Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৯ আগস্ট ২০২৬
Kuamrtuli

মাটির আকালে হাতবন্ধ কুমোরটুলির, বিপন্ন দুর্গোৎসব ও বঙ্গসংস্কৃতি

খেয়ালখুশি ও সুবিধামতো গঙ্গার তীরে যেখান-সেখান থেকে মাটি কেটে দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরির জন্য কুমারটুলিতে বিক্রি করা যায় না। কিন্তু ‘মা মাটি মানুষ’-এর দলের দুষ্কৃতীরা নাকি এত দিন সেই কাজটাই করত।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৪:০৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ১৪:০৮

options
link
মাটির আকালে হাতবন্ধ কুমোরটুলির, বিপন্ন দুর্গোৎসব ও বঙ্গসংস্কৃতি zoom
মাটির অভাবে কাজ বন্ধ কুমোরটুলির।
Advertisement

প্রতিমা তৈরিতে এঁটেল মাটি অপরিহার্য। জোগান বন্ধে বিপর্যস্ত কুমারটুলির দুশো মৃৎশিল্পী পরিবার। ততোধিক বিপন্ন দুর্গোৎসব ও বঙ্গসংস্কৃতি।

এঁটেল মাটি বঙ্গে বাড়ন্ত– এই মুর্হূতের জরুরি খবর। কেননা, এঁটেল মাটিই দুর্গাপ্রতিমা তৈরির মূল উপাদান। অন্য বছর মার্চ মাস থেকে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়ে যায়। কিন্তু এই বছর জুন মাসেও কুমারটুলিতে তেমন ব্যস্ততা নেই।

Advertisement

দুর্গামূর্তি বানাতে এঁটেল মাটির বিকল্প নেই। এই মাটি থেকেই কাদার সেই চটচটে তাল তৈরি করা সম্ভব, যা চট করে শুকিয়ে যায় না, এবং যে-মাটি নিয়ে সহজে মৃৎশিল্পীরা প্রতিমা তৈরি করতে পারেন। একমাত্র গঙ্গার ধারেই চটচটে এঁটেল মাটি পাওয়া যায়। মার্চ মাসের মধ্যেই এঁটেল মাটির জোগান কুমারটুলিতে চলে আসতে থাকে মূলত ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, রায়চক, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার গঙ্গাতীরবর্তী অঞ্চল থেকে। কিন্তু এ-বছর কুমারটুলিতে মাটির সরবরাহ বিঘ্নিত। বিঘ্নের কারণ, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ফলে এঁটেল মাটির বেআইনি সাপ্লাই বন্ধ। খেয়ালখুশি ও সুবিধামতো গঙ্গার তীরে যেখান-সেখান থেকে মাটি কেটে দুর্গাপুজোর প্রতিমা তৈরির জন্য কুমারটুলিতে বিক্রি করা যায় না। কিন্তু ‘মা মাটি মানুষ’-এর দলের দুষ্কৃতীরা নাকি এত দিন সেই কাজটাই করত। তারা গঙ্গাতীরবর্তী যে কোনও জায়গা থেকে মাটি কেটে নিয়ে এসে মৃৎশিল্পীদের বিক্রি করত ৫০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এইভাবে গঙ্গাতীরের মাটি যত্রতত্র থেকে তুললে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নদী, দু’-ধারে নামতে পারে ধস। আখেরে ক্ষতি মানুষের।

পুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রমাদ গুনছে প্রায় দুশোর কাছাকাছি কুমোর পরিবার। এবং ছশোর কাছাকাছি স্টুডিও, যেখানে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা জুন মাস হয়ে ওঠে চোখে পড়ার মতো।

নদী-বিশেষজ্ঞরা নদীর ভাঙন ও ধস বন্ধ করতে গঙ্গার ধারে মাটি কাটার উপর নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ম জারি করেছিলেন। কিন্তু সেই নিয়ম মানেনি প্রাক্তন শাসক দল। ফলে গঙ্গাতীরের মাটি চুরি চলতে থাকে। কুমারটুলিতেও বেআইনি এঁটেল মাটি সরবরাহ অক্লেশে চলেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার এসেই নদীতীরের মাটি যথেচ্ছ কাটা রুখতে বদ্ধপরিকর। ফলে, এঁটেল মাটির বেআইনি কারবার ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। কুমোরপাড়ায় দুর্গাপ্রতিমা তৈরির কাজও বিপর্যস্ত। পুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রমাদ গুনছে প্রায় দুশোর কাছাকাছি কুমোর পরিবার। এবং ছশোর কাছাকাছি স্টুডিও, যেখানে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা জুন মাস হয়ে ওঠে চোখে পড়ার মতো। এ-বছর সেসব স্টুডিও ঝিমিয়ে।

সুরাহা আসবে কোন পথে? প্রতিমা তৈরির কাজ তো সহজ কাজ নয়। এঁটেল মাটি ছাড়া সম্ভব নয়। একদিকে কুমারটুলিতে বিপর্যস্ত বহু পরিবারের অন্ন-প্রাণ। বাঙালির দুর্গোৎসবই তো বঙ্গসংস্কৃতির এবং ক্লাব-কৃষ্টির জিয়নকাঠি। অন্যদিকে গঙ্গাভাঙন, ধস, এবং সমবেত ক্ষয় ও ক্ষতি। কাকে রেখে কাকে ফেলবে? দুর্গাপ্রতিমা গড়ার সূক্ষ্মতা ও সেই মর্মে এঁটেল মাটির অনিবার্য প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে কুমারটুলির শিল্পীদের মনে কি এই প্রশ্ন কখনও জাগেনি, চার সন্তানের মা যেখানে অসুর বধ করছেন, সেখানে তাঁর সন্তানেরা এত নিস্পৃহ কেন? যেন কিছুই ঘটছে না! এই প্রশ্নও কি তঁাদের সূক্ষ্ম সৃজনে কখনও উঁকি মারেনি, তঁারা দুর্গা ও পার্বতীকে গুলিয়ে ফেলেননি তো?

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.