Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ৬ জুন ২০২৬
Politics of hatred

বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’! দেশে বিদ্বেষের রাজনীতি চরমে

বাংলা বলার ‘অপরাধ’-এ গণপিটুনিতে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন রাজে‌্য যাদের মৃতু‌্য হয়েছে তারা সকলেই এই রাজে‌্যর নানা জেলার বাসিন্দা।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:৩৭

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৭, ২০২৬, ১১:৩৭

options
link
বাংলায় কথা বললেই ‘বাংলাদেশি’! দেশে বিদ্বেষের রাজনীতি চরমে zoom

ভিনরাজে‌্য বাংলাভাষী শ্রমিকদের মৃতু‌্য এখন দৈনন্দিন ঘটনার বিষয় হয়ে উঠেছে। প্রধানত বিজেপিশাসিত রাজ‌্যগুলিতে এই ঘটনা ঘটছে। কিছুটা চমকে দিয়ে এমন ঘটনা ঘটে গেল পড়শি রাজ‌্য ঝাড়খণ্ডেও, যেটি বিজেপিশাসিত নয়। যদিও সেখানে এই ঘটনার সঙ্গে যারা লিপ্ত তারা প্রত্যেকে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ বলেই অভিযোগ উঠেছে। অাসলে দেশে বিদ্বেষের রাজনীতি চরম জায়গায় পৌঁছতে চলেছে, এটা তারই প্রতিফলন।

দুর্ভাগ‌্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে তার প্রধান শিকার বাংলাভাষীদের একাংশ। সমাজে বিদ্বেষ ছড়াতে সবসময় নিশানা করা হয় প্রান্তিক অংশের মানুষকে। তাই দেখা যাচ্ছে দেশজুড়ে যে বাংলাভাষীদের উপর অাক্রমণ হানা হচ্ছে তারা একাধারে সংখ‌্যালঘু সম্প্রদায়ের এবং পরিযায়ী শ্রমিক। তারা কাজের সন্ধানে বাংলা থেকে অন‌্যান‌্য রাজে‌্য পাড়ি দিয়েছিল। বাংলায় কথা বললেই যে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ বলে সন্দেহ করা হবে, এটা দেশে একসময় অভাবিত ছিল। কিন্তু সেটাই এখন বাস্তব হয়ে দঁাড়িয়েছে।

Advertisement

বাংলা বলার ‘অপরাধ’-এ গণপিটুনিতে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন রাজে‌্য যাদের মৃতু‌্য হয়েছে তারা সকলেই এই রাজে‌্যর নানা জেলার বাসিন্দা। তাদের গায়ে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-র তকমা সঁাটিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে যে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ‌্য কাজ করে তা নিয়ে সংশয় নেই।

যেসব সংখ‌্যালঘু সম্প্রদায়ের বাংলাভাষী নানা রাজে‌্য কাজ করে, তাদের সিংহভাগ বাংলাদেশি, এমন তথ‌্য কোথাও নেই। বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশের সমস‌্যাটি অস্বীকার না-করেও বলা যায়, যারা বিদ্বেষের শিকার, তাদের মধে‌্য কোনও বাংলাদেশি নাগরিকের সন্ধান এখনও পর্যন্ত মেলেনি। বাংলা বলার ‘অপরাধ’-এ গণপিটুনিতে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন রাজে‌্য যাদের মৃতু‌্য হয়েছে তারা সকলেই এই রাজে‌্যর নানা জেলার বাসিন্দা। তাদের গায়ে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’-র তকমা সঁাটিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে যে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ‌্য কাজ করে তা নিয়ে সংশয় নেই।

যারা এই কাজ করছে বা এতে মদত জোগাচ্ছে, তাদের উদ্দেশ‌্য, দেশের মানুষের মধে‌্য ধর্মের ভিত্তিতে মেরুকরণ। দেশে যে অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিদ‌্যমান, কর্মসংস্থানের যে অভাব, তার থেকে নজর ঘুরিয়ে দিতেই এই অপচেষ্টা। মেরুকরণ অনেক সময় কোনও কোনও রাজনৈতিক দলকে ভোটে ফায়দা দেয়। সেই ফায়দা তোলার একটা চেষ্টাও এক্ষেত্রে থাকতে পারে। কিন্তু বিদ্বেষের রাজনীতিকে এইভাবে উসকে দেওয়ার পরিণতি যে একময় ভয়ংকর হয়ে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পরপর বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকের খুনের প্রতিক্রিয়া বাংলায় এসে পড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কখনও কখনও অশান্ত হয়ে উঠছে। কেন্দ্রের শাসক দলের উচিত সতর্ক হওয়া। বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনা ঘটলে যদি বিজেপিশাসিত রাজে‌্য প্রশাসন দোষীদের ধরার ক্ষেত্রে শৈথিল‌্য দেখায় তা হলে আরও স্পষ্ট হয়ে যে বিদ্বেষ ছড়ানো কাদের লক্ষ‌্য। ঝাড়খণ্ডের ক্ষেত্রে অবশ‌্য সেখানকার রাজ‌্য সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের শাসিত সরকারগুলির ক্ষেত্রেও বিজেপিকে এই মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। না হলে ঘটনা এভাবে ঘটেই চলবে। এক সময় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.