BREAKING NEWS

২৮ আষাঢ়  ১৪২৭  বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০ 

Advertisement

অক্সফোর্ডের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনই কি তাহলে COVID-19-এর কাঙ্ক্ষিত ওষুধ?

Published by: Bishakha Pal |    Posted: April 23, 2020 7:21 pm|    Updated: April 24, 2020 9:21 am

An Images

দেশের সংকটের দিনে কলম ধরলেন হীরালাল মজুমদার মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যাপক ঋত্বিক আচার্য

COVID-19-এর ত্রাস এখন বিশ্বজোড়া। ১০০টিরও বেশি দেশ আক্রান্ত। লকডাউনের আওতায় বিশ্বের ১/৩ অংশ। সারা পৃথিবীতে আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১লক্ষ ৮০হাজারের বেশি। সংক্রমণের মাত্রা ভয়ানক (R0-২.২-২.৬), এরকম পরিস্থিতিতে আজ থেকে শুরু হতে চলেছে ‘ChAdOx1 nCoV-19’ ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। যা SARS-CoV-2 এর অব্যর্থ প্রতিষেধক বলে দাবি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইনস্টিটিউটের গবেষকদের।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনার ইনস্টিটিউটের গবেষকরা একটি ইতালিয়ান প্রস্তুতকারী সংস্থা Advent Srl-এর সঙ্গে একত্রে কাজ শুরু করেছে ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই। ভ্যাকসিনটির উপযোগিতা পরীক্ষা করার জন্য ১৮-৫৫ বছর বয়সের ৫১০ জন স্বেচ্ছাসেবককে নির্বাচিত করা হয়েছে। এদেরকে ৫টি গোষ্ঠীতে ভাগ করে শুরু হবে ইনজেকশন দেওয়া। এটি একটি ইন্ট্রা-মাস্কুলার ইনজেকশন, Control এবং ChAdOx1 nCoV-19 ইনজেকশন দিয়ে এর তুলনামূলক প্রভাব পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও NIHR WTCRF, University Hospital Southampton NHS Foundation Trust, Imperial College Healthcare NHS Trust এবং John Radcliffe Hospital in Oxford-এ চলছে এই কাজ। মার্চের শেষ সপ্তাহে ব্রিটেন সরকার এই গবেষণার জন্য ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড ধার্য করে।

 

ChAdOx1 nCoV-19 আদতে একটি attenuated adeno ভাইরাস। এটিকে জৈবপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানবদেহে বংশবিস্তারে অক্ষম করা হয়েছে এবং এর জেনেটিক কোডে পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে এটি SARS-CoV-2-এর স্পাইক প্রোটিনটি ভ্যাকসিনেশনের পরে গড়ে তুলতে পারে নিজের আবরণীতে। এর ফলে মানুষের দেহে তৈরি হবে এই স্পাইক প্রোটিন বিরোধী এন্টিবডি। যার ফলে মানুষের মধ্যে কমবে COVID-19 সংক্রমণের প্রবণতা।

[ আরও পড়ুন: আতঙ্কের অপর নাম করোনা ভাইরাস, এর শেষ কোথায়? ]

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব Matt Hancock একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান যে, এই ভ্যাকসিনের অন্তিম ক্লিনিকাল ট্রায়াল শুরু হবে আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকে। তিনি আরও জানান যে ব্রিটেন সরকার, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড এবং Imperial College of London কে ২২.৫ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থ প্রদান করবে এই ভ্যাকসিন তৈরি করার জন্য।

WHO’র তালিকাতে এই মুহূর্তে রয়েছে অন্তত ৭০টি প্রার্থী ভ্যাকসিন। যার মধ্যে ৪টি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল স্তরে চলে এসেছে। এদের মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাদে রয়েছে CanSino Biological Inc. ও The Beijing Institute of Biotechnology; Inovio Pharmaceuticals Inc.; এবং Moderna Inc. সঙ্গে The National Institute of Allergy and Infectious Diseases। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণার প্রধান, অধ্যাপিকা Sarah Gilbert-এর মতে তাঁদের ভ্যাকসিন বাকি প্রার্থী ভ্যাকসিনগুলির তুলনায় এগিয়ে অনেকটাই। কারণ প্রথমত তাঁরা ChAdOx1-কে MERS-CoV-এর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সাফল্য পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত এটি একটি এন্টিবডি উৎপাদনকারী ভ্যাকসিন যেখানে অন্য ভ্যাকসিনগুলি মুখ্যত DNA অথবা RNA ধ্বংসকারী। তৃতীয়ত এই ভ্যাকসিনের শুধুমাত্র একটি ডোজই যথেষ্ট, অন্য ভ্যাক্সিনগুলির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ডোজ অন্তত দুই অথবা তিন। চতুর্থত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল অন্যান্য প্রার্থী ভ্যাকসিনগুলির ক্লিনিকাল ট্রায়াল শেষ হতে লাগতে পারে ১২-১৮ মাস যা এই মারণ ভাইরাসের ক্ষেত্রে সুদীর্ঘ সময়। সেক্ষেত্রে অধ্যাপিকা Gilbert-এর মতে তাঁরা এই বছরের আগামী ৫ মাসের মধ্যেই এই ভ্যাকসিন বাজারে আনতে সক্ষম।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর এক অধ্যাপক Adrian Hill-এর দেওয়া তথ্য থেকে পরিষ্কার হয় এই ভ্যাকসিনের বিষয়ে তাঁদের আত্মবিশ্বাস। অধ্যাপক Hill জানিয়েছেন যে ক্লিনিকাল ট্রায়াল অতিক্রম করার আগেই সারা বিশ্বে ৭টি আর গবেষণাগারকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাঁদের কাজ, যার মধ্যে ৩টি ব্রিটেনে, ২টি ইউরোপে, ১টি ভারত এবং ১টি চিনে অবস্থিত। অধ্যাপিকা Gilbert জানিয়েছেন যে এই বছর সেপ্টেম্বর মাসে তাঁরা বিশ্বকে উপহার দিতে চলেছেন ১০ লক্ষ ‘ChAdOx1 nCoV-19’ COVID-19 প্রতিরোধী ভ্যাকসিন। ICMR-ও এই ভ্যাকসিনটির ব্যাপারে যথেষ্ট আস্থাশীল। অতএব বিজ্ঞানীদের হার না মানা মনোভাবে আরও একবার বিজ্ঞানের জয় সুনিশ্চিত।

[ আরও পড়ুন: SARS ও MERS-এর চিকিৎসা পদ্ধতিতেই কি মিলবে ঘাতক COVID-19 থেকে মুক্তি? ]

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement

Advertisement