটাচলা, খাওয়াদাওয়া, রকমসকম এত লোকপ্রিয় হয়েছে যে রিলের পর রিল জুড়ে কেবল হালান্ডের চলাচল। তবে যারা ফুটবল অনুরাগী ও নিয়মিত খবর রাখে, তাদের কাছে হালান্ডের নাম বিন্দুমাত্র অপরিচিত নয়। ‘ইপিএল’-র ম্যানচেস্টার সিটিতে তিনি লাগাতার চমকপ্রদ পারফর্ম করে চলেছেন। গতি, শক্তি, টেকনিক ও গোলের খিদে তাঁকে করে তুলেছে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক ফরওয়ার্ড।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে অবশ্য জানে না, আর্লিং হালান্ডের বাবা আলফি হালান্ড-ও একদা খেলতেন ইপিএলে। ২০০১-এ ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ঘটে যায় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা। আলফি খেলছিলেন সিটির হয়ে। পুরনো রাগের জ্বালা মেটাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রয় কিন জেনেবুঝেই মারাত্মক ট্যাকল করেন তাঁকে। এর জেরে অকালে শেষ হয়ে যায় আলফির ফুটবল কেরিয়ার। ছেলেকে এরপরেও বাবা ফুটবল থেকে দূরে রাখতে চাননি। আর্লিং নিজেও চেয়েছেন, ফুটবলার হতে। তবে তাঁর শপথ: ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে কখনও খেলব না। ক্ষতের দাগ এখনও দগদগে হয়ে রয়েছে হৃদয়ে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
শহিদ দিবসে কর্মীদের জন্য ডিম-ভাতের আয়োজন ঋত শিবিরের! থাকবেন ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে
-
‘মূল্য চোকাতে হবে’, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন জওয়ানদের মৃত্যুতে ইরানকে হুমকি ট্রাম্পের
-
সিকিমে ভয়াবহ ভূমিধসে অবরুদ্ধ নির্মীয়মাণ টানেল, উদ্ধার ১৬ শ্রমিক
-
ইউক্রেনের বন্দরে জাহাজে ভয়াবহ হামলা! মৃত ৪ ভারতীয়, কড়া নিন্দা নয়াদিল্লির
-
প্রতিশ্রুতি মতো ৫০০ টাকা করে বাড়ল বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা, আগস্ট থেকেই কার্যকর
