Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৪ জুন ২০২৬
High Court

সঙ্গীর সম্মতি ছাড়া যৌন মিলন কি ‘ধর্ষণ’? হাই কোর্টের রায় ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

এ বিষয়ে নানা মুনির নানা মত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫, ১৭:১৩

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৫, ১৭:১৩

options
link
সঙ্গীর সম্মতি ছাড়া যৌন মিলন কি ‘ধর্ষণ’? হাই কোর্টের রায় ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক zoom

সঙ্গী বা স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই যৌন মিলন কি ধর্ষণ? তা কি শাস্তিযোগ্য? এ বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। সম্প্রতি ছত্তিশগড় হাই কোর্টের একটি রায় ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

যৌনতা অবশ্যই ব্যক্তিগত। এ-বিষয়ে প্রতিটি ব্যক্তিমানুষ কী ভাবছে, তা পরস্পরের থেকে পৃথক হওয়াই স্বাভাবিক। তার উপর সময়ের সঙ্গে-সঙ্গে যৌনতার সংজ্ঞা ও সে বিষয়ে মানুষের ধ্যানধারণাও অনেক পালটে গিয়েছে। আগে তুমুল ‘নিন্দিত’ ও ‘নিষিদ্ধ’ হলেও সমকামিতা, তৃতীয় লিঙ্গর গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে সমাজে। যদিও এখনও অনেক পথ চলা বাকি।

Advertisement

এরই মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে আইনের চৌহদ্দিতে। সঙ্গী বা স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই যৌন মিলন কি ‘ধর্ষণ’? তা কি ‘শাস্তিযোগ্য’? এ বিষয়ে নানা মুনির নানা মত। সুপ্রিম কোর্টে এ নিয়ে শুনানি চলছে। তার মধ্যেই ছত্তিশগড় হাই কোর্ট জানিয়েছে, প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীর সঙ্গে সম্মতি ছাড়া যৌন মিলন যদি ‘অস্বাভাবিক’-ও হয়, তা ‘অপরাধ’ বলে বিবেচিত হবে না। যদিও স্ত্রীর মৃত্যুর পর নিম্ন আদালত অভিযুক্ত স্বামীকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে শাস্তি দিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, ওই মহিলার পায়ুদ্বারে সংক্রমণ এবং তলপেটেও সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তঁার। মৃত্যুর আগে ওই মহিলা অভিযোগ করেছিলেন, স্বামী তঁার সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনতা করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তকে। নিম্ন আদালত দোষী সাব্যস্তও করলেও মামলা হাই কোর্টে গড়ালে শুনানির পরে আদালত জানায়, যেহেতু বিবাহিত মহিলার বয়স ১৫ বছরের বেশি, তাই স্বামীর সঙ্গে যৌন মিলন বা অন্য কোনও ধরনের যৌনতাকে, ধর্ষণ বলা যায় না কোনওভাবেই। এই কারণে, এক্ষেত্রে, স্ত্রীর সম্মতি না-থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব হারাচ্ছে। তাই ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ও ৩৭৭ ধারায় অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের শাস্তির নিদান খারিজ করে স্বামীকে মুক্তি দেয়।

আইন অভিন্ন। কিন্তু বিশ্লেষণ ও প্রয়োগের ভিন্নতায় তা পৃথক মাত্রা পায়। কোনও দম্পতি চার দেওয়ালের অন্তরালে কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে লিপ্ত হচ্ছে, তা কীভাবে জানা যাবে? ওই দম্পতির বয়ান ও সাক্ষ্য শেষ কথা বলবে। সেটা যদি পরস্পরবিরোধী হয়, তার ফয়সালা কী করে হবে? সহবাসে সম্মতি ছিল, না কি ছিল না, সেটাই বা নিরূপণ হবে কীভাবে? আবার বিয়ে বা ‘লিভ ইন’ সম্পর্কে থাকলেই সঙ্গীর শরীরের উপর নিশ্চিতরূপে অধিকার জন্মে যায় না।

অর্থাৎ বিষয়টি যেমন জটিল, তেমনই আইনি ব্যাখ্যার অনেক ধূসর জায়গা, অস্পষ্টতা রয়েছে। এমনিতেই আমাদের দেশে আইনের ফাঁক গলে অপরাধীর মুক্তি পাওয়া খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। তার উপর যদি অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে বাদী-বিবাদী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের বিপদ। কখন কার ঘাড়ে শাস্তির খাঁড়া নেমে আসবে, বোঝা মুশকিল। তাই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হিসাবে সুপ্রিম কোর্টের অবিলম্বে এ-বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা দেওয়া উচিত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.